পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে ঢাকার গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গ্রেপ্তার সাত শ্রমিককে পুলিশের এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
পুলিশের কাজে বাধা, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও যান চলাচলে
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগের এই মামলায় তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর
করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আলগমীর কবির রাজ।
এই সাত শ্রমিক হলেন- রফিকুল ইসলাম, হাসানুর, রবিন, সোহেল, ফজলে রাব্বী, আল আমিন ও এনামুল হক।
মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার এসআই মো. জুবায়ের বৃহস্পতিবার এই
সাতজনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের হেফাজতে চান।
আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন হলে তা নাকচ করেন বিচারক।
দুই
চালকের সাজার রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট
শুরুর পর রাতে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকার গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে
জড়ায়।
রাতভর দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর সকালে
দুই পক্ষের সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পায়। এক পর্যায়ে আমিন বাজার সেতুর দক্ষিণ
দিক থেকে মাজার রোডের প্রবেশ মুখ পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ঢাকার অন্যতম প্রধান এই প্রবেশ পথে যান চলাচল বন্ধ থাকে দীর্ঘ সময়।
এ
সময় সংবাদ মাধ্যমের গাড়ি, পুলিশের রেকারসহ বিভিন্ন যানবাহন হামলা ও
ভাংচুরের শিকার হয়। সংঘর্ষের মধ্যে আহত এক শ্রমিক পরে হাসপাতালে মারা যান।
সংঘর্ষ চলাকালে গ্রেপ্তার হন ওই সাত শ্রমিক। বুধবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করে।
এই ঘটনায় পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত এক নারীর পক্ষ থেকে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
তিনি
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ধর্মঘটের নামে মঙ্গল ও বুধবার গাবতলী
এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা তাণ্ডব চালিয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে।
“আসামিদের মধ্যে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক নেতাও রয়েছেন।”
অপর
দুই মামলার একটিতেও এই সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঁচ দিনের
রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনের বিষয়ে রোববার শুনানি হবে বলে আদালত
পুলিশের প্রসিকিউশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দীন জানিয়েছেন।


0 Comments