প্রেমের সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না মর্মে একটি রুল জারি করেছে মুম্বাইয়ের হাইকোর্ট।
এতে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্কের কারণে কোনো নারী কোনো পুরুষের সঙ্গে স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে গর্ভবতী হয়ে পড়লে এবং এরপর তার পুরুষ সঙ্গী তাকে ছেড়ে গেলে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না।
বোরিভালির বাসিন্দা মানেশ কোটিয়ানকে এ ধরনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার এবং তিন বছর ধরে আটক রাখার পর তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেন হাইকোর্টের বিচারক সাধনা যাদব।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে- গর্ভবতী ওই নারীর সঙ্গে তাকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই পুরুষের বিবাহবহির্ভুত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্ষণ আইনের ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী এ অভিযোগ ন্যায্য নয়।’
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অভিযুক্ত পুরুষটি অভিযোগকারী গর্ভবতী নারীকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করে তার সাথে যৌন মিলন করেন।
বিচারক বলেন, ‘অভিযোগকারী ওই নারী শিক্ষিত ও সাবালক ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে পুরোপুরিই ওয়াকিবহাল ছিলেন যে কোটিয়ান তার প্রতি আসক্ত। এরপর তিনি স্বেচ্ছায়ই তার সাথে গোরাই যেতে রাজি হন। ওই নারী তার জন্মদিন পালনের জন্য একটি হোটেলও নিয়ে যান তাকে। এর সম্ভাব্য ফল কী হতে পারে সে ব্যাপারেও তিনি অবুঝ ছিলেন না।’
এরপর তাদের মধ্যে যৌন মিলনের সময় ওই নারী কারো সাহায্যের জন্যও চিৎকার করেননি বা নিজে কোনো ধরনের বাধাও দেননি। ফলে যা ঘটার তা ঘটে যায়। এমন পরিস্থিতিতে এটা বলা নায্য হবে না, ওই নারীকে জোরপূর্বক ভয় দেখিয়ে বা প্ররোচিত করে বা পরিস্থিতির শিকার করে অথবা অপ্রত্যাশিত প্রভাব বিস্তার করে যৌন মিলনে বাধ্য করা হয়েছে।
তবে বিবাহিত হওয়া এবং নিজের সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে ওই নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার কারণে কোটিয়ানকে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত করে আদালত। তবে ইতোমধ্যেই যেহেতু সে তিন বছর জেল খেটে ফেলেছে, এজন্য তাকে খালাস করে দেয়ার আদেশ দেয়।
কোটিয়ানের আইনজীবী বলেন, কোটিয়ান সব সময়ই ওই নারীকে বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করতো এবং এ ব্যাপারে তাকে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। সে শুধু তার আগের স্ত্রীর সাথে তালাক প্রক্রিয়া শেষ করার অপেক্ষায় ছিল।
২০১০ সালের মার্চ মাসে চার মাসের অন্তসত্ত্বা হিসেবে ওই নারী তার প্রেমিক কোটিয়ানের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন মুম্বাইয়ের এক নিম্ন আদালতে।
বোরিভালির এক স্টেশনারি দোকানে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। ২০০৯ সালের নভেম্বরে ওই নারী কোটিয়ানের সঙ্গে তার জন্মদিন পালন করার জন্য গোরাইয়ের এক হোটেলে যায়।
এরপর ২০১০ সালের মার্চে ওই নারী চার মাসের অন্তসত্ত্বা হিসেবে কোটিয়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করার পর ২০১২ সালের এক রায়ে মুম্বাইয়ের আদালত কোটিয়ানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
কোটিয়ান এই রায়ের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের উচ্চ আদালতে আপিল করেন। হাইকোর্ট বলেন, এটা স্পষ্ট যে ক্ষোভের বশবর্তী হয়েই ওই নারী তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন।


0 Comments