Advertisement

স্বাধীনতাকামী মানুষ আজ হতাশ-আশঙ্কিত



ফকীর আবদুর রাজ্জাক
 দেশের রাজনীতি বেশ জমে উঠেছে। বাজেট (২০১৩-১৪) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। পাস হওয়ার আগেরদিন বিরোধী দলের নেতা ও সরকারি দলের নেতা সমাপ্তি বক্তব্য রেখেছেন। বিরোধী দলের নেতা
হিসেবে খালেদা জিয়া একটি পূর্বলিখিত ও পরিকল্পিত ভাষণ দিয়েছেন। তার সেই ভাষণটি ছিল নীতিনির্ধারণী। দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনীতি ও অতীত এবং আগামী দিনের করণীয় ইত্যাদি নিয়ে অত্যন্ত সংযত সুরে তিনি তার বক্তব্য রেখেছেন। তার বক্তব্যের সঙ্গে অন্যদের দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু বলতেই হবে বিরোধী দলের নেতার ভাষণটি ছিল বেশ সুচিন্তিত ও সুলিখিত। অন্যদিকে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী স্বভাবজাত অলিখিত উপস্থিত বক্তব্য রেখেছেন। শুধু পয়েন্টসগুলো লিখিত ছিল। তবু অনেক ক্ষেত্রেই তিনি খেই হারিয়ে ফেলেছেন। বক্তব্যের বিষয় থেকে বারবার সরে গেছেন। তবু সব মিলিয়ে মিলিয়ে তার বক্তব্য ছিল তথ্যসমৃদ্ধ। সাড়ে চার বছরে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনীতির গতি যে আগের তুলনায় বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়াতে সরকার সক্ষম হয়েছে তা তথ্যবহুলভাবে সংসদ নেতা তুলে ধরেছেন। তবে পদ্মা সেতু, জিএসপি ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সমাজের এক বিরাটসংখ্যক মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এসব ব্যাপারে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্য ছিল তীক্ষ্ম ও আক্রমণাত্মক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে। তাদের স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছেথ বাংলাদেশের গার্মেন্ট কারকাখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়। এ ব্যাপারে তারা আগেই সতর্ক করে আসছিল কিন্তু কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বার্থের পক্ষে সরকার যথার্থ পদক্ষেপ নেয়নি। এর মধ্যে রানা প্লাজা ভেঙে পড়া এবং ১১শ'-এর বেশি নিরীহ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার আগে তাজরীন গার্মেন্টে অগ্নিকা- ও অনেক শ্রমিকের মৃত্যুর পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ আরও বেশি নাখোশ হয়ে পড়ে এবং জিএসপি সুবিধা বাতিলের দিকে অগ্রসর হয়। শেষ পর্যন্ত তারা তা বাতিল না করে স্থগিত করেছে। অর্থাৎ এখনও যদি দ্রুত গার্মেন্টে কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উন্নতি সাধন করা যায় তাহলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জিএসপির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতেও পারে।

এ বিষয়টি নিয়ে ২৯ জুন সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মার্কিন সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার লেখা একটি নিবন্ধ অথবা চিঠি প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছেন- 'জিএসপি সুবিধা বন্ধ করার ব্যাপারে বিরোধীদলের নেতাই উসকানি দিয়েছেন।' এছাড়া ওই চিঠিতে তিনি দেশ ও দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়েই এমনসব কথা বলেছেন যা দেশবিরোধী অপরাধের তুল্য। তেমন সরকার হলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হতে পারত। প্রধানমন্ত্রীর সেদিন সংসদে ওই ভাষণ দেয়ার পর নাকি বিরোধী দলের নেতা এক ফাঁকে বলেছেনথ ওই নিবন্ধ আমার লেখা নয়, সংসদ নেতার লেখা হতে পারে। খালেদা জিয়া নিজে 'সুশিক্ষিত' হতে পারেনথ দেশের অসংখ্য মানুষ কিন্তু তা নয়। যদি 'ওয়াশিংটন টাইমসে ওই লেখা তার নয় অথচ তার নামে তা প্রকাশ পেয়েছে তাহলে কেন তিনি তার প্রতিবাদ করেননি ছয় মাসেও? জিএসপি স্থগিত হওয়ায় অর্থনীতির চেয়ে ইমেজের ক্ষতির পরিমাণ বেশি। কারণ, দেশের মোট রফতানির তুলনায় একভাগের মতো গার্মেন্ট রফতানিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্বাভাবিক নিয়মে যা করা হয় ইউরোপীয় দেশগুলো যদি জিএসপি সুবিধা স্থগিত বা বাতিল করে তাহলে অর্থনীতির ক্ষতি হবে বিরাট। সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়ে গার্মেন্টের কর্মপরিবেশ উন্নত করে চলেছে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতাও বাড়িয়েছে আগের তুলনায় দ্বিগুণ। ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ কার্যকর হলে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে দেশের গার্মেন্ট মালিকরা জিএসপি স্থগিতের দায়দায়িত্ব এড়াতে পারে না। মুনাফার পেছনে ছুটতে গিয়ে এতটাই অন্ধ হয়ে পড়েছিলেন যে, ভালো ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক স্বার্থের কথা তারা বিবেচনায় রাখেননি।

