Advertisement

আইনজ্ঞদের মতামত নেবে ইসি

নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী বৃহস্পতিবার কমিশনে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় সবার জন্যে সমান সুযোগ তৈরিতে বিদ্যমান আচরণবিধি সংবিধানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিধিতে সংশোধন আনতে হবে। যদি প্রয়োজন হয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেব।”

এদিকে নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল রেখে হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এখনো ‘স্পষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ।
তিনি বলেন, “আমরা এখনো ক্লিয়ার নই। সেদিন দেখেছি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। আল্টিমেটলি এটা রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। সংসদ বহাল থাকলে কী হবে, ভেঙে গেলে কী হবে- তা আমরা জানি না।”
বিগত নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্যও মনে করেন, এ অবস্থায় সার্বিক বিষয়ে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নিতে ইসি আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারে। তারাও আইন সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইনজ্ঞদের মত নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, ২৫ অক্টোবর হবে নবম সংসদের শেষ কার্যদিবস। সংবিধান অনুযায়ী, এ সরকারের মেয়াদ শেষের আগের ৯০ দিনে নির্বাচন হবে। সেক্ষেত্রে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।
পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির অন্যতম প্রণেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, নির্বাচন কীভাবে হবে তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। সরকার প্রধান সংসদ ভেঙে দিতে অনুরোধ না করলে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। আর সংসদ ভেঙে দিলে হবে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে।
কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদ বহাল থাকায় এবং মন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আচরণবিধির বিষয়টি কীভাবে সামাল দেয়া হবে তা নিয়ে স্পষ্ট নয় ইসি।
বিএনপি ইতোমধ্যে অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জনসভায় নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। কমিশন বলেছে, তফসিল ঘোষণার আগে আচরণবিধির বিষয়টি ইসি দেখে না। তবে নির্বাচনকালীন ৯০ দিনে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়ার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে- সে প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে ইসি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “সবার জন্যে সমান সুযোগ তৈরিতে কাজ করব। এখনো সময় রয়েছে। আইনগত বিষয়গুলো বিশদ বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
কমিশন ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
একজন নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনকালীন আইনগত কিছু বিষয় নিয়ে ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ কয়েকটি দেশের নির্বাচনী আইন পর্যালোচনা চলছে। ‘নতুন অভিজ্ঞতায়’ ইসির কার্যকালে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি ‘কীভাবে নিশ্চিত করা যায়’ তা নিয়েও ভাবছেন তারা।
তবে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করার প্রয়োজন পড়বে না বলেই মনে করছে ইসি। আচরণবিধিমালা সংশোধন করতে হলে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে কয়েকদিন সময়েই ইসি সচিবালয় তা প্রণয়ন করতে পারবে।
এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিগত কমিশন তাদের মেয়াদে ‘আইনি জটিলতা’ এড়াতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল হোসেন, সাবেক এটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ইসির নিজস্ব আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতামত নিয়েছিল।
নির্বাচনকালীন ৯০ দিনের বিষয়ে সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদে কমিশনের দায়িত্বের বিষয়গুলো বলা হয়েছে। কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান ইসিকে আচরণবিধি নিয়ে ‘আইনগত জটিলতায়’ পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন।
সাবেক এ আইন সচিব বলেন, “ওই সময়ে ইসির ভূমিকা কী হবে তা আলোচনা করে স্বচ্ছ্ব হওয়া দরকার। মন্ত্রী-এমপিদের ডিল করার বিষয় রয়েছে। সব কিছু একেবারে পরিষ্কার হতে হবে। নিজেরা বসে আলোচনার পরও কিছু বিষয়ে কনফিউশন থাকলে আইনজ্ঞদের মত নেয়াই ভাল।”
২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচন স্থগিতের পর আলোচিত নবম সংসদের ভোট হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। ওই সময় তফসিল ঘোষণার পর তিনবার ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে হয়।