Advertisement

বাংলাদেশ থেকে কেউ অবৈধভাবে ভারতে যায়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভয়েস অব কক্সবাজার ডেস্ক:
ভারতের আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকার (এনআরসি) মাধ্যমে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে অন্তত ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ বাঙালিকে। এ ঘটনার পর থেকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে বাংলাদেশে। এসব নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে কিনা এই নিয়েই সন্দেহ সংশ্লিষ্টদের। আর এই সন্দেহ জন্মের মূল কারণ ভারতের বর্তমান বিজেপি
সরকারের অনেকেই এদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে বিভিন্ন সময় বিবৃতি দেন। যদিও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ইস্যুটিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বলে দাবি জানিয়েছেন। এসবের মধ্যেই এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, একাত্তরের পর বাংলাদেশ থেকে কেউ অবৈধভাবে ভারতে যায়নি।
রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষীদের ৫৬তম ব্যাচের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমরা মন্তব্য করছি না এবং করতেও চাই না। ভারত যদি আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা করে তখন আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- একাত্তরের পরে আমাদের বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি। যারা গিয়েছেন তারা আগেই গিয়েছেন। ওই দেশ থেকে যেমন এখানে এসেছে এখান থেকেও ওখানে গিয়েছে। কাজেই আমাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
এর আগে গত ৬ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভারত সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ অবৈধ অনুপ্রবেশের ইস্যু নিয়ে বৈঠকে কথা তোলেন। ওই বৈঠকে তিনি ভারতে অবৈধভাবে বাংলাদেশিরা অনুপ্রবেশ করে বলে দাবি জানান।
ভারতের আনা অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জবাবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কোনো বাংলাদেশি ভারতে যায় না। যারা যায় তারা ভিসার মাধ্যমে যায়। এছাড়া তিনি আরও জানান, ‘আমাদের দেশ থেকে তোমাদের দেশে বেড়াতে যায়, চিকিৎসা সেবা নিতে যায় বা শিক্ষা সফরে যায়। নেক্সটডোর নেইবার (প্রতিবেশী) তোমরা, সেজন্যই যায়।’
সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আইন অনুযায়ী করা হলে তাতে বাংলাদেশের আপত্তি করার কিছু নেই। জয়েন্ট বাউন্ডারি অ্যাক্ট অনুযায়ী যেভাবে আগে তারা করেছে সেভাবেই বাকিটা করলে আমাদের অসুবিধা নেই।’
এ দিকে অনুপ্রবেশ ইস্যু যৌথ বিবৃতিতে রাখার বিষয়ে ভারত বাংলাদেশকে এক ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছিল বলে সফররত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন।
তারা বলেছেন, অনুপ্রবেশ ইস্যু যৌথ বিবৃতিতে রাখার ব্যাপারে ভারতের দিক থেকে একটা চাপ তৈরি করা হয়েছিল। দিল্লীর বৈঠকে এসব আলোচনা হলেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দুই দেশ আলাদা আলাদাভাবে বক্তব্য তুলে ধরেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যদিও অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি এবার বাংলাদেশ এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল না, কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তোলা হয়। তবে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশ ভারতের বক্তব্য গ্রহণ করেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে জানিয়েছেন, ‘অনুপ্রবেশের ব্যাপারে তারা যেটা আমাদের বলছেন, যেটা ওনারা বলতে চাচ্ছেন, যে তোমাদের দেশ থেকে তো বহুলোক আসে। আমি সেখানে বলেছি, আমাদের দেশ থেকে এখন আর অবৈধভাবে যায় না। ভিসা নিয়েই যায়। অবৈধভাবে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন আসে না কারণ আমাদের দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে গেছে। প্রবৃদ্ধি বেড়ে গেছে।’
ভারতের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ২৩ লক্ষ লোক বৈধভাবে গিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তারাই স্বীকার করেছেন, গত বছর নাকি আমাদের ১৪ লক্ষ লোককে তারা ভিসা দিয়েছেন। আর মাল্টিপল ভিসা দেওয়া ছিল। সব মিলিয়ে ২৩ লক্ষ বাংলাদেশের নাগরিক গত বছর ভারত গিয়েছিল।’
এক সাক্ষাৎকারে ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ইস্যু নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া সংখ্যালঘুরা কোথায় এমন প্রশ্নে তিনি ভারতের দিকে ইঙ্গিত দেন। ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে বলে দাবি করে। আর ওই বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করেন রানা।
তিনি বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের সনাক্তের নির্দেশ দিয়েছে। খুঁজে বের করা শুরু হয়ে গেছে। আসামে ৪০ লক্ষকে খুঁজে পেয়েছে। তার মধ্যে ১৭ লক্ষ মুসলিম এবং ২৩ লক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের।
তবে গত আগস্ট মাসে ঢাকায় সফরে এসে আসামের এনআরসি ইস্যু নিয়ে কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। তিনি জানান, ভারতের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে যা হচ্ছে সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

Post a Comment

0 Comments