ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকির আশঙ্কা রয়েছে এমন ২৫টি বিদেশী চ্যানেল শনাক্ত করেছে দেশটির সরকার। বিপজ্জনক এসব চ্যানেল বন্ধে কঠোর আইন করতে যাচ্ছে দেশটি। শনাক্ত করা ওইসব চ্যানেলের বেশির ভাগই পাকিস্তানি বলে জানানো হয়েছে। তবে তালিকা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশী চ্যানেলও। এ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিল ভারতের পার্লামেন্টে পেশ করা হয়েছে। ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এই বিষয়ে গত ২ আগস্ট একটি প্রতিবেদন ছাপানো হয়।
বিলটিতে বলা হয়েছে, এসব চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রচার করলে ক্যাবল অপারেটরদের ব্যাপক আর্থিক জরিমানাসহ কারাদণ্ডের বিধান থাকবে। বর্তমান আইনে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করাকে সামান্য জরিমানাসহ অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ হিসেবে মনে করা হয়। অথচ নতুন আইন অনুযায়ী এসব চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রচারকে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সি এম জাতুয়া এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব কথা জানিয়েছেন। অবৈধ এসব চ্যানেলের প্রচার বন্ধে ক্যাবল অ্যান্ড টেলিভিশন নেটওয়ার্ক অ্যাক্ট ১৯৯৫-কে সংশোধন করা হবে। সংশোধিত আইন আগের চেয়ে অনেক কঠোর করা হবে বলে জানান তৃণমূল কংগ্রেসের ওই মন্ত্রী।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই আইন কার্যকর করা হবে বলে জানান জাতুয়া। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ২৫টি চ্যানেল শনাক্ত করেছে। যেগুলোর অনুষ্ঠান ভারতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি।
চ্যানেলগুলোর মধ্যে ১৫টি হলো পাকিস্তানি। এগুলো হলো-কিউটিভি, মাদনিটিভি, অরি টিভি, পিটিভি, পিটিভি হোম, পিটিভি ওয়ার্ল্ড, জিওটিভি, ডন, এক্সপ্রেস, ওয়াকাত, নুরটিভি, হাদিটিভি, আয টিভি, ফিলম্যাক্স ও এসটিভি।
নিষিদ্ধ ঘোষিত অপর চ্যানেলগুলো হলো-দুবাই থেকে সম্প্রচারিত পিস টিভি, সৌদি টিভি, টিভি মালদ্বীপ, বাংলাদেশের এনটিভি ও এক্সওয়াইজেড টিভি, নেপালের নেপাল টিভি ও কান্তিপুর টিভি, বৃটেনভিত্তিক আহমেদিয়া টিভি ও ভুটানের ব্রডকাস্টিং সার্ভিস। টেলিগ্রাফের ওই প্রতিবেদনে এক্সওয়াইজেড টিভিকে বাংলাদেশের চ্যানেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । কিন্তু এই নামে বাংলাদেশে কোনো টিভি চ্যানেল নেই। অস্ট্রেলিয়াতে এই নামে একটি চ্যানেল রয়েছে।
আল জাজিরাকেও নিষিদ্ধের তালিকায় রাখা হয়েছে। অনেক আলাপ-আলোচনার পর গত ডিসেম্বরে আল জাজিরা সম্প্রচারের অনুমতি দিয়েছিল ভারত। আরবি ভাষার কোনো টিভি চ্যানেলের সম্পচারের অনুমতি নেই দেশটিতে।

0 Comments