Advertisement

‘একি করলেন এরশাদ কাকু?’

- শাহেদ ইমরান মিজান : দেশের গণ মানুষের আশা-আকাঙ্খাকে মিথ্যা প্রমাণ করে, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শেখ হাসিনার সাথে সমঝোতায় আসলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। গতকাল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণাধীন তথাকথিত সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীপরিষদে যোগ দিয়ে তার চূড়ান্ত রূপ দিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদ। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের বিপুল জনগণ এতদিন তাকে নিয়ে যে প্রত্যাশা করেছিলেন তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এ নিয়ে এসব জনগণ চরম ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে “নির্বাচনে গেলে জনগণ আমাকে থুথু দেবে” গণমাধ্যমে এরশাদের দেয়া এ বক্তব্য ক্ষুব্ধতা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে ফেইসবুক, টুইটারসহ সব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেগুলোতে ঝড় উঠেছে। ঝরে পড়েছে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের অগ্নিশিখা। ফেইসবুকে গভীর হতাশা প্রকাশ শাহেদ নামে একজন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘চুরমার করে দিলেন আমাদের সব স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। একি করলেন এরশাদ কাকু?’ তিনি আবার মন্তব্যে লিখেছন, ‘এ প্রশ্নটি যুক্তির নিরিখে অখন্ডনীয় হলেও এরশাদ কাকুর কাছে তা অমূলক ঠেকবে। কারণ তার নিজের কথাই যেখানে তার কাছে অমূলক ঠেকে!’ আমার বাংলা নামে একজন মন্তব্য লিখেছেন- মানসিক ভারসাম্যহীন লোকের এরকম হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ তিনি সকালে যা বলেন বিকালে তা ভুলে বসেন। দোষ কি তার! মনে হয় বয়সের দোষ। কক্সবাজারের বিশিষ্টজন সিবিএন সম্পাদক আকতার চৌধুরী লিখেছেন- রাজনৈতিক টাউট’ এরশাদ আমাদের আরো কতকিছু দেখাবে আল্লাহ জানে!’ তার এ স্ট্যাটাসের মন্তব্যে মাসুদ সরওয়ার আলম ব্যঙ্গ করে লিখেছেন- এরশাদের এই রকম নাচানাচি দেখে একটা অনুমান করা যায় যে দেশে এইবার স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে। মোহাম্মদ রশীদ চৌধুরী মনি লিখেছেন- হেতে একা টাউট না, হেতেনের লগে যারা আছে তারাও টাউট, কি আর করবো বেচারা! কথায় আছে না-জলে থাকলে কুমিরের ভয় আর ঢাঙায় থাকলে বাঘের ভয়। হেতেনরে দোষ না দিয়া আবেগী জনগনকেই ভাবতে হইবো ১৪ না ১৮,না আবার ১/১১। শাহজাহান চৌধুরী নামে একজন স্ট্যাটাস লিখেছেন, ‘মুনাফিক এরশাদের গালে জুতা মারেন।’ জিসান মেহবুব নামে একজন অন্ত্যমিল- চাচা মিয়া শিরোনামে স্ট্যাটাস লিখেছেন- “স্বঘোষিত বেঈমান, কারো কাছে এতটুক নেই মান। কথা-কাজে শুধু খায় ডিগবাজি, তারে নিয়ে ধরা যায় বিগ বাজি। ক্ষমতার সিঁড়ি হয় প্রতিবার ঠকে ঠকে তার মন অতি ভার। চাচাজির মতিগতি ঠিক নেই কোন পথে হাঁটবে সে দিক নেই। এই আছে এই নেই রাজনীতি চাচাজির নেই কোনো লাজ-নীতি।” এর প্রতিক্রিয়ায় একজন মন্তব্য করেছেন- কাঁশফুল কাঁশফুল জাতীয় বেঈমান, ৃ. এটাতেও আছে অনেক মান। আরেকজন মন্তব্য করেছেন- আজ থেকে এরশাদকে জাতীয় বেঈমান ঘোষনা করা হল। সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিন।’ আরেকজন লিখেছেন- লেঞ্জা কাক্কু কেমনে সোজা হবেন? কুকু………. রেরটাই যখন বাকাঁ!! সৈনিক নামে এক ফ্যানপেজে ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’ শিরোনামে স্ট্যাটাসে লিখেছেন- এরশাদ এদেশের একসময়ের ঘৃণ্য স্বৈরাচারী শাসক ছিলো, যা সর্বজনবিদিত। বর্তমান আওয়ামী সরকার ডঃ তুহিন মালিকের ভাষায় একটি ‘সাংবিধানিক স্বৈরাচার’। রতনে রতন সর্বদা ভালোরূপেই চেনে। এরশাদের শাসনকালে হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এরশাদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে ছিলো। এ মেয়াদে এরশাদ সেই হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে পুরো মেয়াদ সরকারের অংশীদার থেকে এখন ঠিক নির্বাচনের তোড়জোড়ের সময় তাদের যৌথ দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা মোতাবেক অপরাপর বৃহৎ বিরোধীদলগুলোর অনুপস্থিতিতে একটি গৃহপালিত বিরোধীদল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য নির্লজ্জ দৌড়-ঝাপ শুরু করেছেন। স্বৈরাচারীদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই। ইনশা’আল্লাহ! শ্যাওলা নামে এক ফ্যান পেজে ‘ফুলের মতো পবিত্র এরশাদের চরিত্র!’ শিরোনামে স্ট্যাটাস লিখেছেন- অনেক বিটের মধ্যে আমার অন্যতম পলিটিক্যাল বিট ছিল জাতীয় পার্টির রিপোর্ট! অনেক রিপোর্টিং’এর মতো এ রিপোর্টিংও আমি খুব এনজয় করতাম। জাপার নেতাদের মজা করে বলতাম, আপনাদের এটি এমন একটি পার্টি যেটির নানা ইনফরমেশন শুনতে মজা লাগে, লিখতে মজা লাগে এবং পড়তেও মজা লাগে! কারন এতে পলিটিক্যাল গিরিঙ্গি, অর্থনৈতিক দুর্নীতির পাশাপাশি সেক্স-ক্রাইম সবই আছে! রাজনৈতিক নীতি আদর্শের বালাই না থাকায় এ দলের নেতাকর্মীদের মূল কাজটি হলো এরশাদ তোষন! এর মাধ্যমে দলটিতে পদ মিলে বা পদ যায়! কখনও রওশন কখনও বিদিশা যে নারী যখন এরশাদের কল্যানে পাওয়ারফুল থাকতেন, তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন এ দল! উল্লেখ্য রাজনীতিতে সম্পূর্ণ আনকোরা বিদিশাকে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্যও করেছিলেন এরশাদ! সাবেক বান্ধবী এবং প্রেমিকা জিনাতকে করেছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি! কোন নেতার বহুগামিতা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী বিষয়ক এমন সংযোজন-বিয়োগের নজির দ্বিতীয় কোন দলে নেই! এরশাদ ভক্তরা এসব জায়েজ করতে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় বলতেন- আজা-বাদশাদের এমন এক-আধটু দোষ থাকে! জাতীয় পার্টির নেতারা অবশ্য এরশাদকে তাদের ‘স্বপ্ন ও স্বপ্নদোষ’ হিসাবেই জানেন! এ দলটির স্বপ্নের নামটি এরশাদ। ধবংসের নামটিও এরশাদ! হারুন চৌধুরী নামে একজন মন্তব্য লিখেছেন- লুইচ্ছা এরশাদ মনে হয় প্রেমের প্রতিদান দিচ্ছে। আমান উল্লাহ আহারী মন্তব্য করেছেন- প্রেমের একি কী মধুর সম্পর্ক! স্টাইল ও ফ্যাশন দুনিয়া নামে ফ্যানপেজের স্ট্যাটাস- হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ যদি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতো তাহলে নিম্নরূপ হতো… হুমু এরশাদ: মহাজোটে ছিলাম, আছি, থাকব। ৫৩ মিনিট আগে। হুমু এরশাদ: সব দল না এলে নির্বাচনে যাব না। ৪১ মিনিট আগে। হুমু এরশাদ: এককভাবে নির্বাচন করব। ৩৫ মিনিট আগে। হুমু এরশাদ: কোন জোটে থাকব না। ২৪ মিনিট আগে। হুমু এরশাদ: নতুন জোট গঠন করব। ২২ মিনিট আগে। হুমু এরশাদ: নির্বাচনে যাব না। ৮ মিনিট আগে। হুমু এরশাদ: নির্বাচনে যাব। আরো অনেক স্ট্যাটাস শালীনতা বিবর্জিত হওয়ায় তা ছাপার মেশিনে আসার অধিকার পায়নি।