Advertisement

কিংবদন্তি নেতা ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী আজীবন বেচে থাকবেন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর দেশের বর্ষীয়ান রাজনৈতিবিদ, সাবেক সংবদ ও রাষ্ট্রদুত আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর
 প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী ২৭আগষ্ট সারাদিন তাঁর সমাধিস্থলে অগনিত শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রয়াসে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মরহুমের কবর জিয়ারত করা হয়। ২৮আগষ্ট রামু মন্ডল পাড়া ওসমান ভবন ও স্বপ্নপুরী কমিউনিটি সেন্টারে তাঁর কণিষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংকের পরিচালক ও মহাজোট প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল পরিবারে পক্ষে খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল ও শোকসভার আয়োজন করেন। সভায় বক্তারা বলেন কিংবদন্তি ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর মানুষের মনে আজীবন বেচে থাকবেন। তারা আরো বলেন- তিঁনি জান্নাতবাসী হউক। মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন হাফেজ মৌলানা আব্দুল হক এবং ইফতার মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি মোর্শেদুল আলম। এতে তাঁর স্মৃতি চারন করেন- কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, জেলা আওয়ামীগ সভাপতি এড. একে আহাম্মদ হোছাইন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজিব, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, কক্সবাজার জেলার সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল কাদের ও নজিবুল ইসলাম, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিক মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ইউনুচ বাঙ্গালী, ভারুয়াখালীর চেয়ারম্যান ডাঃ আবুল কাশেম, ইসলাম পুরের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মাহাবুল আলম মুকুল, এড. রনজিৎ দাশ, সদর আওয়ামীলীগের সভাপতি এটি.এম রাজা মিয়া, পোকখালীর চেয়ারম্যান মৌলভী ফরিদ, ঈদগাঁও সদরের চেয়ারম্যান শাহজাহান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুসরাত জাহান মুন্নি, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আশেক উলাহ রফিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রহিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল, রামু থানার ওসি একে নজিবুল ইসলাম ও বিদায়ী ওসি গিয়াস উদ্দিন মিয়া, কক্সবাজার মহিলা কলেজের অধ্যাপক সরওয়ার আলম, শিক্ষাবিদ মোঃ নাছির, পিএম খালীর চেয়ারম্যান শহীদুলাহ বিক্রম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাফর আলম চৌধুরী, শামসুল আলম, হানিফ মিয়া মাষ্টার ও আবদুল গণি, ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবদুল মাবুদ, তৈয়ব উলাহ চৌধুরী, এমএম নুরুচ্ছফা, নুরুল আমিন কোম্পানী, আবদুল করিম, মুফিদুল আলম মুফিদ, স্বেচ্ছালীগ নেতা এডঃ মোজাফ্ফর আহাম্মদ হেলালী, তপন মলিক, ইউনুছ খাঁন, অধ্যক্ষ ওসমান সওয়ার আলম চৌধুরী স্মৃতি সংসদের সভাপতি আনছারুল হক ভুট্টু, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক খালেদ হোসেন টাপু, ওসমান সরওয়ার আলম মামুন, ছালাহ উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, ইব্রাহিম, আবু বক্কর, হাসান তারেক মুকিম, মোঃ আজিজ প্রমূখ। শোকসভায় সাইমুম সরওয়ার কমল সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আবেগআপুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। শোকসভা পরিচালনা করেন আরটিবির সাংবাদিক এস এম জাফর।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরা হলো ঃ

জন্ম. ১৮ অক্টোবর ১৯৩৭, মন্ডলপাড়া, রামু। মৃত্যু- ২৭ আগষ্ট ২০১০, সকাল ৬টা, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা পিতা. মালেকুজ্জামান সিকদার। ম্যাট্রিক ১৯৫৫, খিজারী হাইস্কুল, আইএ ১৯৫৭, চট্টগ্রাম নাইট কলেজ, বিএ ১৯৫৯, ঢাকা কলেজ। এমএ ১৯৬০, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৭-১৯৫৯ সালে ঢাকা কলেজ- সাময়িকী মাসিরেখা সম্পাদক। ১৯৬১-৬২ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের এজিএস। ১৯৬২-৬৩ সালে ডাকসুর সাহিত্য-সম্পাদক। ১৯৬২ সালে লাহোর ছাত্র-নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ-শিবির যোগ দেন। হামদুর রহমান শিক্ষা-কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন অংশগ্রহণ। ১৯৬৩ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসাবে অংশগ্রহণ। হানাদার বাহিনী কর্তৃক তাঁর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধ ও পুণর্বাসন  প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন। ১৯৬৮-৬৯ সালে কক্সবাজার কেন্দ্রিয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি। ১৯৬৯-৭০ সালে চট্টগ্রাম জেলার লবণ উৎপাদক সমিতির সভাপতি। কক্সবাজার মহকুমা রেফারি ও আম্পায়ার এসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি। ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে রামু- উখিয়া-টেকনাফ নির্বাচনী এলাকা হতে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত। বাংলাদেশ বন মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় উপদেষ্টা ছিলেন। রেডক্রস সমিতির সহ সভাপতি হিসেবে ১৯৭৮ সালে বার্মিজ শরণার্থীদের ত্রাণ-কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালের ভয়াবহ বন্যা-জলোচ্ছ্বাস ও গর্কিতে ত্রাণ ও পুণর্বাসন কার্যক্রমে স্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। বেশকয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি, লায়ন্স ক্লাবসহ অনেকগুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির সভাপতি ও উপদেষ্টা। কক্সবাজার মহিলা কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ ছিলেন। এছাড়া কক্সবাজর সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রামু কলেজ প্রতিষ্ঠায় অবদান প্রশংসনীয়। ১৯৯৭-২০০১ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। বিগত ২৭ আগষ্ট ২০১০ সকাল ৬টায় ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।

Post a Comment

0 Comments