Advertisement

‘নাইক্ষ্যংছড়িতে ৭৮’র পর সকল রোহিঙ্গাকে সরকারী তালিকায় আনতে হবে’

রাবেয়া বসরী, নাইক্ষ্যংছড়ি :
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় মিয়ানমার থেকে আগত ৭৮ সালের পরের সকল রোহিঙ্গাকে সরকারী হিসেবের তালিকায় আনার দাবী
জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। এসব রোহিঙ্গারা কার্ডধারী হোক বা না হোক আলাদা তালিকা করে চিহ্নিত করে রাখার জন্যে সরকারের উর্ধ্ব মহলের হস্তক্ষেপও জানিয়েছেন তারা। আর না হয় সীমান্তের এ উপজেলায় রোহিঙ্গারা রাম রাজত্ব কায়েম করবে অতি কম সময়ে। যেভাবে তারা একের পর এক ভয়ংকর ঘটনা ঘটাচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ি নয় শুধূ পুরো বাংলাদেশের পরিবেশ নষ্ট করবে একদিন । তাই সকলকে সময় থাকতে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
কমিটির সদস্য ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী;র প্রতিনিধি খাইরুল বশর জানান,সময় অনেক গডিয়ে গেছে,অনেক আগে থেকেই কার্ডধারী বা বিহীন রোহিঙ্গাদের তালিকা করার দাবী তোলা দরকার ছিল। তবে এখন সময় এসেছে এর বাস্তবে রূপ দেওয়ার। তিনি আরো বলেন, সরকার চাচ্ছে রোহিঙ্গাদের তালিকা করে তাদের কী করা যায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার। পরে যা হবে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার পরই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় এ বিষয়ে আরো বক্তব্য রাখেন,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ডা: সিরাজুল ইসলাম,ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম, বাইশারী ইউনিযন পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলম কোম্পানী, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম ও ৫০ বিজিবি প্রতিনিধি
নায়েব সুবেদার আবুল হোসেন প্রমূখ।
সভার সদস্য ডা: সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রকাশ্য তৎপরতা দেখলে সত্যি লজ্জা লাগে। তারা এখন দ’ুদেশের হর্তা-কর্তা। পুরাতনরা নুতন রোহিঙ্গাদের নানাভাবে সহায়তা করে এদেশের ভোটার তালিকায় অর্ন্তর্বক্ত করিয়ে নেন প্রতিনিয়ত।
চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম বলেন, ১৯৭৮ সালের পর আসা কার্ডধারী বা কার্ডবিহীন সকল রোহিঙ্গাকে
সরকারী জরিপের আওতায় আনতে হবে। তারা এখন সকল অপরাধের মূল হোতা। তারা বাংলাদেশের সকল সেক্টর দখলে নিতে মরিয়া। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের বসে আনতে সব ধরনের কুটকৌশল তারা করে যাচ্ছে। এসব রুখতে হবে। তিনি আরো বলেন,বর্তমানে রোহিঙ্গাদের তালিকা করতে সরকার যে নির্দেশ দিয়েছেন,তাতে ৭৮ সালের পর আসা সকল রোহিঙ্গার নাম তালিকাভূক্ত করে সরকারের কাছে পাঠাতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান তিনি।
বাইশারীর চেয়ারম্যানও অনুরূপ দাবী জানান রোহিঙ্গার ব্যাপারে। আর ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন প্রতিনিধি নায়েব সুবেদার আবুল হোসেন জানান,মুসলিম রোহিঙ্গাদের পাশাপশি উপজাতি রোহিঙ্গারাও এ দেশের আইডি কার্ড হাতে নিয়ে যত্র-তত্র ঘুরা ফেরা করতেছে। এরা কীভাবে ভোটার হলো তাও দেখা দরকার।
সভায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন,ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরী,থানার অফিসার ইনচার্জ প্রতিনিধি,বিজিবি’র ৩ ব্যাটলিয়নের ৪ জন প্রতিনিধি,দুদুক প্রতিনিধি,সরকারী কর্মকর্তা,রাজনৈতিক ও সামাজিক নের্তৃবৃন্দ সহ সকল স্থরের প্রতিনিধি ।
উল্লেখ্য এ সভার আগে একুশের কর্মসূচি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর উপজেলা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয় সব শেষে। এতে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

0 Comments