Advertisement

সাতক্ষীরায় স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা


সাতক্ষীরা: রঞ্জিলা খাতুন নামের এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের পর নির্যাতন চালিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশের গলায় দড়ি বেঁধে একটি খেজুর গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পাঁচরকী গ্রাম থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহত রঞ্জিলা খাতুন (২৫) তালা উপজেলার পাঁচরকী গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে।

নিহতের পিতা  কৃষক আবুল কাসেম জানান, রঞ্জিলা পাঁচরকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে। ২০০৪ সালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার নুর্নিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা ছিল না। একপর্যায়ে ২০১২ সালে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে তাদের তালাক হয়ে যায়।

নিহতের মা জিঞ্জিরা বেগম জানান, উপজেলার শাহপুর গ্রামের মামা লুৎফর শেখের অসুস্থ মেয়ে আফরোজাকে দেখার কথা বলে রঞ্জিলা শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। শনিবার সকাল ১০টার দিকে রঞ্জিলাকে বাড়ির পাশের আফফাজ সরদারের পুকুর পাড়ে একটি খেজুর গাছে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে খবর দেয়। নিহতের ব্যবহৃত ডবল সিমের মোবাইল সেটটি পাওয়া যায়নি।

তবে নিহতের কয়েকজন আত্মীয় জানান, স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে রঞ্জিলার ভালবাসার জের ধরে সে অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়ে। রঞ্জিলা তাকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল। বিয়েতে রাজী না হওয়ায় কৌশলে রঞ্জিলাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনামুল হক জানান, লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাম পায়ের কনিষ্ট আঙুলের নখ নির্যাতন করে উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে শুক্রবার রাতের কোন এক সময়ে তাকে ধর্ষণের পর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর লাশ নিহতের ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে খেজুর গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। লাশের কয়েকগজ দূর থেকে রক্ত, একজোড়া জুতা, ও বিড়ির প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।  এ ব্যাপারে নিহতের পিতা আবুল কাশেম বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০৩ এর ৯(১) (ক)/৩০ ধারায় শনিবার  থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মীর গোলাম মোস্তফা জানান, নিহতের খোয়া যাওয়া মোবাইলের সিমকার্ডের কললিষ্ট যাঁচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

Post a Comment

0 Comments