Part-27
বাংলা
মিজানুর রহমান সিকদার
রোদেলা দুপুর গভির নিপট নদির পাড়ে
রোদন শুনি অন্ধকারে
লাল সবুজের আচল জড়িয়ে মা
ঝরে পড়ে শিমুল বকুল নীল কুয়াশায়
ফাগুনের অপার সবুজ ক্ষেত্র জুড়ে
গোধুলির পাটে ফেরা চক্ষু মুদে মা
বিধূর বধূর শব্দ নুপুর আকাশ নীলে
পাতায় ফুলে পাখির কুজন
হরিনির চপল পায়ে শান্তি খুজে মা
বর্নমালায় শব্দ কথা সুরের সুবাস
রক্তলেখা ভাষার চিহ্ন হৃদয় জুড়ে
‘বাংলা’ ভাষার ভুমি চরন চুমি মা।
স্বপ্ন
শাহীন আকতার
স্বপ্ন দেখি সুন্দর পৃথিবীর
স্বপ্ন দেখি সুন্দর আগামীর।
তবু চলার পথে বাধা আসে বারবার
ভেঙে পড়ার ভয় নেই ব্যর্থ হবার।
গ্লানি চাইনা স্বপ্ন শুধু সফলতা
জীবন যুদ্ধক্ষেত্র জয়ের বারতা।
এগিয়ে যাই শিখেছি লড়াই হারবোনা
মানুষ হওয়ার পথে বাধা মানবোনা।
অমর একুশ
আহমদ ছৈয়দ ফরমান
আমরা সবাই বাঙালি তাই বাংলা ভাষার ভক্ত
ফেব্র“য়ারির একুশ তারিখ বিলিয়েছি রক্ত।
শিমুল পলাশ হাসনাহেনা সাক্ষ্য দিল যুক্ত
লক্ষ শিশুর প্রাণের আশা মায়ের স্নেহে সিক্ত।
একুশ তারিখ বুঝিয়ে দিলে
মুখের ভাষা কেড়ে নিলে
বীর বাঙালি বিলিয়ে দেবে বুকের তাজা রক্ত।
রংমহল
ফরিদ হাজারি
পাহাড়ের বুকভরা বনানীর শাড়ি শোভা
বগাইছড়ি হরিণমারায় পেঁচিয়ে কোমর
ডুলাহাজারায় বধূ সাজে এলে অপরূপা
ছলছল কুলুকুলু গানে গানে হাসে সরোবর।
তোমার রুদ্ররূপে উজানে স্রোতের গর্জন
দুইকুলে ভাঙাগড়া চলে অবিরাম
নায়ের নিলাম্বরে নিরজনে ডাকে আমরন
উছলে আদর অপার জীবনের ঘাম।
সিথানে মাতৃময়ী কলাবতী রঙের মহল
নাইওর নিতে আসে যুবতী বধূর মন
মাছরাঙা পানকৌড়ি ডুব দেয় অবিকল
নিসর্গ সজীবতায় এখানে সকলে স্বজন।
ফাগুন
জহির ইসলাম
ফাগুন এলে আগুন ঝরে
আগুন ঝরে গা’য়
যে আগুনে স্বপ্ন দেখে
সব শহিদের মা’য়।
ফাগুন এলে মা যে বলে
প্রভাতফেরি কই
দেখলে পরে অশ্রু ঝরে
আমার ছেলে অই।
তারপরে মা খুঁজতে থাকে
প্রভাতফেরির মাঝে
খুঁজতে থাকে তার ছেলেকে
ফুলের কারুকাজে।
শহিদ মিনার ঘুরে আসে
কষ্ট চেপে বুকে
অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে
হাজার ছেলের মুখে।
অমর একুশ
তাসমিন খানম
একুশ হল মায়ের হাসি খুশির অশ্রুজল
একুশ হল সাদা পায়রা দীঘির শতদল।
একুশ হল রক্ত ফাগুন কৃষ্ণচূড়া লাল হওয়া
একুশ হল বাংলা গানে শহীদ মিনার যাওয়া।
একুশ হল লাল সুবজে মায়ের অপার হাসি
একুশ হল সোনার বাংলা তোমায় ভালবাসি।
একুশ মানে
বুলবুল আকতার
একুশ মানে নয়কো খুশি নয়কো আনন্দ
একুশ মানে ভাষার জন্য রক্তে পাতা ছন্দ।
একুশ মানে মাতৃভাষা বর্ণমালার গান
একুশ মানে জিবন দামে মাতৃভাষার মান।
একুশ বলে সালাম রফিক শফিক ও জব্বার
একুশ মানে দেশের জন্যে সাহস দুর্নিবার।
একুশ মানে রক্তে লেখা ভাষার স্মৃতি কথা
