নয়নকক্সনিউজ ডট কম
এলাকায় আয়োডিনযুক্ত লবণ খায় না ৯৫ শতাংশ লোক। ফলে এই এলাকার মানুষের মধ্যে গলগ- রোগের প্রকোপ বেশি। তবে কক্সবাজারের মানুষ সামুদ্রিক মাছ খাওয়ায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করেন না,কারণ সামুদ্রিক মাছে প্রচুর আয়োডিন রয়েছে।অন্যদিকে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৩ শতাংশই আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) আয়োজিত ইউনিসেফের অর্থসহায়তায় শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি সরজমিনে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে লবণের মোট চাহিদা ১৩ লাখ ৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য লবণ। বাকিটা ব্যবহৃত হয় শিল্প উৎপাদনে। পর্যটন সমৃদ্ধ কক্সবাজার জেলায় উৎপাদিত লবণ দেশের মোট চাহিদার ৯৫ ভাগ পূরণ করে। বাকি ৫ ভাগ উৎপাদিত হয় চট্টগ্রামের বাশখালীতে। তবে সমুদ্রের পানি থেকে সৌর পদ্ধতিতে লবণ উৎপন্ন হয় একমাত্র কক্সবাজারেই।
কক্সবাজারে লবণচাষী ও ভোক্তাদের মধ্যে আয়োডিন সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে আয়োডিন ঘাটতি দূর করতে ‘কন্ট্রোল অব আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি ডিজঅর্ডার’ (সিআইডিডি) নামে ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় একটি প্রকল্প আছে। ১৯৮৯ সালে এ প্রকল্প শুরু হয়। ৫ বছর পর পর প্রকল্প নবায়ন করা হয়। এই প্রকল্পের মনিটরিং ও মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এস এম এরফানুল হক জানান, আয়োডিনের অভাবে মানুষের গলগ- রোগ হয়। এছাড়া মানসিক বিকাশও ঠিকমতো হয় না। শরীরে আয়োডিনের এই চাহিদা পূরণ করতে হয় আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার মাধ্যমে।
তিনি জানান, আয়োডিন দেখতে সাদা চিনির মতো। এই খনিজ পদার্থটি প্রক্রিয়াজাত করে পটাশিয়াম আয়োডাইড হিসেবে লবণে মেশানো হয়। ১ কেজি লবণে আয়োডিন মেশাতে হয় ৯০ গ্রাম। এই পরিমাণ আয়োডিনের মূল্য মাত্র ২৯ পয়সা। এটি মেশাতে ‘সল্ট আয়োডাইজেশন প্লান্টে’ (এসআইপি)। কক্সবাজার জেলায় এসআইপি আছে ৪০টি। একটি মিলে মাসে ২০০ মেট্রিক টন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপন্ন হয়। অনেক মিল মালিকের মধ্যেই এ ব্যাপারে সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে জানান এরফানুল ইসলাম।
পরোক্ষে এই অভিযোগ স্বীকার করে নিলেন কক্সবাজারের মেসার্স মদিনা সল্ট রিফাইনারি লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী অসিউর রহমান। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিজের মিলে লবণে পরিমাণ মতোই আয়োডিন মেশাই। তবে আয়োডিনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক মিল মালিক লবণে আয়োডিন মেশাতে আগ্রহী হন না। তিনি জানান, বিসিকের মাধ্যমে ইউনিসেফই লবণ মিল মালিকদের এসআইপি দিয়েছে। প্রথম দিকে তারা বিনামূল্যে আয়োডিনও দিতো। পরবর্তীতে দাম নিতে থাকে। অসিউর রহমান অভিযোগ করেন, ২-৩ বছর আগেও ১০ কেজি আয়োডিনের দাম ছিল ৯ হাজার ৩০০ টাকা। আর এখন বিসিক একই পরিমাণ আয়োডিন বিক্রি করছে ২৯-৩০ হাজার টাকায়।
তবে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন কক্সবাজার শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানান, কক্সবাজার শিল্প সহায়ক কেন্দ্র মিলারদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। আর তারা ঠিকমতো আয়োডিন মেশাচ্ছেন কিনা তাও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হয়। তিনি জানান, কক্সবাজারের অধিকাংশ লোকজনই সচেতনতার অভাবে চাষ পর্যায়ে মাঠের লবণ খেয়ে থাকেনÑ যেখানে লবণে আয়োডিন মেশানোর কোনো সুযোগই নেই। তার মতে, প্যাকেটজাত লবণ আয়োডিনযুক্ত। আবার নকল ব্র্যান্ডের প্যাকেটে আয়োডিন নেই। আর খোলা লবণে একেবারেই আয়োডিন থাকে না।
