টানা ৩দিনের বৃষ্টিতে মারাত্বক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরীখ্যাত কক্সবাজার শহরে। নেই ন্যূনতম ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে ময়লা আবর্জনা তো আছেই। চলাচলের জন্য নেই প্রশস্ত রাস্তাও। এছাড়াও ময়লা-আবর্জনা অপসারণেরও আধুনিক কোনো সযোগ-সুবিধা নেই। দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে এ অবস্থা চলছে। এতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কগুলো। ভারী বর্ষণের ফলে অনেক সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে প্রায় সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান এজন্য অবাধে পাহাড়কাটাকে দায়ী করেছেন। সূত্রমতে, সম্প্রতি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন খনন করলেও ভারী বর্ষণের পর তা বালিতে ভরে গেছে। পানি প্রবাহিত হচ্ছে রাস্তা দিয়ে। এতে সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। এ কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীসহ পর্যটকদের। সরজমিন দেখা গেছে, শহরের লালদিঘির পাড়, প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বার্মিজ মার্কেট, হলিডে মোড়, ডায়াবেটিক হাসপাতাল সড়ক, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, খানেকা মসজিদ সড়ক, ঝাউতলা, নুনিয়ারছড়া, টেকপাড়া, মাঝিরঘাট, ফিশারিঘাট, এন্ডারসন রোড, পানবাজার সড়ক, ফায়ার সার্ভিস রোড, স্বর্ণ মার্কেট এলাকা, বড় বাজার, পেশকার পাড়া, গোনার পাড়া, বৈদ্য ঘোনা, বদর মোকামসহ বিভিন্ন অলিগলির রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা লিটন বলেন, বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরীর রাস্তাঘাটের যদি এ অবস্থা হয় তাহলে বাকি এলাকাগুলোর কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। রাস্তায় বড় গর্তের কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে অনেক সময় লাগে। রিকশা ও ইজি বাইকগুলো অনেক বেশি ভাড়াও দাবি করে। আবার অনেক সময় বড় গাড়িগুলো বিকলও হয়ে যায়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। নগরীর যত্রতত্র এবং সমুদ্র সৈকতে দেখা গেছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। শহরের বিভিন্ন মোড়ে, রাস্তার ওপরে, জেলা প্রশাসকের উন্মুক্ত মঞ্চের পাশে আবর্জনার স্তূপ। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত মেয়র রাজ বিহারী দাশ বলেন, দেশ বিদেশের পর্যটকরা কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। এ কারণে এই এলাকায় একটু বেশি ময়লা আবর্জনার সৃষ্টি হয়। পৌরসভা এগুলো প্রতিনিয়ত পরিষ্কার করছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাসহ পর্যটকদের এ ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী জানান, অভিভাবকহীন পৌরসভার অবস্থা এ রকমই। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার পৌরসভায় নিয়মিত কোনো মেয়র নেই। চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। সম্প্রতি নির্বাচন হলেও নির্বাচিত মেয়রের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি। যদি নতুন মেয়রের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া হয় তাহলে হয়তো এসব সমস্যার সমাধান খুব তাড়াতাড়ি হতে পারে। উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিয়ে কষ্টে আছি। যত্রতত্র ভবন নির্মাণের কারণে অপরিকল্পিত শহরে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। অনেকে ড্রেনের ওপরও স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। আবার অসাধু ব্যক্তিদের পাহাড় কাটার কারণে পলি এসে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যায়। এ কারণে একটু বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসন, পৌরসভাসহ সবাই একসঙ্গে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে পরিবেশ অধিদপ্তরকেও। তারা পাহাড় কাটা বন্ধ করলে ড্রেনে আর পলি আসবে না। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রাজ বিহারী দাশ বলেন, ১৬টি ড্রেনের জন্য টেন্ডার দেয়া হয়েছে। এগুলোর কাজ চলমান। আশা করি কাজ সম্পন্ন হলে আর জলাবদ্ধতা হবে না। জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পাহাড় কাটার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বেশি। বিশেষ করে বড় বাজার থেকে বাকখালী এলাকায় পাহাড়ের পলি বেশি। সেই সঙ্গে বক্স কালভার্ট থেকে বাজার ঘাটা এলাকায় পাহাড়ের পলির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কুতুবদিয়া, মহেশখালী চকরিয়া থেকে উদ্বাস্তুরা এসে পাহাড় কেটে পাহাড়ের পাদদেশে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে। এতে বৃষ্টি হলে পাহাড়ের পলি আসে শহরের ড্রেনগুলোতে। পাহাড় কাটা বন্ধে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে উল্লেখ করে বিহারী দাশ আরো বলেন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পাহাড়ে অভিযান চালানের সময় পাহাড় কাটার লোকজন পালিয়ে যায়। অনেক সময় রাতেও তারা পাহাড় কাটে। আবার বৃষ্টির সময়ও পাহাড় কাটা হয়। কেননা রাতে ও বৃষ্টির সময় অভিযান চালানো হয় না। তবে সরকারি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো আরো দায়িত্ববান হলে পাহাড় কাটা রোধ করা যাবে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ জয়নুল বারী বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় বিষয়টি রয়েছে। কক্সবাজারের আগামী দিনের কথা বিবেচনা করে রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে। পর্যটক বাড়লে আবর্জনাও বাড়বে এটাও অপসারণের জন্য উন্নত ব্যবস্থা করতে হবে। |

0 Comments