Advertisement

কক্সবাজারে নিরাপত্তাহীনতায় জাতির বিবেক সংবাদকর্মীরা


এইচ এম ইমরান
সংবাদকর্মীদের নীতি নৈতিকতা কে বিসর্জন না দিয়ে নির্ভীক সাহসী কলস সৈনিক ও বস্তুনিষ্ঠা সংবাদ লিখাই হচ্ছে সংবাদকর্মীর কাজ। কারণ সংবাদকর্মীরাই হচ্ছে সমাজ, দেশ ও জাতির দর্পন। রোদ, বৃষ্টি
মাথায় নিয়ে সারাদিন মাঠে ময়দানে বস্তুনিষ্ঠা সংবাদ পরিবেশনের জন্য মরিয়া ওই সংবাদকর্মীরা। কেন তারা আজকে এত অবহেলিত জানি না। সমাজ, দেশ ও জাতির দর্পন কি কাঁেচর মত ঝড় ঝড়ে ভেঙ্ড়ে পড়ে যাবে। বার বার সংবাদর্মীরা রাজনৈতিক দলের অসাধু নেতাকর্মীদের রোশানলের স্বীকার। তা হলে কি বস্তুনিষ্ঠা সংবাদ প্রকাশ করাই তাদের অন্যায়। সত্যের পথে কলম ধরা কি অন্যায়? সারা বছর কতই লাঞ্চনা বাঞ্চনা ঝড় ঝাপটা মাথায় নিয়ে নানা অপরাধের বোঝা নিয়ে সর্বস্তরের সংবাদ নিয়ে তুলে ধরে পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন রেডিওতে। কিন্তু সমাজের দর্পন সংবাদকর্মীদের খুঁজ কেউ রাখে না। সব সময় তারা নিরাপত্তাহীনতায়। হয়ত বা প্রশ্ন জাগতে পারে কেন বার বার সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে। সত্যেই তারা কি এত অসহায়? ঠিক তেমনি একজন অসহায় সংবাদকর্মীর চিত্র নিুে তুলে ধরা হল আমার শ্রদ্ধেয় জসিম ভাই যার পুরো নাম এম জসিম উদ্দিন ছিদ্দীকী। তিনি দৈনিক সাঙ্গুঁর জেলা প্রতিনিধি ও আলোকিত উখিয়া’র বার্তা সম্পাদক। সব সময় গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে অবহেলিত মানুষের নানা অপরাধ চিত্র তুলে ধরতেন তার লেখনিতে। হঠাৎ গত ১৮ জুলাই ২০১৩ইং তারিখ পল্লী চিকিৎসক নামের অপ চিকিৎসক শিমুল নাথের ভূল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় অসহায় কালা বানুর। ওই অপমৃত্যুর সংবাদটি ধারাবাহিক প্রচার করা হলে জসিম ভাইকে হুমকি দেয় শিমুল নাথের ছাত্রলীগ পরিচয়ী গোন্ডারা। এমনি গত ২১ জুলাই মোটর সাইকেল যোগে অজ্ঞাত নামা ওই সব সাইনবোর্ড ধারী গোন্ডারা রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সন্ত্রাসী কায়দায় তার বাসায় হানা দেয়। পরে সংবাদকর্মী জসিম ভাই বিষয়টি জানতে পারলে গত ২২ জুলাই রাত আনুমানিক ১ টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিডি করতে গেলে ডিউটি অফিসার নুর জাহান সেকেন্ড অফিসার শাহেদ উদ্দিনের রি-কমান্ড ছাড়া জিডি গ্রহণ করেনি। অথচ জিডি জমা দেওয়ার ৫ মিনিট আগেও জসিম ভাইয়ের সাথে সেকেন্ড অফিসারের কথা হয় বলে ডিউটি অফিসারকে জানান জসিম ভাই। এছাড়া তার পরিবার ও নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই জিডি গ্রহণ করার জন্য ডিউটি অফিসারের কাছে অনেক কাকতি-মিনতি করলেও সে জিডি গ্রহণ করেননি। কিন্তু গত ২ জুলাই দুপুর ১টার দিকে পুনরায় নিরাপত্তার স্বার্থে জিডি রেকর্ড করার জন্য বৈশাখী টিভির শফি ভাইসহ আরও ৩ জন সংবাদকর্মী সেকেন্ড অফিসারের কক্ষে উপস্থিত হলে তিনি অপচিকিৎসক শিমুলের বিরুদ্ধে জিডি নিতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। উপমা দিয়ে বলেন আলেয়ার পেছনে না ছুটি আলোর পেছনে ছুটেন। অবশেষে অনিরাপত্তাহীনতায় নিজের জীবনবাজী রেখে বুক ভরা আকুতি নিয়ে ফিরলেন জসিম ভাই। অপর দিকে অনুরোপ ভাবে আরেক সংবাদকর্মীর ও একই দশা। তিনি হলে কক্সবাজার বাণীর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার বিবিসি নিউজ, খবর তরঙ্গ ডটকম ও চাঁটগার বাণীর জেলা প্রতিনিধি এম. আমান উল্লাহ। তিনি আরেক প্রতিবাদী সংবাদকর্মী। অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে সমাজের ঝড়ে যাওয়া চিন্নমুল মানুষের কথা সহ অপরাধ অপকর্মের কথা নির্ভীক ভাবে সত্যতা যাচাই করে তুলে ধরেন। সংবাদপত্র রেডিও ও অনলাইন সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়। হঠাৎ করে গত ২ সপ্তাহ আগে তার পত্রিকা অফিসে আসার পথে কয়েক জন হলুদ সংবাদকর্মী চাঁদাবাজ তাকে মোটর সাইকেল চাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। সে ওই হলুদ সংবাদকর্মীদের মোটর সাইকেল চালার ভঙ্গিমা দেখে নিজেকে সাবধান করে নিল ওই মুহুর্তে। কিন্তু তারা ছাত্রলীগ পরিচয়ে এত বড় জঘন্য অপরাধ থেকে রক্ষা পেয়ে গেল। এ বিষয় নিয়ে থানায় জিডি করতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তারা ভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে তা করতে দেয়নি। কিন্তু সংবাদকর্মীদের উপর নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতা রয়েই গেল। কিন্তু সংবাদকর্মীরা সকলের সর্বস্তরের সংবাদ বহন করলেও তাদের সংবাদ কেউ রাখে না । সারা জীবন পরের বোঝা বয়ে গেল কিন্তু নিজের বুঝা নিজের ঘাঁড়ে রয়েই গেল। পরের গ্লানি টানতে টানতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ময়দানে সংবাদকর্মীরা। কে বা কারা অসহায় নিরাপত্তাহীন সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা দিবে? যেখানে প্রশাসনের সংবাদকর্মীদের জিডি গ্রহণ করা অসম্ভব আর ওই প্রশাসনের কাছে নিজের নিরাপত্তা পাওয়া কি সম্ভব? আমার এই প্রশ্ন সংবাদকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের কাছে।

Post a Comment

0 Comments