এম.জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী কক্সবাজার
জেলা সদর হাসপাতালে লাশ গুম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ জুলাই সকাল ১১ টার দিকে অজ্ঞাত নামা লাশ (৫০) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর থেকে একটি সংঘবদ্ধ
চক্র হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে এই লাশটি গুম করে। জানা যায়, অজ্ঞাত নামা ওই লাশটি হচ্ছে শহরের এস এম পাড়ার মৃত পেঠান আলীর স্ত্রী কালা বানু (৫০)। গত ১ বছর যাবত পল্লী চিকিৎসক শিমুল নাথের কাছে চিকিৎসা নিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই সকাল ৯ টায় কালা বানু চিকিৎসা নিতে আসলে ওই সময় পল্লী চিকিৎসক শিমুলের ভুল চিকিৎসায় কালা বানু মৃত্যু ঘটে। পরে মৃত লাশটি ওই পল্লী চিকিৎসকের ছোট ভাই জনৈক রাখাল নাথের ছেলে নয়ন নাথ (৩০) কালা বানুকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। মৃত ঘোষনার পর পরই রহস্যজনক ভাবে লাশটি উধাও হয়ে যায়। প্রাপ্ত সূত্রে জান যায়, শুকতারা ফার্মেসীর চিকিৎসক স্থানীয় একটি প্রভাবশালীমহল ও হাসপাতালের কর্তব্যরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে হত্যা কান্ডের ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ছিল। কিন্তু বিষয়টি মিডিয়াকর্মীদের নজরদারীতে আসলে মিডিয়াকর্মীরা ঘটনাটি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে জানানোর পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে লাশটি গুম করতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে গুম হওয়া ওই লাশটি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কে বা কারা মর্গের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। সারাদিন ধরে মৃত কালা বানুর স্বজনরা কালা বানুকে খোঁজাখোজির পর অবশেষে সন্ধান মিলে পানবাজার সড়কস্থ শুকতারা ফার্মেসীতে। মৃতের স্বজনরা জানতে পেরে জেলা সদর হাসপাতালে ছুটেঁ যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান মর্গের সামনে বেওয়ারিশের একটি লাশ পড়ে আছে। পরে তাকে দেখে কালা বানুর স্বজনরা ওই লাশটি কালা বানু বলে শনাক্ত করে। হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, শুকতারা ফার্মেসীর পল্লী চিকিৎসক শিমুল নাথের ভূল চিকিৎসার কারণে ফার্মেসীতে তার মৃত্যু হয়। আসলে তারাও জানেন না কালা বানুর মৃত্যু কিভাবে হয়েছে। অন্যদিকে মিডিয়াকর্মীদের কাছে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই লাশটির বিষয় নিয়ে তার পরিচয় বের করার জন্য থানায় অবহিত করেন। এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুলতান আহমদ সিরাজী জানান, সকল আনুমানিক ১১ টার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নয়ন নামের এক যুবক একটি লাশ নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি আমি শুনি নাই। তবে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য উপ-পুলিশ পরিদর্শক নুরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, একা একা চিকিৎসা নিতে আসায় রাস্তায় পড়ে কালা বানুর মৃত্যু ঘটে। তবে দীর্ঘাদিন ধরে শুকতারা ফার্মেসীতে পল্লী চিকিৎসক শিমুল নাথের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা কালা বানু গতকাল সকাল ৯টার দিকে ওই ফার্মেসীতে চিকিৎসা নিতে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালা বানু নামে এক বৃদ্ধ মহিলা সকাল ৯ টার দিকে শুকতারা ফার্মেসীতে ঢুকতে দেখেছি। কিছুক্ষণ পর অজ্ঞান অবস্থায় নয়ন নামের ওই যুবক ফার্মেসী থেকে লাশটি বের করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, নয়ন নামের এক যুবক সকাল ১১ টার দিকে এক বৃদ্ধ মহিলার লাশ নিয়ে এসেছিল, আমরা তাকে মৃত ঘোষনা করেছি। কালা বানু পুত্র বধু জানান, হামিদা বেগম জানান, সকাল ৮ টার দিকে আমার শ্বাশুড়ি চিকিৎসার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে পড়ে। পরে সারাদিন বাসায় না ফেরায় অনেক খোঁজাখুজির পর হাসপাতালে মৃত অবস্থায় কালা বানুর লাশটি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আতœীয় স্বজনরা থানায় মুছলেখা দিয়ে লাশটি দাফনের জন্য নিয়ে যায়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পল্লী চিকিৎসক শিমুল নাথের ভূল চিকিৎসার কারণে দরিদ্র মহিলার মৃত্যু ঘটলেও আত্মীয় স্বজনরা অত্যন্ত দরিদ্র বিধায় প্রভাবশালীদের চাপের মুখে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশটি দাফন করতে বাধ্য হন।

0 Comments