Advertisement

ডলার কেনায় রেকর্ড


প্রবাসী আয়ের জোরে বিদেশি মুদ্রার মজুদে যেমন নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে, তেমনি গত অর্থবছরে বাজার থেকে সবচেয়ে বেশি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ডলারের দর ধরে রাখতে ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজার থেকে ৫১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলার কেনা অব্যাহত রয়েছে নতুন অর্থবছরের শুরুতেও।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি জুলাই মাসের প্রথম দশ দিনে (১০ জুলাই পর্যন্ত) কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার
কিনেছে।
গত বুধবার প্রতি ডলারের বিপরীতে পাওয়া গেলে ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন ডলারে দর ছিল ৮১ টাকা ৮৫ পয়সা।
অথচ দেড় বছর আগেই ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ৮৫ টাকায় পৌঁছেছিল।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির দর যেখানে অব্যাহতভাবে কমছে; সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার মান ক্রমশ বাড়ছে।
গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। আর দেড় বছরের হিসাবে বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি।
অন্যদিকে গত এক মাসে ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমেছে ৪ শতাংশের মতো। 
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার না কিনলে বাংলাদেশে টাকার বিপরীতে ডলারের দর আরও কমে যেত। সেক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।
রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ এন্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ডলারের দর ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে ‘এক ধরনের হস্তক্ষেপ’ করেছে। পুরো অর্থবছর জুড়েই বাজার থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
“রপ্তানি আয়, রেমিটেন্স ও প্রকল্প সাহায্য বাড়ায় এবং আমদানি ব্যয় কমে আসায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে দাম পড়ে গেছে। ডলারের দর আরও কমলে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যেতে পারে- এমন শঙ্কা থেকেই বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।”
ছাইদুর রহমান জানান, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১২-১৩ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ৫১২ কোটি ডলার (৫ দশমিক ১২ বিলিয়ন) কিনে নিয়েছে।
“তবে গত এক মাস ধরে ডলারের দর একই জায়গায় স্থির রয়েছে। আশা করছি, এর নিচে আর নামবে না।”
অন্যদিকে এক মাস আগেও যেখানে প্রতি ডলারের বিনিময়ে ৫৪ রুপি পাওয়া যেত, এখন সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৬০ রুপির মতো।
১৯৮৬ সালে প্রতি রুপির বিনিময়ে আড়াই টাকা পাওয়া যেত। ১৯৯৯ সালে এই ব্যবধান কমে আসে এবং রুপির মান দাঁড়ায় ১ টাকা ১৪ পয়সার সমান।   
গত এক দশকের উত্থান-পতনের পরও বর্তমানে প্রতি রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রার মান ১ টাকা ২০ পয়সা বা ৩০ পয়সার মধ্যে রয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেকর্ড ১৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারার ফলে বুধবার বাংলাদেশে ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যে কেনো সময়ের চেয়ে বেশি।
এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছিল।

Post a Comment

0 Comments