Advertisement

কস্তুরাঘাট এলাকার বিশাল খাস জমি দখলে নিতে রশি টানাটানি

বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদী তীরবর্তী কস্তুরাঘাটের বিশাল খাস জমি জবর দখলে নিয়েছে বালুখেকো নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট। সেখানে গড়ে তুলেছে বালুর বিশাল মজুদ। এনিয়ে জনৈক আতিক উল্লাহ কোম্পানী ও নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেটের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে। দুই জনই খাস জমি জবর দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জবর দখল প্রক্রিয়ার শুরুতে সেখানে কিছু অবৈধ স্থাপনাও গড়ে তোলা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আরএস মূলে জনৈক ফরিদ আলমের জমি দাবী করে কৌশলে খুরুশকুল মৌজার ১০ একর খাস জমি কুক্ষিগত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে উক্ত ফরিদের নামে পাওয়ার অব এ্যাটর্ণিও সম্পাদন করেছে নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট। স্পর্শকাতর ওই জায়গার আরো বেশকিছু জমি অপরাপর প্রভাবশালীরা ইতোমধ্যে জবর দখল করে ফেলেছে। বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী ওই স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক বিল্ডিং, মাদ্রাসা ও এতিমখানা। অথচ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় নেই কোন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারী। শুধুমাত্র জমি জবর দখলের উদ্দেশ্যেই এসকল ধর্মীয় প্রতিষ্টান গড়ে তোলা হয়। আর এর পাশেই ড্রেজার বসিয়ে বাঁকখালী নদী থেকে নিয়ম না মেনে বা পরিবেশের ক্ষতি করে বালি উত্তোলণ করছে নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার জানান, ওই স্থানে একটি সরকারী সংস্থার আবাসন প্রকল্পের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেখানে জবর দখলের কোন ঘটনা বরদাশ্ত করা হবেনা।
এদিকে বর্তমানে নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট ওই স্থান থেকে ট্রাক ও ডাম্পারে করে প্রতিরাত বা দিনে অবৈধভাবে বালি সরবরাহ করে আসছে। যেসব জায়গার বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার বেশীরভাগ আতিক উল্লাহ কোম্পানীর দখলীয় জমি বলে জানা গেছে। এনিয়ে দু’পক্ষে বার বার বাকবিতন্ডায় জড়াচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার নুনিয়া ছড়া,শহরের কস্তুরাঘাট সরকারী খাস জমিতে, খুরুশকুল ও শহরের আলীর জাঁহাল এসএম পাড়া এলাকায় বাঁকখালী নদীতে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন ও চলছে দেদারছে বিক্রি। এতে এলাকাবাসীর ভিটে বাড়ী ও ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। অপরদিকে নদী ড্রেজিংয়ের নামে উত্তোলিত বালু বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। রেললাইন প্রকল্পের কথা বল্লেও অবৈধভাবে ভিন্ন জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে বালি সরবরাহ করছে উক্ত সিন্ডিকেট।
এদিকে পরিবেশ ও এলাকাবাসীর ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় ইতোমধ্যে শহরের নুনিয়াছড়ার লোকজন নুরুল ইসলামকে বালি উত্তোলণে বাধা প্রদান করে। এবিষয়ে নুরুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মোটা টাকায় ম্যানেজ করে বালি উত্তোলণ ও সরবরাহ করছি। উল্লেখ্য, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান মেরি কালচার ইনিস্টিটিউট লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসতিয়াক মতিনের সাথে নুরুল ইসলাম শর্ত সাপেক্ষে বালি বিক্রির মুল টাকা থেকে লভ্যাংশ তিন শতাংশ হারে প্রদান করে আসছে। কিন্তু সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট। একাধিকবার চেষ্টা করলেও মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় এবিষয়ে নুরুল ইসলামের কাছ থেকে বিস্তারিত জানা যায়নি।

Post a Comment

0 Comments