মোঃ রেজাউল করিম,ঈদগাঁও:
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে প্রকাশ্য দিন দুপুরে উপুর্যপুরি কিল,ঘুষি ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে দিন মজুর যুবককে খুন করেছে সন্ত্রাসীরা। ২৩ আগষ্ট বিকেল ৩ টায় স্থানীয় বঙ্খিম বাজারে উঠতি সন্ত্রাসীরা এ নির্মমতা দেখায়। রাত পৌনে দেড়টার দিকে দিন মজুর যুবকটি মুত্যু বরণ করে। ভাড়াটিয়া
কলোনী থেকে ডাব পাড়া কে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ,ঈদগাঁও উত্তর মাইজ পাড়ার (খোনকারপাড়া) একটি ভাড়াটিয়া কলোনীতে ৭/৮ বছর যাবৎ স্বপরিবারে বসবাস করে আসছে মায়ানমার থেকে আগত দিন মজুর যুবক এবাদুল্লাহ (৩০)। কলোনীটির মালিক চৌফলদন্ডী নতুন মহালের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। তিনি কলোনী সংলগ্ন মৃত রাজার মিয়ার পুত্র মুদিও দোকানী মোহাম্মদ ফিরোজকে কলোটি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার কাজকর্ম সন্তোষজনক না হওয়ায় কলোনীর মালিক পরবর্তীতে কলোনীটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেন সেখানে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাসরত মায়ানমারের ঐ যুবকটি। এ নিয়ে ফিরোজ ভেতরে ভেতরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এদিকে ফিরোজ তার ভাইপো সেনাগীর ও প্রতিবেশী রশিদ আহমদের পুত্র কামাল উদ্দিনকে দিয়ে ২৩ আগষ্ট উক্ত কলোনীর গাছ থেকে ২৪ টি ডাব পাড়ায়। ঘটনাটি জানতে পেরে কলোনীটির দায়িত্ব প্রাপ্ত যুবক এবাদুল্লাহ মালিককে ঘটনাটি জানাবে বলে সংশ্লিষ্ট চোরদের অবহিত করে। এ নিয়ে ঐ চোরদ্বয় তার উপর হামলা করার জন্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্থানীয় ভোলাডাক্তারের বাড়ী সংলগ্ন স্থানে অবস্থান করতে থাকে। ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে এবাদুল্লাহ বঙ্খিম বাজারস্থ মুদির দোকানী ফেরদৌসকে বিষয়টি অবহিত করতে যায়। ইত্যবসরে ফিরোজ সহ ৫/৬ জন সন্ত্রাসী তাকে উপুর্যপুরি কিল,ঘুষি,লাথি ও নানা নির্যাতন করে সেখানে। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঈদগাঁও মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে নিজ বাড়ীতে ঐ যুবক শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। নিহত যুবক মায়ানমার ভূচিঢং উপজেলার চেরাসাং ইউনিয়নের মৃত মোহাম্মদ সোলতানের পুত্র। সে স্ত্রী নুর বেগম সহ চার ছেলে মেয়ে নিয়ে দীর্ঘ দিন এখানে দিন মজুরের কাজ করে আসছিল। ব্যক্তিগত জীবনে সে অত্যান্ত সদালাপী,কর্মঠ এবং সহযোগি মনোভাবের ছিল। খবর পেয়ে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ, এসআই মোহাম্মদ কবির হোসাইন, টু-আইসি আনোয়ারুল হক, এএসআই শরীফ উল্লাহ সহ পুলিশদল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশ বাড়ী থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। টু-আইসি কবির জানান,উপুর্যপুরি খিল,ঘুষিতে যুকটির কান ও মাথায় গুরুতর জখম হওয়ায় মৃত্যু বরণ করেন। হামলাকারীরা হচ্ছে মৃত রাজা মিয়ার পুত্র মোঃ ফেরদৌস,রশিদ আহমদের পুত্র কামাল উদ্দিন,আবদুল রহিম মিস্ত্রীর পুত্র সেনাগীর,কবির আহমদের পুত্র সিরাজুল হক ও আবদুল মোনাফের পুত্র মোহাম্মদ হোছাইন। তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ কবির হোসাইন জানান,হামলাকারীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

0 Comments