পদ্মা সেতু ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সেদিন সংসদে বিরোধী দলের নেতা যে তির্যক বক্তব্য রেখেছেন তা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়ার নয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে যে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছিল তা আজ দেশের কোন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থা এবং ওয়াকিবহাল মহলও অস্বীকার করতে পারছেন না। দেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও কানাডায় চলমান মামলার দিকে তাকালেই সচেতন মানুষ বুঝতে পারেন। সরকারের উচিত ছিল এতবড় বিশাল প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়ার আগেই অতিমাত্রায় সতর্ক থাকা। কিন্তু সরকার তেমন দেখেনি বলেই ষড়যন্ত্র করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবু ভালো, ষড়যন্ত্রটা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। এবার নিজের শক্তিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ যদি সফল হয় তা হবে জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। তবে কাজটি যে খুব সহজ নয় তা বোধকরি সংশ্লিষ্টরা অনুধাবন করতে পারছেন না। আইনশৃঙ্খলার প্রসঙ্গে বিরোধীদলের নেতার বাজেটের ওপর দেয়া ভাষণে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তার মধ্যে কিছু অভিযোগ গায়ের জোরে অস্বীকার করা যাবে না। অতীতের সঙ্গে তুলনা না করে বর্তমানের অবস্থা নিয়ে যদি আলোচনা করা যায় তাহলে সার্বিক অর্থেই দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা ভালো না। সরকারের কাছ থেকে জাতি আশা করেছিল আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নতি হবে। অতীতের ন্যায় সবকিছুর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কিন্তু বাস্তবে তা থাকেনি। হত্যা, দখল, জখম, মারপিট, দস্যুতা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলেছে। মাত্রা কোন ক্ষেত্রে বেশি কোন ক্ষেত্রে কম। বিরোধীদলের নেত্রী ছাত্রলীগ-যুবলীগের বেপরোয়া কর্মকা-ের কঠোর সমালোচনা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ছাত্রদল, যুবদলের অতীত কর্মকা-ের ব্যাপারে কিছু বলবেন না। দেশবাসীর সামনে এখন বর্তমান সময়। বর্তমানে যা ঘটছে তা নিয়েই জনগণ বিচার করবে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের একটি বেশ বড় অংশই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখল, মারপিট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাঙ্গনে যেভাবে নিন্দনীয় এবং নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে তা দেশের সাধারণ মানুষও একেবারেই ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। ইতিপূর্বেও বলেছি- বিরোধী মহলের মিথ্যা বা অসত্য প্রচারে সরকারের ইমেজের যতখানি ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের একশ্রেণীর কর্মী পরিচয়ের লোকদের ঘৃণ্য কৃতকর্মে। স্বাভাবিক নিয়মেই এ জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে বিরাট মূল্য দিতে হবে। অর্থাৎ দেশের সার্বিক রাজনীতি-অর্থনীতি-আইনশৃঙ্খলার ওপর ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ যখন নড়বড়ে হয়ে যায় তখন মিথ্যা, অসত্য, গুজব সবই মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠে। আওয়ামী লীগ কী এখন সেই পরিস্থিতির মধ্যে নিমজ্জিত?

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতা পরিকল্পিত উপায়ে বা গুছিয়ে দিতে পারেননি। কারণ তিনি বিরোধী দলের নেতার মতো পরিকল্পিত লিখিত বক্তৃতা দেননি। পৃথিবীর প্রায় সব রাষ্ট্রনায়কই তাদের বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন লিখিতভাবে, যা আজ বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ। সেদিন প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সরকারি তথ্য-উপাত্তের বিবরণ দিয়েছেন সঠিকভাবেই। কিন্তু প্রতিপক্ষের আক্রমণের অকাট্য গ্রহণযোগ্য প্রত্যুত্তর দিতে পারেননি। অপ্রিয় হলেও এ কথাগুলো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও কারও মনেই আবেদন সৃষ্টি করেনি। চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একযোগে সরকারদলীয় প্রার্থীর পরাজয় ঘটেছে। ওইসব এলাকার উন্নয়নের কথা বলা হলেও ব্যর্থতার কথাগুলো পরিষ্কার করে কেউ বলেননি। অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ সবাই তা জানে। শুধু ব্যাপক উন্নয়নই যে একটি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় তা আর কতদিনে দলীয় নেতারা অনুধাবন করবেন তা কেউই জানে না। সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনীতি সচেতন মানুষের মনে হয়েছে তারা সরকারি প্রশাসনকে দক্ষ ও গতিশীল করার প্রশ্নে, বিরোধী মহলের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রশ্নে, ১৪ দল জাতীয় পার্টিকে আস্থায় নিয়ে ঐক্য বজায় রাখার প্রশ্নে, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জোরদার করে তা চালু করার প্রশ্নে, ড. ইউনূসকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোর প্রশ্নে সর্বোপরি নিজের দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে সুশৃঙ্খল ও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রশ্নে সঠিক ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে আজ সব ক্ষেত্রে এক ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে বা আসতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই অনিবার্য পরিণতি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

