বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে সারবিশ্বে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমলেও গত বছর বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় গত বছর সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরগুলোর তুলনায় কমেছে।
বুধবার জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের বার্ষিক ‘বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে’ এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বিনিয়োগ বোর্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ১ হাজার ২৯২ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার বেশি।
একই বছর সারা পৃথিবীতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে এক দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তার আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম।
বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যার এস এ সামাদ বলেন, “বিশ্ব মন্দার মধ্যেও আমরা বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি; এটা অনেক ভাল। তবে আমাদের আরো বিনিয়োগ দরকার।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে ভারত; ২৫ হাজার ৫৪৩ মিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগের এই পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ১০ হাজার ৬৪৭ মিলিয়ন ডলার কম।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পরের অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। ২০১২ সালে পাকিস্তান এফডিআই পেয়েছে ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৮০ মিলিয়ন ডলার কম।
আর শ্রীলঙ্কায় গত বছর ৭৭৬ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০৫ মিলিয়ন ডলার কম।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপ এফডিআই প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।
গত বছর বাংলাদেশে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, মিশর, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড ও হংকং থেকে সবচেয়ে বেশি সরাসরি বিনিয়োগ পেয়েছে।
এর মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাত ৩৭৪ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলার; টেক্সটাইল খাত ৩০৭ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার; ব্যাংক খাত ১৩৬ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম খাত ১২৬ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার এবং কৃষি খাত ৬০ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, “বিরাট এক অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে পৃথিবী চলছে। এর মধ্যে প্রবৃদ্ধির ধরে রাখতে পেরে আমরা খুবই আশাবাদী।”
গত বছর বাংলাদেশে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, মিশর, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড ও হংকং থেকে সবচেয়ে বেশি সরাসরি বিনিয়োগ পেয়েছে।

0 Comments