কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী বিরুদ্ধে ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। যার বিরুদ্ধে এর আগেও ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা সংগটিত হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রী, অভিভাবক এবং শ্লীলতাহানির বিষয়টি তদন্ত কমিটির সভপতি নুরুল আলম নিশ্চিত করেছেন।
কিছুক্ষণ পরে তার সহপাঠীরা এসে পড়লে আব্দুল কাদের দ্রুত সটকে পড়ে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং সহপাঠীদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, ২ অক্টোবরের এ ঘটনাটি স্কুলে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে বিক্ষোভ করে। তারা মানববন্ধন করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের সুকৌশলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে অত্র স্কুলের সভাপতি অছিউর রহমান বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি এ অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ম্যানেজিং কমিটির জরুরী মিটিংয়ের মাধ্যমে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তী ৯ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিল করার জন্যে বলেন। তদন্তকারী সদস্যগণ এ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন জমা দেন।
২ অক্টোবর ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্রীলতাহানীর বিষয়টি সঠিক বলে উল্লেখ করে এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী সামনের বেঞ্চে বসার উদ্দেশ্যে ৭ টা ৩০ মিনিটের দিকে স্কুলে যায়। এসময় অফিস সহকারী আব্দুল কাদের তাকে দেখতে পেয়ে তার দিকে এগিয়ে আসে এবং সকালে আসার কারণ জানতে চাইলে সে কারণ অবহিত করতে না করতেই তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করে একপাশে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তখন কথিত অফিস সহকারী আব্দুল কাদেরের গতিবিধি খারাপ দেখে চিৎকার করে কান্নাকাটি করলে সে অনুকূল পরিস্থিতি লক্ষ্যকরে ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। এদিকে তারা উভয়ের অজান্তে একছাত্রী উপস্থিত থেকে সব দেখে ফেলে। পরে দুইজন ছাত্রী একত্রিত হয়ে কান্নাকাটি করে। যা দেখতে পেয়ে অন্যান্য সহপাঠীরা জিজ্ঞেস করলে তাদেরকে খুলে বলে, পরে তারা উভয়ে মিলে এক শিক্ষিকাকে বিষয়টি অবহিত করে। তার সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
শ্লীলতাহানীর শিকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ছাত্রী বলেন, আব্দুল কাদের আমাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। তার এমন আচরণে আমি হতভম্ব।
বিদ্যালয়ের সভাপতি অছিউর রহমান বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাদের প্রতিবেদন অনুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দু শুক্কুর জানান, নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্রীলতাহানীর বিষয়টি সত্য। অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালেও একই স্কুলের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ঘটনা ঘটছিল যেটা ও আমি নিজে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দেওয়ার জন্যে সহযোগিতা করেছিলাম। পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা মিমাংসা হয়। বর্তমান সংগঠিত ঘটনার ভিকটিম আমার ওয়ার্ডের যা অত্যান্ত দুঃখজনক। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসাবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি দাবী জানাচ্ছি।


0 Comments