Advertisement

রোহিঙ্গা শিবিরে দু’শতাধিক ঝুঁপড়ি ঘর বিধ্বস্ত উখিয়ায় পাহাড়ী ঢলে কোটি টাকার চিংড়ী নদীতে


শাহ কামাল,উখিয়া  
দু’দিনের টানা বর্ষনে উখিয়া উপজেলায় পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে উপকূলীয় এলাকার অসংখ্য ঘর-বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনে বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ায় উপজেলার সদরের একটি গ্রাম সহ সরকারী দপ্তর ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে
গেছে। নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আমন বীজতলা ও চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাহাড়ী ঢলে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে ৭টি চিংড়ি প্রকল্পের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চিংড়ি উৎপাদনশীল এলাকা পালংখালী, বালুখালী ও থাইংখালী রহমতেরবিল এলাকায় প্রায় ৭টি চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। চিংড়ি চাষী কবির আহমদ (৪০) জানান, মিয়ানমার সীমান্তের পাহাড় থেকে আসা ঢলের পানিতে নাফ নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে চিংড়ি চাষাবাদ সহ শতাধিক একরের মত আমন বীজতলা ও চাষাবাদ বিলীন হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় চিংড়ি চাষীরা জাল দিয়ে মাছ রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে থাইংখালী এলাকায় আরকান সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারনে যানবাহন চলাচল সাময়িক ব্যাহত হলেও এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে সড়ক যোগাযোগ সচল হয়ে উটেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, নাফ নদীর বেড়িবাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নির্মাণ করে এলাকার চিংড়ি চাষাবাদ উন্নয়নের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। এদিকে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা মনখালী, চোয়াংখালী, চেপটখালী, বোয়াংখালী ও চেংছুড়ি  এলাকায় লোকালয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় অসংখ্য ঘর-বাড়ি জলমগ্ন হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মক ভাবে বিঘিœত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ অসংখ্য পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। মনখালী ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার সুলতান আহমদ জানান, মনখালী খালের ভাঙ্গনে বিপুল পরিমাণ ফসলী জমি ও ঝাউ গাছ ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে মনখালী বাজার, বন বিট অফিস ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক। তিনি বলেন, মনখালী খালের গতি পরিবর্তন করা না হলে এলাকার প্রায় ৫শত একর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে। টানা দু’দিনের ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার ফলে উপজেলা সদর, ঘিলাতলী গ্রামের শতাধিক পরিবার, ভূমি অফিস, তহসীল অফিস সহ খাদ্যগুদাম ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ জানান, সদর ষ্টেশনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ড্রেনটি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা অবৈধভাবে গড়ে তোলার ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে এখানকার ব্যবসায়ী, সরকারী কর্মচারী সহ বৃহত্তর জনগোষ্ঠিকে জলাবদ্ধতার শিকার হতে হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ করার জন্য ইতিমধ্যে ড্রেন নির্মাণ সহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও মূল ড্রেনটি বেদখল হয়ে যাওয়ার কারনে স্থানীয় জনসাধারনের সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে বসবাসকারী রাকিব উল্লাহ জানিয়েছেন গতকাল শুক্রবারের প্রবল বর্ষণে ২শতাধিক রোহিঙ্গাদের কাঁচা মাটির ঝুঁপড়ি ঘর বিধ্বস্তহয়ে গেছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ভারী বর্ষণ হওয়ার কারনে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হাজার পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীকে মানুষকে সরে যাওয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে মাইক যোগে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments