Advertisement

কক্সবাজারে প্রবল বর্ষণে ফের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জেলার প্রধান-প্রধান নদী




নয়ন কক্স নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারে সম্প্রতি প্রবল বর্ষণ পাহাড়ি ঢল ও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ভয়াবহ বন্যায় প্রত্যন্ত এলাকা ডুবে গিয়ে ১১জন নিহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাগ কেটে না উঠতেই মাহে রমজানের শুরুতে ফের ভারী বর্ষণে পুরো জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে আবারো পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে কক্সবাজার সদরের বাঁকখালী, চকরিয়ার মাতামুহুরী, টেকনাফের নাফ নদী ও ঈদগাঁওয়ের রেজুখাল এবং পেকুয়ার ডলু খালের পানি। গতবারের বন্যায় সরকারী-বেসরকারীভাবে অপ্রতুল ত্রাণ সহযোগীতা নিয়ে দূর্গতদের অসহায়ত্বে এগিয়ে যাওয়া হলেও পবিত্র রমজানের এ বন্যায় দেখা দিয়েছে কবলিত মানুষের মাঝে সামগ্রীক সংকটসহ নিরব দূর্ভিক্ষ। ফলে ভয়াবহ বন্যার দাগ কেটে উঠতে পারছেনা দূর্গতবাসী। সরেজমিন জানা যায়, সদর উপজেলা, রামু, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ, উখিয়া, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়া, উপকূলীয় জনপদ মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়া সহ জেলার বিশেষ-বিশেষ নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়ে চিংড়িঘের, বেড়িবাঁধ, মালিকানাধীন মৎস প্রকল্প, জমির রোপিত বীজতলা, মৌসুমী ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। গোটা জেলায় অব্যাহত বর্ষণে সাধারণ মানুষের কর্ম তৎপরতাও স্থিমিত হয়ে পড়েছে। জীবিকার তাড়নায় কিছু কিছু মানুষ বের হওয়ার সুযোগ-সুবিধা পেলেও প্রায় কর্মজীবি মানুষ বৃষ্টির কারণে খোশ-গল্পে বেকার সময় পার করে চলছে দোকান-ঘরে বসে। কোথাও এক মূহুর্তের জন্যও বের হওয়া যাচ্ছেনা। তারপরও জীবন চলার তাগিদে নিরব-নির্বিঘেœ ছুটে চলছে গন্তব্যপানে এসব মানুষ। দেখা গেছে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও বেড়েছে নানা দূর্ভোগ। তাছাড়া টানা বৃষ্টি হওয়াতে বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। চলছে এসব পণ্যের দামেরও জোয়ার-ভাটা। এদিকে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শরীফ উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান, বিরতিহীন বৃষ্টিপাত ও ঢলের পানিতে ইউনিয়নের খিলছাদক, হাছিমারকাটা, সোয়ালিয়াকাটা, মধ্যম কৈয়ারবিলসহ বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আভ্যন্তরীণ প্রধান সড়কে পানি ছুঁই ছুঁই। তিনি মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পুরো ইউনিয়নটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে যে কোন সময় বাড়িঘর তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিরও আশংকা প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে কোনাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার জানান, তার ইউনিয়নের পশ্চিম, দক্ষিণ, পূর্ব কোনাখালী, সিকদারপাড়া, কুমিরখালী ও বাংলাবাজার আবারো ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে। ফসলী জমি ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মোঃ বাবর জানান, হারবাং ইউনিয়নের বাজার এলাকা, হিন্দুপাড়া, রাখাইনপাড়া, পহরচাঁদাপাড়া, আলীপূর, জমিদারপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। এসব এলাকার প্রায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ চৌধুরী জানান, ভারী বর্ষণের বন্যার তোড়ে আরকান মহাসড়কের সাথে নাইক্ষ্যংছড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসময় নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু উপজেলার কিছু কিছু এলাকার সড়ক ২/৩ ফুট পানিতে তলিয়ে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments