চকরিয়া বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, প্রসূতি মা' চমেক হাসপাতালে
স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরী:বদরখালী জেনারেল হাসপাতালের অযোগ্য, অব্যস্থাপনা ও অনভিজ্ঞতা চিকিৎসার কারণে এক প্রসূতির মা' চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ওই প্রসূতি মা'য়ের একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান নরমালভাবে ডেলিভারি করার সময় মৃত্যু ঘটলেও আরো একটি ছেলে সন্তান পেটে থাকার অজুহাত দেখিয়ে পাঁচ মিনিটের পর মেজর অপারেশন দিয়ে দেয় ঐ প্রসূতি মা'কে। অপারেশনের পর দেখে যে পেটে কোন বাচ্চা নেই। এই নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীর আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে ঐ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক নিজের ভুল বুঝতে পেরে গাঁ ঢাকা দেয়। প্রসূতি মা'য়ের অবস্থা বেগতি দেখে তাকে দ্রæত চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। উল্লেখ্য যে, বাচ্চা প্রসবের আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশনের করতে হবে বললেও প্রসুতির স্বামী টাকার অভাবে অপারেশন করাতে পারবেনা বলে সময় ক্ষেপন করার মধ্যেই তার সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু টাকার লোভে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পেটে আরো একটি বাচ্চা আছে বলে বাধ্য করে অপারেশন করাতে এমন অভিযোগ প্রসুতির স্বামীর। সে বলেন, ইতিপূর্বে আল্ট্রসনোগ্রাফিতে বার বারই একটি বাচ্ছা আছে এবং স্বাভাবিক ভাবে ডেলিভারীর কথা সে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বার বার বলেছে। কিন্তু তারা আমার কোন কথাই শুনতে চায়নি।
এ লঙ্কা কান্ড ঘটনাটি ঘটেছে গত ১ নভেম্বর রাতে। মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মিজ্জির পাড়ার ছৈয়দ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রী বেবি আক্তার প্রসব-বেদনা বেড়ে যাওয়ায় ১ নভেম্বর রাতে তার স্ত্রী'র সুষ্ঠু ডেলিভারির জন্য পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলা বদরখালী বাজারস্থ জেনারেল ভর্তি করেন। ভর্তির কিছুক্ষণ পর নরমালভাবে এক ছেলে সন্তান মৃত্যু অবস্থায় জন্ম হয়। মৃত সন্তান জন্মের পাঁচ মিনিট পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জানান, পেটে আরও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তা জন্মের জন্য মেজর অপারেশন দিতে হবে। এতে ছৈয়দ মিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, ইতিপূর্বে কয়েকবার আল্ট্রানোসগ্রাফি করা হয়েছে। তাতে এক ছেলে সন্তান ছাড়া আর কোন সন্তান নেই বলে সাব জানিয়ে দেন কর্মরত ডাক্তারকে। কিন্তু নাচোঁড় বান্দা ডাক্তার তাকে ধমক দিয়ে বলেন, সিজার দিয়ে উক্ত ছেলে সন্তান ডেলিভারি করা না হলে প্রসূতির মৃত্যুর আশংকা রয়েছে। গলা কাটা ডাক্তার আব্দুল মান্নানের জোরালো প্রতিবাদের অসহায়ত্ব হয়ে উক্ত প্রসূতিকে সিজার করান। সিজারের পর কোন ছেলে সন্তান থাকাতো দূরের কথা রোগির অবস্থা কাহিল হয়ে যায়। এমনকি প্রসূতি মা' অপারেশন থিয়েটর রুমে চটপট করছিল। রোগির অবস্থা দেখে ছৈয়দ মিয়া হাউমাউ করে কান্নাকাটি করলে আশে-পাশের লোকজন ঝড়ো হয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ডাক্তার আব্দুল মান্নান গাঁ ঢাকা দেয়। এতে অসহায় হয়ে রোগির অবস্থা বেগতিক দেখে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় উন্নতি চিকিৎসার জন্য দ্রæত গতিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। রোগির অবস্থা আশংকা জনক। এদিকে এ বিষয়ে বিজ্ঞ এক ডাক্তার থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডেলিভারির পরপর কোন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া সিজার দেয়া কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। অপরদিকে উক্ত জেনারেল হাসপাতাল স্থাপিত হওয়ার পর থেকে ভুল চিকিৎসায় বহু রোগির অপচিকিৎসা সহ রোগীর স্বজনদের সাথে হাতাহাতির ঘটনাসহ থানা ও আদলতে কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী রোগিদের অভিযোগ সামান্য জ্বর নিয়ে ওই হাসপাতালে গেলে ৭/৮টি পরীক্ষাসহ দশ-বার প্রকারের ঔষুধ লিখে দিয়ে গলা কাটা বাণিজ্য করেন। ভুক্তভোগীরা আরো জানান, ডাঃ মাসুমা আক্তার চৌধুরীর প্যাড ব্যবহার একজন নার্স (সেবিকা) দিয়ে রোগিদের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে উক্ত হাসপাতালে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রসুতির স্বামী ছৈয়দ মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ , প্রশাসন ও কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
হাসপাতালেরর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইছার থেকে জানতে চাইলে, তিনি এব্যপারে ডাক্তাররাই ভাল জানবে। কারন কাকে কোন চিকিৎসা দিতে তার সিদ্ধান্ত ডাক্তাররাই নেন।
এব্যপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শিবলী নোমান বলেন, এবিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি, তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


0 Comments