যে কোন দেশপ্রেমিক সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত, জাতীয় জীবনে সাময়িকভাবে চেপে বসা এবং দীর্ঘকাল ধরে চেপে বসে থাকা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঝুঁকি যাই-ই আসুক তা তোয়াক্কা না করে কাজ করা। আবার কোন কোন সরকার ওই ধরনের ইস্যুকে চাঙ্গা করে তা ঝুলিয়ে রাখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুটি জাতীয় জীবনের ওপর চেপে বসে থাকা দীর্ঘকালের একটি বিষয়। ঝুঁকির কথা মনে না রেখে তার বিচার সম্পন্ন করা হবেথ এটাই দেশের প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের দাবি। সরকার ওই দাবির সঙ্গে ঐকমত্য থেকেই বিচারের কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু বিলম্বে বিচার শুরু এবং কালক্ষেপণের মাধ্যমে পরিস্থিতি এখন এমন এক সময়ে এসে পৌঁছেছে যে, দেশের প্রত্যেক সচেতন মানুষের মনেই প্রশ্ন জেগেছে- সরকার কি পারবে চলমান বিচার সম্পন্ন করতে? এখন তো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির যে অবস্থা এবং জনপ্রিয়তাও যে পর্যায়ে তাতে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তর থেকেই যদি দাবি উঠে- যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ রাখার বা গতিশ্লথ করার তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ, দেশের সাধারণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। অথচ দেশবাসীকে আশান্বিত করা হয়েছিলথ যে কোন মূল্যে, যত ঝুঁকিই আসুক- সরকারের মেয়াদের মধ্যেই যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে কি বিচার সম্পন্ন করে তার রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে? আর সেটা যদি সম্ভব না হয় এবং দেশে যদি আগামীতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে তাহলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে যুদ্ধাপরাধের বিচার করার বিষয়টি? জনগণ আতঙ্কিত। ঝুঁকির আশঙ্কায় হয়তো সবই ভেস্তে যাবে।

সবকিছু মিলিয়েই দেশের সামগ্রিক অবস্থার সঙ্গে সরকারের অবস্থাও নৈরাজ্যকর। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কারও জানা নেই। সরকার ও বিরোধীদলের দুই নেত্রী সেদিন যে বাজেট বক্তৃতা করেছেন সেই পার্লামেন্টের মর্যাদা ও মান কি তারা উন্নত করতে পেরেছেন নাকি সংসদের মান দিন দিন নিম্নগামী হয়েছে? সংসদ অধিবেশন এখন অশ্লীল খিস্তির স্থান। ন্যূনতম শালীনতা, ভদ্রতা বা সৌজন্যতার স্থান নয় সংসদ। গুটিকয় সদস্যের কাছে অধিবেশন এখন জিম্মি। দেশের নেতা-নেত্রীরা কি কোনদিন আর পারবেন যোগ্য, শিক্ষিত, সৎ ও ভদ্রলোকদের মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠাতে? এ জীবনে বোধহয় আর সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো পারবেন কিন্তু আমাদের তা দেখে যাওয়া হবে না। অথচ স্বাধীনতার ৪২ বছরে এসে দেশের সচেতন মানুষ একান্ত মনে কামনা করেছিলেন সংসদ যথার্থই কার্যকর হবে। গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনার স্থান হবে। অবশ্যই আইন প্রণয়নের মতো উন্নত প্রজ্ঞা প্রদর্শনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য জাতির, জাতীয় সংসদ এ পর্যন্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ভঙ্গুর গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গে সংসদও এখন ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকারগুলো এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দূরদর্শী কোন ভূমিকাই রাখতে পারেনি। অথচ নেতারা সবাই গণতন্ত্রের নামে প্রতি মুহূর্তে 'জীবন উৎসর্গ' করতে মরিয়া।

জমজমাট রাজনীতির খেলায় কে শেষ হাসি হাসবে সেটা দেখার জন্য আর মাত্র কয়েকটা মাস অপেক্ষা করতে হবে জাতিকে। তবে সরকারিদলের সব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ যে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে তা বেশ স্পষ্ট। এ অবস্থায় মাত্র ৪-৫ মাসে সরকারি দল বা সরকার কতখানি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে সেটাই দেখার বিষয়। তবে অভিজ্ঞমহলের ধারণা- নিয়ন্ত্রণ আবার বলবৎ করা খুবই কঠিন ব্যাপার। তবু আশায় থাকবে স্বাধীনতাকামী জনতা। কারণ তাদের সামনে আজ শুধুই হতাশা।

[লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট]

Post a Comment

0 Comments