এম. ইব্রাহিম খলিল মামুন||
কক্সবাজারে সৈকতের পাশেই সরকারি পাহাড় কেটে একটি সমিতির নামে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক প্রকল্প। উখিয়া-টেকনাফে পাহাড় ধ্বংস করে রোহিঙ্গা বসতি নির্মাণের অনুমতি দেয়ার ঘটনাকে এ দখলের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন সমিতির লোকেরা। শুধু তাই নয়, জায়গা দখল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদেরকেই।
গত রোববার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতের পাশে হোটেল-মোটেল জোনে ৯০ একর আয়তনের ২০০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ের এখানে সেখানে টিনের ঘর। জানা যায়, কয়েক মাস ধরে পাহাড়টির অর্ধেক জমি দখল করা হয়েছে। ৪০ বর্গফুট আয়তনের একেকটি প্লট ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ‘লাইট হাউজ পল্লী সমবায় সমিতি’র নামে। বিভিন্ন প্লটে ৫০টির বেশি ছোট ছোট টিনের ঘর তৈরি করা হয়েছে। নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়।
পুরো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের পূর্ব পাশে সৈকতপাড়া পাহাড়ের বিশাল অংশ কেটে সমতল করা হয়েছে। সেখানে তৈরি হয়েছে অনেকগুলো টিনের ঘর। অধিকাংশ ঘরে বসবাস করছে রোহিঙ্গা পরিবার। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসানো হয়েছে গভীর নলকূপ।
একটি টিনের ঘর ভাড়া নেয়া রোহিঙ্গা নিজেকে আব্দুস সালাম নামে পরিচয় দিয়ে বলেন, গত এক মাসেই পাহাড় কেটে ৫২টি টিনের ঘর তৈরি করা হয়েছে। পাহাড় কাটার জন্য অনেক রোহিঙ্গাকে থাকতে দেয়া হচ্ছে।
পাহাড়ের আরেকটি ঘরের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, জমির দখলী স্বত্ব ঠিক রাখতে অস্থায়ীভাবে টিনের ঘর তৈরি করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ আবাসন প্রকল্পের বিষয়ে জানেন বলে দাবি তার।
অন্য একটি ঘরের বাসিন্দা মো. হামিদ নামে এক রোহিঙ্গা জানান, কেয়ারটেকার হিসেবে তাকে এ ঘর দিয়েছে মোবারক নামে এক লোক। এ পাহাড়ে নিজের কয়েকটি প্লট থাকার কথা স্বীকার করে মোবারক বলেন, ৭৮ সদস্য নিয়ে লাইট হাউজ পল্লী সমিতিটা করেছি, এখন নিজের মতো করে প্লটে কাজ করছেন সদস্যরা। সবকিছুর সমন্বয় করছেন সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান।
বৈধ-অবৈধ প্রসঙ্গ এড়িয়ে আব্দুর রহমান বলেন, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন পাহাড় কেটে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। ১০ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে পাহাড় কেটে বসতি বানিয়েছে, তাদের তো কেউ উচ্ছেদ করে না। আমরা মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পাহাড়ে ঘরবাড়ি করছি। এখন উচ্ছেদ করলে করার কিছু নাই।
তবে এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, সরকারি পাহাড় কেটে আবাসন প্রকল্প হচ্ছে ঠিক, তবে জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তর সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ পাহাড়েও অভিযান হবে।
একই কথা বলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই পাহাড়ে কারা আবাসন প্রকল্প করছেন, তার খোঁজ নেয়া হবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অবশ্য কর্মকর্তারা এ পাহাড়ে আবাসন প্রকল্প নির্মাণের বিষয়ে কিছু না জানার কথা বললেও পরিবেশবাদীরা তা মানতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, গত এক বছরে শহরের লাইট হাউজ, কলাতলী, লারপাড়া, পাহাড়তলী, এবিসিঘোনা, সার্কিট হাউজ, বাইপাস সড়কের পাশের ১১টি পাহাড় কেটে অন্তত তিন হাজার ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আন্দোলন হলে দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা ও নোটিস দিয়েই দায় সারে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন,উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি পাহাড় কেটে আবাসন পল্লী ও ঘরবাড়ি তৈরি করার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর রক্ষা কমিটি, কক্সবাজারের সদস্য সচিব কলিম উল্লাহ বলেন, প্রকাশ্যে সমুদ্রতীরের পাহাড় কেটে প্রায় ১০০ টিনের ঘর তৈরি করা হয়েছে। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন নীরব! কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই সরকারি পাহাড় কেটে সাফ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারে সৈকতের পাশেই সরকারি পাহাড় কেটে একটি সমিতির নামে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক প্রকল্প। উখিয়া-টেকনাফে পাহাড় ধ্বংস করে রোহিঙ্গা বসতি নির্মাণের অনুমতি দেয়ার ঘটনাকে এ দখলের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন সমিতির লোকেরা। শুধু তাই নয়, জায়গা দখল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদেরকেই।
