এম লুৎফুর রহমান :
বাংলাদেশের দেশের রাজনীতির আতুরঘর, সারা দেশের
রাজনীনীতিবীদদের বহুল কাঙ্খিত ও আস্থার একমাত্র ঠিকানা বাংলাদেশ
আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে সাজসাজ
রব।সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দের আমেজ।
এই আনন্দ অনেকটাই ঈদের আনন্দের চাইতেই বেশী। অপরদিকে সম্মেলনের পূর্বক্ষণে
স্যোশাল মিডিয়ার এই স্বর্ণানী সময়ে অনলাইন জগতে একটা দাবী ঘুরপাক খাচ্ছে
সেটা হল নেতৃত্বে “ভাল মানুষ চাই”। এ ধরনের দাবির সাথে যদিওবা আমি কখনোই
একমত নই| ” ভাল মানুষ চাই” বলতে কী বুঝানো হয়? ‘ভাল’ একটি আপেক্ষিক
শব্দ|একজনের কাছে যেটা ভাল অপরের কাছে সেটা ভাল নাও হতে পারে| আবার নিজের
কাছে যেটা ভাল অপরের কাছে সেটাই চরম খারাপও হতে পারে। আজকাল পুরশুদ্ধ
রাজনীতি নিয়ে অনেকেই ধোঁয়া তুলছেল তাদের কাছে সবিনয়ে জিজ্ঞেসা আপনারা কি
নিজেরা পরিশুদ্ধ বা আপনাদের নীতি আদর্শ বা দল কি আদৌ পরিশুদ্ধ? যারা
পরিশুদ্ধের দোহায় দিচ্ছে তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি না করাই ভাল| পরিশুদ্ধ
লোকেরা মসজিদের ইমামতি করবেন, মন্দিরের পুরোহিত হবেন, টকশোতে গিয়ে জ্ঞান
দিবেন| হারমোনিয়ামে সা রে গা মা পা করবেন| তাদের রাজনীতি করার দরকার কী?
আমি একজন সাধারন মানুষ আমার একটাই চাওয়া যেহেতু আওয়ামী লীগ একটি গণসংগঠণ
আমার চাই আওয়ামী লীগের তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে খুব সাধারন
মানুষগুলো আসুক| যাদের চরিত্রে দোষ ও গুণ দুটোই আছে| যার চরিত্রে শুধুই দোষ
তিনি জনবিচ্ছিন্ন, আবার যিনি গুণে ভরপুর বিবেকানন্দ – তিনি এই বিশাল
গণসংগঠনের নেতৃত্বের ব্যালেন্স রাখতে হিমশিম খাবেন| আমাদের প্রেক্ষাপটে এমন
নেতৃত্ব দরকার যাকে সাধারন কর্মীরা রাত দুটো বাজে ফোন দিলেও পাবে, ঝড়
তুফানের সময় দরকার হলে তখনো পাশে পাবে| এমন নেতা দরকার যিনি প্রমিত বাংলা
ভাল বলতে পারেন, না পারলেও সমস্যা নেই| তবে আঞ্চলিক ভাষাটা ভাল জানা চাই|
এমন নেতা প্রয়োজন যিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের যেমন ভাল চিনেন তেমনি
শত্রুপক্ষ সম্পর্কেও ভাল জ্ঞান রাখেন| যে নেতা নিজ দলের কাছে এবং
প্রতিপক্ষের কাছে সমান জনপ্রিয় তাকে নিয়ে দল একটা পর্যায়ে বিপদে পড়বেই| যে
নেতার কোন শত্রু নেই বুঝে নিতে হবে তিনি সুবিধাবাদী| আবার যে নেতার সবাই
শত্রু কোন মিত্র নেই- বুঝতে হবে তিনি ভুল রাজনীতিতে আছেন বলে আমি বিশ্বাসী|
আমাদের সেই নেতা দরকার যিনি দলের প্রয়োজনে শত্রু ও মিত্র জন্ম দিয়েছেন ও
দেওয়ার মানসিকতা রাখেন| আমরা এমন নেতা চাই, যিনি রাজনীতির প্রয়োজনে নরম ও
কঠোর হতে পারবেন| সস্তা জনপ্রিয়তার ধার ধারবেন না| দলের প্রয়োজনে, রাজনীতির
প্রয়োজনে, গণমানুষের প্রয়োজনে যখন যেখানে যেমন হওয়া দরকার- নেতা সেখানে
তেমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন এটুকু কর্মীরা আশা করতেই পারে| নেতাকে রাজনীতির
কারণে কৌশলী হতে হবে, তবে এটাও খেয়াল রাখা জরুরী অন্য কেউ যেন সেই কৌশলের
কারণে বলি না হয়| নেতা যদি ভাল বক্তা হয় খুবই ভাল| তবে তার চেয়ে জরুরী, ভাল
সংগঠক হওয়া| কেউ যদি ভাল বক্তৃতা না জানে তাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই|
বঙ্গবন্ধু’র মধ্যে দুটো গুণই ছিল| যে নেতা কর্মীদের সাথে প্রাণ খুলে হাসতে
পারেন, সময়ে কর্মীদের সাথে অশ্রুসজল হন সেই নেতাই আমাদের দরকার| নেতা
হিসেবে তাকেই দরকার যিনি ঘর্মাক্ত কর্মীদের জড়িয়ে ধরার সময় নিজের পাঞ্জাবীর
ভাঁজ নষ্ট হওয়ার ভয় করবেন না| যিনি কর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে লেজ
গুঁটিয়ে নিবেন না| বর্তমান দলের যে সুসময় আছে সেই সুসময় চিরকাল নাও থাকতে
পারে| তাকেই নেতা বানান, তিনি দু:সময়ে যে নেতার দরজায় কড়া নাড়তে পারবেন|
চরম দু:সময়ে যিনি আপনাকে দেখে না দেখার ভান করবেন না, চিনেও না চেনার ভান
করবেন না| দলের বিপদের দিনে যিনি খোলস পাল্টাবেন না| যেহেতু এদেশে সবচেয়ে
বড় রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ, সেহেতু এ দলের নেতাকর্মীদের কাছে মানুষের
প্রত্যাশা বেশী| পান থেকে চুন খসলেই হৈ চৈ শুরু হয়| সেসব হৈ চৈ এ ভয় পেলে
বা অস্থির হলে চলবে না| ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা
অামাদের নেতার থাকবে- সেটাই অামাদের প্রত্যাশা| যাদের গায়ে বুলেট বোমার
গন্ধ অাছে, শরীরে প্রতিপক্ষের হামলার দাগ অাছে, যাদের যৌবন কেটেছে রাজপথে
মিছিল সমাবেশ করতে করতে, রাজপথ ছিল যাদের ঘর সংসার তারা অার যাই করুক, মরে
গেলেও দলের সাথে বেঈমানী করবে না| বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলনে এমন নেতাদেরই
জয় হোক| জয় বাংলা| জয় বঙ্গবন্ধু|


0 Comments