Advertisement

কক্সবাজারে অসময়ের বৃষ্টিতে ইটভাটায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত কয়েক দিনের টানা অসময়ের বৃষ্টিতে কক্সবাজার সদরের রামু ও তার আশপাশের অর্ধশতাধিক ইটভাটায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিহয়েছে। ইটভাটার তৈরিকৃত কাঁচা ইট বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ওইসব ইটভাটা মালিকদের সব মিলিয়ে সোয়া দুইকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমন তথই জানিয়েছে রামু উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা পরিষদসদস্য নুরুল হক কোম্পানী।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে ইট ভাটার চুল্লির আগুন নিভে গিয়েছে এবং কাঁচা ইটগুলো সব বৃষ্টির পানিতে গলে গিয়েমাটিতে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ইটভাটায় কর্মরত শত শত শ্রমিক তাদের কাজ বন্ধ রেখে অলস সময় পার করতে দেখাগেছে। এর ফলে ইটভাটার মালিকগণ অতিরিক্ত লোকসান গুণছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমের কারণে এমনিতেই ইটভাটার কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর আবার এইবাণিজ্যিক মৌসুমে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি। এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইটভাটা মালিকদের অনেক বেগ পেতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার শেষ রাত থেকে কক্সবাজার জেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর থেকে কখনওগুড়িগুড়ি আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল।
এদিকে রবিবার (৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেনি কক্সবাজারের আকাশে। মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকায় ইট তৈরি করতেপারছে না ভাটায় কর্মরত শ্রমিকেরা। সব মিলে বিপাকে পড়েছে মালিক ও শ্রমিক উভয়েই। আকাশ ভালো হলে নতুন করেপুনরায় ইট তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
উপজেলার চাকমারকুল এলাকায় অবস্থিত একটি ইটভাটার দায়িত্বে থাকা রুহুল আমিন জানান, তার ইটভাটায় ১২ লাখ ইট শুধুচুলায় আগুন দিয়ে জ্বালানোর অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু অসময়ের হঠাৎ বৃষ্টির কারণে প্রায় ৯ লাখ ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করেপ্রায় ৮ লাখ টাকার মত লোকসান শুধু এই ভাটায় হয়েছে। এছাড়াও বাকি ইটভাটাগুলোতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
একটি ইট ভাটার সরেজমিন চিত্রে দেখা গেছে, ওই ইটভাটায় প্রতিদিন ২শ’ ৫০ জন শ্রমিক আমার এখানে ইটভাটায় কাজ করে।হঠাৎ বৃষ্টির কারণে ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় এখন ১শ’ জন শ্রমিক ইটভাটায় কাজ করছে। ১শ’ ৫০জন শ্রমিক বেকার হয়েপড়েছে।
ভাটার মালিকগণ জানান, আকস্মিক বৃষ্টির ফলে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ইটের সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
ইট তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে যে ইটগুলো তৈরি করা হয়ে ছিল তা সম্পূর্ণ ভিজে নষ্ট হয়েগেছে। প্রতি হাজার কাঁচা ইট তৈরিতে খরচ ১ হাজার টাকা আবার নষ্ট ইটগুলো সরাতে হাজার প্রতি এক হাজার টাকা। এতে করেইটভাটা সংশ্লিষ্টরা পড়েছেন উভয় সঙ্কটে।
রামুর ফতেখারকুলে ইটভাটার মালিক ভুট্টো জানান, এই বৃষ্টিতে তার ৫ লাখ টাকার কাঁচামালসহ সব মিলিয়ে ২৫ লাখ টাকারক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অপর এক ইট ব্যবসায়ী মন্ডল পাড়ার বাদল তার ইট ভাটায় কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার লোকসান গুণতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশকরছেন।
দৈনিক কক্সবাজার ৭১/ এম ইউ নয়ন

Post a Comment

0 Comments