গত রোববার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতের পাশে হোটেল-মোটেল জোনে ৯০ একর আয়তনের ২০০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ের এখানে সেখানে টিনের ঘর। জানা যায়, কয়েক মাস ধরে পাহাড়টির অর্ধেক জমি দখল করা হয়েছে। ৪০ বর্গফুট আয়তনের একেকটি প্লট ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ‘লাইট হাউজ পল্লী সমবায় সমিতি’র নামে। বিভিন্ন প্লটে ৫০টির বেশি ছোট ছোট টিনের ঘর তৈরি করা হয়েছে। নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়।
পুরো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের পূর্ব পাশে সৈকতপাড়া পাহাড়ের বিশাল অংশ কেটে সমতল করা হয়েছে। সেখানে তৈরি হয়েছে অনেকগুলো টিনের ঘর। অধিকাংশ ঘরে বসবাস করছে রোহিঙ্গা পরিবার। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসানো হয়েছে গভীর নলকূপ।
একটি টিনের ঘর ভাড়া নেয়া রোহিঙ্গা নিজেকে আব্দুস সালাম নামে পরিচয় দিয়ে বলেন, গত এক মাসেই পাহাড় কেটে ৫২টি টিনের ঘর তৈরি করা হয়েছে। পাহাড় কাটার জন্য অনেক রোহিঙ্গাকে থাকতে দেয়া হচ্ছে।
পাহাড়ের আরেকটি ঘরের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, জমির দখলী স্বত্ব ঠিক রাখতে অস্থায়ীভাবে টিনের ঘর তৈরি করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ আবাসন প্রকল্পের বিষয়ে জানেন বলে দাবি তার।
অন্য একটি ঘরের বাসিন্দা মো. হামিদ নামে এক রোহিঙ্গা জানান, কেয়ারটেকার হিসেবে তাকে এ ঘর দিয়েছে মোবারক নামে এক লোক। এ পাহাড়ে নিজের কয়েকটি প্লট থাকার কথা স্বীকার করে মোবারক বলেন, ৭৮ সদস্য নিয়ে লাইট হাউজ পল্লী সমিতিটা করেছি, এখন নিজের মতো করে প্লটে কাজ করছেন সদস্যরা। সবকিছুর সমন্বয় করছেন সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান।
বৈধ-অবৈধ প্রসঙ্গ এড়িয়ে আব্দুর রহমান বলেন, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন পাহাড় কেটে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। ১০ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে পাহাড় কেটে বসতি বানিয়েছে, তাদের তো কেউ উচ্ছেদ করে না। আমরা মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পাহাড়ে ঘরবাড়ি করছি। এখন উচ্ছেদ করলে করার কিছু নাই।
তবে এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, সরকারি পাহাড় কেটে আবাসন প্রকল্প হচ্ছে ঠিক, তবে জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তর সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ পাহাড়েও অভিযান হবে।
একই কথা বলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই পাহাড়ে কারা আবাসন প্রকল্প করছেন, তার খোঁজ নেয়া হবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অবশ্য কর্মকর্তারা এ পাহাড়ে আবাসন প্রকল্প নির্মাণের বিষয়ে কিছু না জানার কথা বললেও পরিবেশবাদীরা তা মানতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, গত এক বছরে শহরের লাইট হাউজ, কলাতলী, লারপাড়া, পাহাড়তলী, এবিসিঘোনা, সার্কিট হাউজ, বাইপাস সড়কের পাশের ১১টি পাহাড় কেটে অন্তত তিন হাজার ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আন্দোলন হলে দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা ও নোটিস দিয়েই দায় সারে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন,উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি পাহাড় কেটে আবাসন পল্লী ও ঘরবাড়ি তৈরি করার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর রক্ষা কমিটি, কক্সবাজারের সদস্য সচিব কলিম উল্লাহ বলেন, প্রকাশ্যে সমুদ্রতীরের পাহাড় কেটে প্রায় ১০০ টিনের ঘর তৈরি করা হয়েছে। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন নীরব! কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই সরকারি পাহাড় কেটে সাফ করা হচ্ছে।


0 Comments