Advertisement

জামায়াত ‘নিষিদ্ধে’ কার লাভ কার ক্ষতি

সাজেদুল হক: রাজনৈতিক ইস্যুর আইনি মিমাংসা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এমনকি সংবিধান সংশোধনের মত ইস্যুকেও রাজনৈতিক ইস্যু বলে এড়িয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশের হাইকোর্টের সর্বশেষ রায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও ঝড় তুলেছে। যে রায়ে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও বিশেষ বেঞ্চের তিন বিচারপতি এ ব্যাপারে একমত হতে পারেননি। বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম এবং বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের মধ্যে কে রায়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন তা সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় আদালত বলেননি। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিষয়টি খোলাসা হবে। তবে হাইকোর্ট সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জামায়াতকে সার্টিফিকেট ইস্যু করায় একটি বিষয় নিশ্চিত হয়ে গেছে, জামায়াতের নিবন্ধন ইস্যুতে শেষ কথা সুপ্রিম কোর্টই বলবে।
এইসবই আইনি মিমাংসার বিষয়। এর চেয়ে বড় হিসাব কষছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ জামায়াতকে নিয়ে এখন পুরোদমে সক্রিয় রাজনীতির কারবারিরা। বিএনপিবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ল্যাপটপ পরিকল্পনার কারণে সরকারের একটি অংশের কাছে জামায়াত এখনও গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে পর্দার অন্তরালে জামায়াত নেতাদের একটি অংশের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারকরা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এ নিয়ে কয়েক দফায় কথা বলেছেন জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে। তবে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতা, যারা বর্তমান সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন ধরনের সমঝোতায় যেতে রাজি নন। অন্যদিকে, সরকারের নীতিনির্ধারকরাও যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে ছাড় দেয়ার পক্ষপাতি নন। যে কারণে সরকার-জামায়াত আলোচনায় তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। এরই প্রতিক্রিয়া হিসেবে জামায়াতের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে চাপের মাত্রা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন জামায়াত নেতারা। জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, ট্রাইব্যুনালের রায়ে যিনি যাবজ্জীবন কারাদ- পেয়েছিলেন তাকে নিয়ে দলটিতে এরই মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দলটির আরেক সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল কারগার থেকে দলকে সংস্কারের জন্য চিঠি দিয়েছেন বলে একটি অসর্থিত সূত্র দাবি করেছে।
নির্বাচনী রাজনীতিতে দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধ হলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর কার জন্য কি লাভ বয়ে আনবে তারও হিসাব করছেন পর্যবেক্ষকরা। নিবন্ধন বাতিল শেষ পর্যন্ত শাপে বর হতে পারে জামায়াতের জন্যও। নতুন কোন নামে দলটির আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে এর মাধ্যমে। দলটির তরুণ প্রজন্মের সামনে কালিমা মুক্তির পথও তৈরি হতে পারে এর মাধ্যমে। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, বাংলাদেশের ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দুনিয়াব্যাপী আদর্শভিত্তিক বিভক্তির রাজনীতি বিলুপ্ত হলেও নতুন ফরম্যাটে বাংলাদেশের ভোটাররা ডান এবং বামে বিভক্ত। জামায়াতের ভোটাররা নিশ্চিতভাবেই ডান ব্লকের। যে দলটির ৪ থেকে ৮ ভাগ ভোট রয়েছে বলে মনে করা হয়। জামায়াত নিষিদ্ধ হলেও এ ভোটারদের ভোট সিংহ ভাগই বিএনপির দিকে যাওয়ার কথা। এক্ষেত্রে জামায়াত নিষিদ্ধের কৌশলের রাজনীতি কতটা সুফল বয়ে আনে তার উত্তর একমাত্র ভবিষ্যতই দিতে পারবে। অপেক্ষা করাই আমাদের জন্য শ্রেয়। মানবজমিন

Post a Comment

0 Comments