ইউনিসেফের এক জরিপের বরাত দিয়ে এস এম এরফানুল হক জানান, কক্সবাজার জেলার ৫২ শতাংশ লোক আয়োডিনযুক্ত লবণ খায় না। আর লবণ চাষ এলাকায় এই হার ৯৫ শতাংশ। এর ফলে গলগ- রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও ওই এলাকার লোকজন মানসিক বিকাশ বিঘিœত হচ্ছে। তিনি জানান, যে কোনো মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কক্সবাজারের অধিবাসীরা পিছিয়ে আছেন। এর জন্য আয়োডিন ঘাটতি অনেকটাই দায়ী।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) আয়োজিত ইউনিসেফের অর্থসহায়তায় শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি সরজমিনে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে লবণের মোট চাহিদা ১৩ লাখ ৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য লবণ। বাকিটা ব্যবহৃত হয় শিল্প উৎপাদনে। পর্যটন সমৃদ্ধ কক্সবাজার জেলায় উৎপাদিত লবণ দেশের মোট চাহিদার ৯৫ ভাগ পূরণ করে। বাকি ৫ ভাগ উৎপাদিত হয় চট্টগ্রামের বাশখালীতে। তবে সমুদ্রের পানি থেকে সৌর পদ্ধতিতে লবণ উৎপন্ন হয় একমাত্র কক্সবাজারেই।
কক্সবাজারে লবণচাষী ও ভোক্তাদের মধ্যে আয়োডিন সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে আয়োডিন ঘাটতি দূর করতে ‘কন্ট্রোল অব আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি ডিজঅর্ডার’ (সিআইডিডি) নামে ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় একটি প্রকল্প আছে। ১৯৮৯ সালে এ প্রকল্প শুরু হয়। ৫ বছর পর পর প্রকল্প নবায়ন করা হয়। এই প্রকল্পের মনিটরিং ও মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এস এম এরফানুল হক জানান, আয়োডিনের অভাবে মানুষের গলগ- রোগ হয়। এছাড়া মানসিক বিকাশও ঠিকমতো হয় না। শরীরে আয়োডিনের এই চাহিদা পূরণ করতে হয় আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার মাধ্যমে।
তিনি জানান, আয়োডিন দেখতে সাদা চিনির মতো। এই খনিজ পদার্থটি প্রক্রিয়াজাত করে পটাশিয়াম আয়োডাইড হিসেবে লবণে মেশানো হয়। ১ কেজি লবণে আয়োডিন মেশাতে হয় ৯০ গ্রাম। এই পরিমাণ আয়োডিনের মূল্য মাত্র ২৯ পয়সা। এটি মেশাতে ‘সল্ট আয়োডাইজেশন প্লান্টে’ (এসআইপি)। কক্সবাজার জেলায় এসআইপি আছে ৪০টি। একটি মিলে মাসে ২০০ মেট্রিক টন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপন্ন হয়। অনেক মিল মালিকের মধ্যেই এ ব্যাপারে সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে জানান এরফানুল ইসলাম।
পরোক্ষে এই অভিযোগ স্বীকার করে নিলেন কক্সবাজারের মেসার্স মদিনা সল্ট রিফাইনারি লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী অসিউর রহমান। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিজের মিলে লবণে পরিমাণ মতোই আয়োডিন মেশাই। তবে আয়োডিনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক মিল মালিক লবণে আয়োডিন মেশাতে আগ্রহী হন না। তিনি জানান, বিসিকের মাধ্যমে ইউনিসেফই লবণ মিল মালিকদের এসআইপি দিয়েছে। প্রথম দিকে তারা বিনামূল্যে আয়োডিনও দিতো। পরবর্তীতে দাম নিতে থাকে। অসিউর রহমান অভিযোগ করেন, ২-৩ বছর আগেও ১০ কেজি আয়োডিনের দাম ছিল ৯ হাজার ৩০০ টাকা। আর এখন বিসিক একই পরিমাণ আয়োডিন বিক্রি করছে ২৯-৩০ হাজার টাকায়।
তবে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন কক্সবাজার শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানান, কক্সবাজার শিল্প সহায়ক কেন্দ্র মিলারদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। আর তারা ঠিকমতো আয়োডিন মেশাচ্ছেন কিনা তাও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হয়। তিনি জানান, কক্সবাজারের অধিকাংশ লোকজনই সচেতনতার অভাবে চাষ পর্যায়ে মাঠের লবণ খেয়ে থাকেনÑ যেখানে লবণে আয়োডিন মেশানোর কোনো সুযোগই নেই। তার মতে, প্যাকেটজাত লবণ আয়োডিনযুক্ত। আবার নকল ব্র্যান্ডের প্যাকেটে আয়োডিন নেই। আর খোলা লবণে একেবারেই আয়োডিন থাকে না।
ইউনিসেফের এক জরিপের বরাত দিয়ে এস এম এরফানুল হক জানান, কক্সবাজার জেলার ৫২ শতাংশ লোক আয়োডিনযুক্ত লবণ খায় না। আর লবণ চাষ এলাকায় এই হার ৯৫ শতাংশ। এর ফলে গলগ- রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও ওই এলাকার লোকজন মানসিক বিকাশ বিঘিœত হচ্ছে। তিনি জানান, যে কোনো মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কক্সবাজারের অধিবাসীরা পিছিয়ে আছেন। এর জন্য আয়োডিন ঘাটতি অনেকটাই দায়ী।

0 Comments