একুশ মানে একাত্তরে মাতৃভুমির স্বাধীনতা।
প্রকৃতি
মর্জিন আরা বেগম
শ্যামল প্রকৃতি সুন্দর অনুপম
অপরূপ সাজে শান্তি মনোরম।
রূপবৈচির্ত্রে মুগ্ধ মন আর মনন
গোধুলীর আলোতে সুখের রনন।
বিধাতার দান এদেশের সবুজ ঘ্রাণ
গাহি তাই মাতৃভূমির অশেষ গুণগান।
অন্যভাষার কাব্যকনা- ৪ মেরি হার বাতকি উল্টা উঅ সমঝ্ লে তে হ্যায়
আবকে পুছাতো কেহদোঙ্গা কি জাল আচ্ছা হ্যায়।
যখোন তুমি উল্টো বুঝো আমার বলা সব কথার
বলবো এবার ভালোই আছি জিজ্ঞাসিলে পুনর্বার।
মুল : জলিল
কাব্যানুবাদ : হুমায়ুন ছিদ্দিকি
অন্যভাষার কাব্যকনা- ৩ উমরে দরাজ মাংগ্কে লে আয়ে থে চারদিন
দো আরজু মে কাট গেয়ি দো ইনত্দেজার মে।
প্রভু থেকে চারদিনের এক জিবন নিয়ে এসেছি হায়
দুদিন গেলো আকাংখাতে দুদিন গেলো অপেৰায়।
মুল : বাহাদুর শাহ জাফর
কাব্যানুবাদ : হুমায়ুন ছিদ্দিকি
অন্যভাষার কাব্যকনা- ২ ইয়ে উড়ি উড়ি সি রংগত্
ইয়ে খুলে খুলে সে গেসু
তেরি সুবহা কেহরহি হ্যায়
তেরি রাত কা ফসানা।
উড়ো উড়ো চেহারা আর
অগোছালো চুলের উচ্ছাস
সকালের আলুথালু মুখটাই
বলছে তোমার রাতৃর ইতিহাস
মুল : আহসান দানিশ
কাব্যানুবাদ : হুমায়ুন ছিদ্দিকি
সাগর পাড়ের গান জাবীদ মাইনউদ্দীন
নিসর্গ মৌনতা ধ্বনির প্রাণিত প্রৰেপে
সুনসান ধীর দু'টি পা
আকর্ণ একটি চাদর
নির্মেদ রোদেলা ছাঁচকাটা শব্দের নিখুত
মায়াবী স্রোত মন্থর আলোছায়া
এমোন সাধারণ সাদামাটা সন্ধ্যে
আর কখ্খনো আসেনি
প্রাণহীন এই বিবর্ণ নগরে
নাতিদীর্ঘ তাহার অজস্র না বলায়
অনুবাদ ও অনুদিতের আজন্ম লালিত
সেই পুরনো উৎকণ্ঠা
খ্যাতিমান এলিয়েন
এই শহরে নিজেরে লুকিয়ে
এতোদিন কোথায় ছিলেন
মৈনাক পস্নাবন নাকি চিরচেনা
দুচোখের অতিত বাঁধন কোথায়
স্বোপার্জিত নিরনত্দর প্রশ্নে
নি:শেষে দাড়িয়ে থাকি বিমূঢ়
দোআঁশ অরন্যে
রোদিত সমুদ্র তুমি
শুধু তোমারই জন্যে।
ইচ্ছে হলেই
রোকশানা আনোয়ার
ইচ্ছে হলেই যায় কি ঢাকা
বুকের আগুন টাকে
ইচ্ছে হলেই যায় কি চাপা
রঙিন ফাগুন টাকে।
ইচ্ছে হলেই যায় কি দেয়া
মনের ঘরে শিকল
ইচ্ছে হলেই যায় কি রোখা
মন গাড়িটার বিকল।
ইচ্ছে হলেই যায় কি ধরা
দূর গগনের চাঁদ
ইচ্ছে হলেই হয় কি পুরণ
মনের যত সাধ।
ইচ্ছে হলেই যায় কি বুঝা
মনের পারাপার
ইচ্ছে হলেই যায় কি পাওয়া
মনের সমাচার।
ইচ্ছে হলেই যায় কি দেখা
তোমার হাসি মুখ
এটাই আমার ভালবাসা
আমার স্বপ্ন সুখ।
স্বপ্নখেলা
মাহবুব হাসান সজীব
মাঝরাতে হঠাৎ জেগে উঠি
তবু থাকি স্বপ্নের ঘোরে
দৈনিক ব্যসত্দতার টানে ছুটি
শিশির ভেজা সি্নগ্ধ ভোরে।
ক্লানত্দ দুপুরের শ্রানত্দ নিরবতা
ফিরিয়ে আনে সেই স্বপন
কৈশোরের দুরনত্দ মধুর চপলতা
করেছিলো সেই বীজ বপন।
বিকেলে পথ চলি আনমনে
বপিত স্বপ্নবীজ অঙ্কুরে মেলে
