Advertisement

কক্সবাজার সৈকতে ফটোগ্রাফারদের ব্যবসা বন্ধ :মানবেতর জীবন-যাপন

বিশেষ প্রতিবেদক : এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের সুবিধার্থে থাকা প্রায় সাড়ে ৫’শ ফটোগ্রাফারদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। অজ্ঞাত কারণে ফটোগ্রাফারদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে তাদের সৈকত থেকে তুলে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হঠাত করেই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ওসব ফটোগ্রাফারদের একমাত্র উপার্জনের ব্যবসাটি বন্ধ করে দেয়ায় বর্তমানে ফটোগ্রাফার ও স্টুডিও ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬’শ পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন-যাপন করছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। শুধু তাই নয় পুলিশ ওসব ব্যবসায়ীদের শেষ সম্বল ক্যামেরা গুলোও কেড়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে অসহায় ফটোগ্রাফাররা।
অভিযোগে প্রকাশ, দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে সৈকত পর্যটকদের সুবিধার্থে ছবি তুলে পরিবার চালিয়ে আসছে হতদরিদ্র ৫/৬’শ ফটোগ্রাফার। বিভিন্ন সময় পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা যাচাই করে নানা রকম অভিজ্ঞতা সনদও প্রদান করেছে। বর্তমানে সৈকতে ২৫৮টি ক্ষুদ্র স্টুডিও’র আওতায় সাড়ে ৫’শ ফটোগ্রাফার রয়েছে। তাদের অধিকাংশ বৈধ আবার কিছু ফটোগ্রাফার অবৈধ হলেও সকলই সী-বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটিকে যথাযত ভাবেই ফি দিয়ে আসছে। তারা আবার সরকার অনুমোদিত সমবায় সমিতিরও অন্তর্ভূক্ত। শত কিছুর পরেও সৈকতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হাতে কারণে-অকারণে অহরাণির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে পুলিশের কিছু বড় কর্তারা পর্যটকদের সেবা করতে তাদের প্রশিক্ষণ দেয় আবার ওই কর্মকর্তা বদলি হলে তার স্থানে আসা আরেক কর্তা তাদের উচ্ছেদ করে। সবকিছু মূখ বুঁঝে সহ্য করে এভাবেই সাগর পাড়ে বসবাসকারী বন্যায় আক্রান্তদের মতোই ওই ফটোগ্রাফাররা সৈকতের ব্যবসা করে স্বল্প আয় নিয়ে কোনমতে জীবন-যাপন করে আসছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই গত এক সপ্তাহ পূর্বে ট্যূরিষ্ট পুলিশের ওসি আসাদ করিম ফটোগ্রাফারদের ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। সকল ফটোগ্রাফারকে বীচ থেকে তুলে দেয়া হয়েছে এবং অনেকের কাছ থেকে তাদের একমাত্র সম্বল ক্যামেরাও কেড়ে নেয়া হয়েছে। কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই এক সপ্তাহ ধরে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ায় একেবারেই উপার্জন না থাকায় শত শত ফটোগ্রাফারের পাশাপাশি স্টুডিও মালিকরাও নিদারুণ অভাবের মাঝে পরিবার নিয়ে করুণ দিন যাপন করছে। 
কক্সবাজার লাবনী স্টুড়িও মালিক কল্যান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম রায় চৌধুরী জানান, অতর্কিত ভাবে কোন কারণ ছাড়া শত শত ফটোগ্রাফারদের সৈকত থেকে তুলে দেয়া ও তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়াটা সত্যিই অমানবিক। এভাবে ফটোগ্রাফাররা ব্যবসা করতে না পারলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে মারা যাবে। তিনি ফটোগ্রাফারদের ব্যবসা চালুর নির্দেশ দিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
বেশ ক’জন ফটোগ্রাফারদের সাথে আলাপকালে জানান, ২/১ দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। ওই দিনে কিছুটা ব্যবসা করতে না পারলে ঈদে একটা নতুন কাপড়তো দূরের কথা, অল্প সেমাই-চিনিও বৌ-বাচ্চাদের জন্য কেনা সম্ভব হবেনা বলে উল্লেখ করে গরীবের বন্ধু ও সৎ মানুষ হিসাবে সকলের কাছে পরিচিত কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নিকট তাদের ব্যবসা পূণরায় চালু করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের দায়িত্বে থাকা ট্যুরিষ্ট পুলিশের ওসি আসাদ করিমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এসপি স্যারের নির্দেশেই সৈকত থেকে ফটোগ্রাফারদের তুলে দেয়া হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিলে পূণরায় ব্যবসা চালু করা যাবে।

Post a Comment

0 Comments