মহেশখালীতে জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগরদের আতম সমর্পন অনুষ্টানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল*১২ বাহিনীর ৯৬ জন আত্মসমর্পন, * ১৫৫ দেশীয় তৈরী অস্ত্র ও ২৭৩ টি গোলাবারুদ, * মধস্থতায় এম এম আকরাম হোসাইন
মহেশখালী প্রতিনিধি:হয় আত্ম সমর্পন না হয় আইনের কঠোর পরিনামকে বরণ করতে হবে সন্ত্রাসীদের। সরকারের বাস্তবায়নাধিন মেঘাপ্রকল্পগুলো কক্সবাজারেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর এ প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে উপকূলের আইনশৃংখলা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। মহেশখালী জলদস্যু ও অস্ত্রকারিগরদের আত্ম সমর্পন অনুষ্টানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এসব কথা বলেন। গতকাল বেলা ১১ টার সময় মহেশখালীর কালারমারছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কক্সবাজার জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্টিত হয় উপকুল মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার জলদস্যু, অস্ত্রকারিগর ও সন্ত্রাসীদের আত্ম সমর্পন অনুষ্টান। বেসরকারী স্যাটেলাই টেলিভিশন আনন্দ টিভি‘র বিশেষ প্রতিনিধি এম এম আকরাম হোসাইনের মধ্যস্থতায় ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় উক্ত অনুষ্টানে উপকুলের জলদস্যু, অস্ত্রকারিগর ও সন্তাসীদের ১২ টি বাহিনীর ৯৬ জন আত্ম সমর্পন করেন। এ সময় তারা ১৫৫ টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র, ২৭৩ টি গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জামাধি জমা দেন তারা। তারা অন্ধকার জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞায় এ আত্ম সমর্পনের সুযোগ পান। আত্মসমর্পনকারী সন্ত্রাসীরা বলেন তারা স্বেচ্ছায় এ পথে পা বাড়ায়নি। বাধ্য হয়ে তারা এ পথে এসেছে। ইতিপুর্বে গত ২০ অক্টোবর র্যাবের আয়োজনে মহেশখালী ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পন করেন। গতকাল তাদেরই একজন নুরুল আলম বক্তব্যে বলেন, তারা আত্ম সমর্পন করে আজ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে। এখন খুবই ভাল আছে। পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে দিন পার করছে। এসময় গতকাল আত্মসমর্পনকারী সিরাজদৌল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিগত ২০০৩ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচনের পর থেকে একটি প্রতিপক্ষের মামলা হামলার কারনে সে নিজস্ব একটি বাহিনী সৃষ্টি করতে বাধ্য হয়েছে। সেই থেকে একদিনের জন্যও পরিবারের সাথে সুখে থাকার সুযোগ হয়নি। সরকারের ও প্রশাসনের কল্যানে আজ আত্ম সমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
অনুষ্টানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি আত্মসমর্পনকারী জলদস্যুদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০০০ পঞ্চাশ হাজার টাকা করে অনুদান দেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্টানে গেস্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী , বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার ১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, সাধারন সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ।
অনুষ্টান শেষে আত্মসমর্পনের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসাবে উপকুলের শান্তি প্রতিষ্টায় অবদান রাখায় আনন্দ টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি এম এম আকরাম হোসাইনকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি।
এসময় উপস্থিত হাজার হাজার জনতা অনষ্টানস্থলে উপস্থিত থেকে আত্মসমর্পনকে স্বাগত জানান। এবং গনমাধ্যমে উপস্থিত জনতা বলেন, সন্ত্রাসীরা নয় এদের যারা সন্ত্রাসী বানিয়েছে তাদের ধরা উচিত। তারা আশা প্রকাশ করেন তাদের গড ফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।


0 Comments