অবচেতন মন ৰনে ৰনে
কারে নিয়ে স্বপ্নখেলা খেলে।
সে কি ছিলো কভু এতোটা কাছে
দুরে থাক তাতে কি, হৃদয়ে আছে।
পরিপত্র
হুমায়ুন ছিদ্দিকি
এখোন আমি তিনটি চোখে
লুকিয়ে রাখি একটি দুখে
দ্বিতিয়কে তোমার বুকে
অপর চোখে নিয়ন বাতি
অন্ধকারে মগ্ন রাতি
স্বপ্ন দেখার যন্ত্রপাতি
দুপুর হলেই নিদ্রা নামে
পত্র পাঠাই হৃদয়খামে
পৃথিবিটা তোমার নামে
উড়িয়ে দিলাম বোরাক রথে
সওয়ার হলে অপার পথে
হিমালয়ের ওপার হতে
ফিরতি পথে প্রেম আনিও
দু:খগুলো গুছিয়ে নিও
তিনটি চোখে স্বপ্ন দিও
নিশাচর
প্রিন্স উবাএ
সন্ধ্যা নেমে এলে ফিরে পাই প্রজ্ঞান
আকাশের জমিনে তারার ফুল গুনি
চাঁদ গুনিনা কারণ ছাড়াই।
আরোগ্য লাভের চেয়ে জীবন-মরনের
সন্ধিৰনই অধিক উত্তেজনাময়
এখোন নিশাচর পেঁচার ডাকই সুমধুর।
গতিময় পথে পেছন ফিরি
বিগত স্মৃতির অবগাহনে
তাতেও জমাট আঁধার তিমির রাত্রি।
জাগ্রত কুকুরের আহাজারি শুয়োপোকার
পদধ্বনি মৃত্তিকা ছোঁয়া বাতাসের উচ্ছাস
সবই শুনি আঁধারে একা।
সবুজ পলস্নবে সুভাসিত বৃৰরাজি
পাহাড়ের পাদদেশে সমুদ্র সফেদ ঢেউ
পৃথিবীর রূপ দেখি বিপরীত আঁধারে।
জ্ঞান হারাই ভোরের আলোতে একা
সন্ধ্যার আবছায়া অনন্য অস্থিরতা।
কবিতা হতে চাই
নিশাচর
কবি নয় আমি কবিতা হতে চাই
আমার মতো সরল সহজ যে কবি
কবিতার গভীরতা বুঝে
আমি তার কবিতা হবো
তার ব্যাকুলতায় আমি আকুল হবো
তার মৃত কবিতায় প্রাণ সঞ্চার করবো
সে কেবল সৃষ্টি করবে
আমি যোগাবো প্রাণের স্পন্দন
আমি কবি হবোনা কবিতা হবো
আমার মর্ম ছুঁয়ে যে কবিতা লিখবে
তার জন্যে আনবো উদ্দীপ্ত সকাল।
খোলাডাক
দ্বীপ দিদার
হাত পেতেছি
যা দিতে চাও
দিতে পারো
ভাঙা চুড়ি
অচল মুদ্রা
পুরান শাড়ি
দু:খ দিলে
তা ও নেবো।
হাত পেতেছি
কিছুই না দাও
নিতে চাইলে
নিতে পারো
রক্ত জবা
মুক্ত আকাশ
ঘাসে শিশির
দিতে পারো।
তোমার জন্যে
রফিকুল আলম মাহমুদ
কেবল তোমার জন্যে স্মৃতির জোয়ার উছলে উঠে
তোমার জন্যে কাব্য কলায় শব্দেশব্দে ছন্দ ফোটে।
তোমার জন্যে আলোয় ভুবন উঠে ঝলমলিয়ে
সুর তোলে ঝড় হৃদয় বনে পাল উড়িয়ে।
তুমি হৃদয়জুড়ে আলোক ছড়াও দুর্বিনিত একা
সারাজিবন তোমার জন্যে আকুল অপেৰা।
শানত্দি নামে অপার আমার আসে বারবার সুখ
তোমার জন্যে ভালোবাসায় উছলে উঠে বুক।
কিশোরি
ফরিদ হাজারি
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো নিশি
দিঘির পাড়ে উঠলো বেজে বাঁশি
সুরের সুধায় মন উড়ে যায় মেঘে
কিশোরি তার রাতৃ কাটায় জেগে
ওপার হতে নামবে বুঝি প্রণয়
কোনবা পথে হৃদয় করবো জয়
উদাস হাওয়ায় মন খুঁজেপাই তার
একহৃদয়ে দুইটি মনের অমোঘ পারাপার।
হুমায়ুন ছিদ্দিকি
সম্পাদনায়
আমাদের সাহিত্য
কক্সবাজার।
web: www.noyoncoxnews.blogspot.com



0 Comments