রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচন
কমিশন কার্যালয় থেকে বেরোবার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
‘সব ধরনের প্রস্তুতি’ থাকার পরও রোববার কমিশন সভা
অনুষ্ঠিত হয়নি। সভা করে তফসিল চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
সিইসি বলেন, “এ বিষয়ে [তফসিল] বৈঠক হয়নি। এখনো
কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অতি শিগগির জানতে পারবেন।”
কবে নাগাদ কমিশন সভা হবে,
তাও স্পষ্ট করেননি তিনি।
“[কমিশন
সভা কবে] বলতে পারছি না। কালও [সোমবার] হতে পারে, পরশুও [মঙ্গলবার] হতে পারে।”
‘রাজনৈতিক
সমঝোতার অপেক্ষায়’ তফসিল ঘোষণা বিলম্বের কারণ কি না- জানতে চাইলে সিইসি বলেন, “ভালো কথা বলেছেন আপনারা। সারাদেশ
তাকিয়ে আছে। সবাই চায় সমঝোতা হোক। সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দেশবাসীকে
কী সাহায্য করা উচিত নয় কি?
“সত্যি সত্যি কি কোনো কথা হচ্ছে?
আমাদের একটা কাটঅফ ডেট রয়েছে। সে ডেট-এর মধ্যে তফসিল করতে হবে।”
দিনভর দৌড়ঝাঁপ
সকাল থেকে সিইসি, চার
নির্বাচন কমিশনার ও কমিশন সচিব নির্বাচন কমিশনে আসেন।
ইসি কর্মকর্তারাও
ভোটের তফসিল ঘোষণার সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে রাখে। জেলা প্রশাসকদের
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা
উল্লেখ করে পরিপত্র-এর খসড়াও তৈরি রাখা হয়।
প্রধান নির্বাচন
কমিশনারের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ, তফসিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ,
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো পরিপত্রসহ যাবতীয় প্রজ্ঞাপনের ‘খসড়া’ প্রস্তুত করে রাখা হয়।
একজন নির্বাচন কমিশনার
সংশোধিত আচরণবিধির গেজেট দ্রুত প্রকাশে আইন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ‘খুটিনাটি’ বিষয়ও ঠিক করে আসেন। রাত নয় টার
মধ্যে এ গেজেট প্রকাশের কথা রয়েছে।
ইসি সচিব নির্বাচন
কমিশনারদের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্রিফও করে আসেন।
বিকালে সিইসির কক্ষে
অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে একে একে অন্য নির্বাচন কমিশনার
অফিস ছাড়েন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়
ইসির সিঁড়ির কাছে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিইসি।
সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ (ফাইল ছবি)
ইসির পছন্দ ৫ জানুয়ারি
তফসিলের বিষয়ে সিইসির
ভাষণের খসড়াও প্রস্তুত রাখা হয়। ইসির অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সিইসির ভাষণের কপি নিয়ে
পর্যালোচনাও হয়। রোববার পর্যন্ত ইসির পছন্দের তারিখ ছিল ৫ জানুয়ারি।
ভাষণের খসড়ায় দশম সংসদ
নির্বাচনের ভোটের তারিখ রাখা হয় ৫ জানুয়ারি। সেক্ষেত্রে মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৬
ডিসেম্বর, বাছাই ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর উল্লেখ করা
হয়।
সোমবারের মধ্যে তফসিল
দেওয়া হবে বলে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ চাঁদপুরে সাংবাদিকদের
জানিয়েছেন।
কমিশন সভায় এ তারিখ
ফের পর্যালোচনা হতে পারে বলে জানায় ইসি কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তারা
জানান, ভোটের শেষ সময়ের আর বাকি দুই মাস। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বলেছেন,
৪০-৫০ দিন সময় রেখে ইসি তফসিল ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে ৫ থেকে ১৩ জানুয়ারির মধ্যে
ভোটের তারিখ রাখতে হবে।
তফসিল দেয়ার সময় সব দলের অংশগ্রহনে প্রয়োজন হলে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ
দিতে পুনতফসিল করার সময়ও হাতে রাখে ইসি। এছাড়া ভোট শেষ হওয়ার পরে ফলের গেজেট
প্রকাশ, শপথ ও কয়েকটি এলাকার পুনভোট [ভোটকেন্দ্র বন্ধ থাকলে] করার অতিরিক্ত সময়ও
রাখতে হয়।
দশম সংসদের তফসিল ঘোষণার জন্যে ভোটের দিনের আগে ন্যূনতম ৩৮ দিনের
প্রস্তাবনা তুলে ধরবে ইসি সচিবালয়। এক্ষেত্রে মনোনয়ন দাখিল ১০-১২ দিন, যাচাই-বাছাই
দু’দিন করে ৪ দিন,
প্রত্যারের সময় ৭ দিন ও প্রচারণার জন্যে ১৫ দিন সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গত নয়টি সংসদ নির্বাচনে ভোটের জন্য সর্বোচ্চ ৭৮ দিন ও সর্বনিম্ন ৪২ দিন
রেখে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কখনো কখনো পুনঃতফসিলও করে।
এক্ষেত্রে ৩৭দিন-৩৯ দিন পর্যন্ত সময় রাখা হয়।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, প্রথম সংসদ নির্বাচনে ৬০
দিন, দ্বিতীয় ৫৪ দিন, তৃতীয় ৪৭ দিন, ৪র্থ ৬৯ দিন পঞ্চম ৭৮ দিন, ষষ্ঠ ৪৭ দিন, সপ্তম
৪৭ দিন, অষ্টম ৪২ দিন এবং নবম সংসদ নির্বাচন ৪৭ দিন সময় নিয়ে তফসিল ঘোষণা করে
নির্বাচন কমিশন।
একমাত্র অষ্টম সংসদ নির্বাচনেই সবচেয়ে কম সময়ে ভোট হয়। সর্বশেস নব সংসদে সব
দলের অংশগ্রহণে পুনঃতফসিল করতে হয়েছে।
আইজিপির চিঠি
বিকালে পুলিশ মহা
পরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত একটি
চিঠি পৌঁছে ইসি সচিবের কাছে।
শান্তিপূর্ণভাবে ভোট
অনুষ্ঠান ও মাঠ পরর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে সব ধরনের
সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।