Advertisement

ফের বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা দেবেন ক্ষতিগ্রস্থ ৮৭ শিক্ষার্থী

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া:
চকরিয়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছিঁড়ে ফেলা এসএসসি বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষার সেই ৮৭ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেবে আগামীকাল ১৬ মার্চ। সকাল দশটায় বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্টিত হবে এ পরীক্ষা। পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব ও বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এব্যাপারে তিনি বলেন, গত ৭মার্চ চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের এ সংক্রান্ত আদেশের কপি ফ্যাক্স যোগে তার কাছে প্রেরন করেছেন। পরদিন তিনি পরীক্ষার সাথে সম্পৃক্ত সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, হল পরির্দশক ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ৯ফেব্রুয়ারী চকরিয়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষার ৮৬টি উত্তরপত্র ছিঁড়ার ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের ৪নম্বর ও ৬নং কক্ষে ওইদিন পরীক্ষা দেন চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ, চকরিয়া সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ডুলাহাজারা উচ্চ বিদ্যালয়, পালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়, বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় ও ভেওলা মানিকচর উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৮৬জন পরীক্ষার্থী। তারমধ্যে ৪নং কক্ষে ২৬জন ও ৬নং কক্ষে ৬০জন পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষা শেষে বোর্ডে পাঠানোর সময় আরো একটি উত্তরপত্র ছিড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে উত্তরপত্র ছিঁড়ার পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৭টি।

সুত্র জানায়, ওইদিন সকাল দশটায় যথাসময়ে পরীক্ষা আরম্ভ হয়। বাংলা পথমপত্রের রচনা মুলক পরীক্ষা শেষে ১২টা ২০ মিনিটে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র দেয়ার কথা থাকলেও পরির্দশকরা প্রশ্নপত্র দেয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন কক্ষে ১২টা ৩৫মিনিটে, কোন কোন কক্ষে ১২টা ৩০মিনিটে দেন। অপরদিকে পরীক্ষা শেষে হওয়ার ৫মিনিট ও ১০মিনিট আগে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র উঠিয়ে নেয়া হয়। এ ছাড়াও নিয়ম বহির্ভূতভাবে পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের মাঝে একই নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রের একই সেট বিতরণ করা হয়, পরে ভুল বুঝতে পেরে আবার উঠিয়ে নিয়ে পুনরায় যথাযথ সেট বিতরণ করতে করতে পরীক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট করে দেয় অনভিজ্ঞ পরিদর্শকরা। পাবলিক পরীক্ষার ইতিহাসে এই প্রথম বিদ্যালয়ে পরীক্ষক হিসাবে মাদ্রাসার আনাড়ি অনভিজ্ঞ শিক্ষকরা পরির্দশক পদে দায়িত্ব পাওয়ায় মুলত তাদের ভুলের কারনে পরীক্ষার্থীদের প্রায় ২০মিনিট সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পরীক্ষার্থীরা সময় কম হওয়ার কারনে ভালভাবে উত্তরপত্র লিখতে পারেনি। এই ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটে উত্তরপত্র উঠিয়ে নেয়ার মুহুর্তে। এসময় ঘটে ৮৬টি উত্তরপত্র ছিঁড়ার ঘটনা।

জানা গেছে, উত্তরপত্র ছিঁড়ার এ ঘটনায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরীক্ষার্থীর বিষয়ে মানবিক দৃষ্টি দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করা হলেও তা আমলে নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সুপারিশ নাকচ করে ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে আবারো পরীক্ষা নিতে কেন্দ্র সচিবের কাছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তর ঘুরে চিঠি পাঠিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৬ মার্চ এসব শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। যারা আবারো পরীক্ষা দেবেন তাদের রোল নম্বর হলো- ৫৪২৩৩৬ হতে ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬২, ৬৩, ৫৪২১২৩ হতে ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৫৪২১৭১ হতে ৭২, ৭৩, ১১৩৮৩৭ হতে ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৫, ৭৮, ৭৯, ৮০, ১১৩৯৭০ হতে ৭১, ৭২, ৭৩।