Advertisement

নাইক্ষ্যংছড়ি,গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ায় প্রবল বর্ষনে অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত,নিহত ১ঃ বাকখালী সেতুর সংযোগ সড়ক তলিয়ে যাচ্ছে


মোঃ ইউনুছ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি
       টানা ৩ দিনের প্রবল বর্ষনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন, বাইশারি, দোছড়ি,সোনাইছড়ি ও পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার গর্জনিয়া,কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম গতকাল শনিবার প্লাবিত
হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়নের রূপ নগর, জারুলিয়াছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলা, বাইশারি ইউনিয়নের কাগুজিখোলা, ক্যাংগার বিল, লম্বাবিল সহ প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এ সময় বাইশারি লম্বাবিল এলকার আবু ছৈয়দ (২২) নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে বাইশারি বাজারে আসার পথে বন্যার  ইউনিয়ন পরিষদের কাছে আসলে পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায়। বাইশারি ইউনিয়নের বাসিন্দা মোর্শেদ জানান, প্রায় দু’ঘন্টা খোজাখুজির পর হঠাৎ একই স্থান থেকে মৃতের লাশটি ভেসে উঠলে এলকাবাসী উদ্ধার করে। মৃতের বাবা মা সৌদি প্রবাসী এবং সে বাইশারি নানার বাড়িতে থাকত বলে জানা গেছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, তার বাড়ি সহ নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে তার আশপাশের অনেক বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি স্বপরিবারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিসে আশ্রয় নিয়েছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহি অফিসার আহমেদ জামিল সহ স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করেন।  উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসরত পরিবার ও নিন্মাঞ্চলে অবস্থানরত প্রত্যেক পরিবারকে নাইক্ষ্যংছড়ি টিটিসি হল, উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের নাইক্ষ্যংছড়িস্থ জারুলিয়াছড়ি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার দুপুর থেকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে দু’উপজেলার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।  অন্যদিকে বাকখালী নদীর পানির প্রবল স্রোতে গর্জনিয়া খালেকুজ্জামান সেতুর সংযোগ সড়ক যে কোন সময় গত বছরের মতো আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ সেতুটি রক্ষার জন্য ১ কোটি টাকা ব্যায়ে খাল পুনঃখনন করা হলেও শেষ রক্ষা হবেনা বলে আশংকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বাকখালী সেতু রক্ষার জন্য আগে থেকে সিসি ব্লক স্থাপনের দাবী জানালেও কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণগোচর করেনি। ইতিমধ্যেই সেতুর দক্ষিন প্রান্ত ভাঙ্গতে শুরু করেছে। গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল, পশ্চিম বোমাংখিল, পূর্ব বোমাংখিল, জুমছড়ি, থিমছড়ি ও বড়বিল সহ অনেক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েে পড়েছে। তাছাড়া গর্জইখালে নির্মিত গ্রাম রক্ষাবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষের ঘরে ঘরে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে এসব পরিবার গুলো মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অন্যদিকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া গ্রাম, দোছড়ি, তিতারপাড়া, ফাক্রিকাটা, জাংছড়ি, শুকমনিয়া, মৌলভীরকাটা, তুলাতলী, মিয়াজিরপাড়া সহ প্রায় নবক্ষই ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন কোম্পানি জানান, তিনি বন্যা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। জনসাধারনকে নিারপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরন করে মানুষ এ বছরও বর্ষার প্রথম মৌসুমেই এমন ভারি বৃষ্টির কারনে বন্যা হওয়ায় দিকিবিদিক আশ্রয়ে ছুটছে।

Post a Comment

0 Comments