রাসেল চৌধুরী
সব সম্পর্কের মধ্যে একটি অন্যতম সুন্দর সম্পর্ক হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। একজন মানুষকে আপন করে নেয়া, তার সাথে সারা জীবন অতিবাহিত করা। শুনতে প্রথমে কঠিন হলেও জীবনের একটি সময়ে পৌঁছে এই সম্পর্কটি হয়ে ওঠে জীবনের সব থেকে
গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এই সুন্দর সম্পর্কের ভেতরও মাঝে মাঝে বাসা বাঁধে ভয়ংকর এক ব্যাধি, “পরকিয়া” । এই পরকিয়ার কারনে আমাদের সমাজে অহরহ বিবাহ বিচ্ছেদ এর ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া এখনকার মেয়েরা দিনের বেশীর ভাগ সময় মোবাইল ফোনে আড্ডা ও ফেইজবুকে ডুবে থাকে। এতে করে পরকিয়ার ঘটনা দিনদিন বাড়ছে। নতুন নতুন বন্ধু ঝুটে যাওয়ায় স্ত্রীরা স্বামীর কথা শুনতে চাননা।
এখানে পরকিয়ায় ভূক্তভোগী একজন মোহাম্মদ আলীর কথা তুলে ধরা হলো।
মোহাম্মদ আলীর বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে। তিনি ১৯১২ সালে বাঞ্চানগর গ্রামের তাজুল ইসলামের কন্যা রাইসা কে বিয়ে করেন। রাইসার পিতা-মাতা দু’জনই সুশিক্ষিত। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সুখেই চলে তাদের সংসার। স্ত্রী রাইসা একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী। বিয়ের আগে থেকেই ছেলে বন্ধুদের সাথে গভীর সম্পর্ক রাখতো রাইসা। স্বামী এসব জেনেও ভালবেসে বিয়ে করেন তাকে। তবে বিয়ের আগে তাদের মধ্যে বুঝাপড়া হয়, বিয়ের পর দু’জনই কেবল দু’জনের বন্ধু হবেন। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রী তার স্বামীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভংগ করে আগের বয়ফেন্ডদের সাথে গোপনে যোগাযোগ শুরু করে। ফলে শুরু হয় সংসারে অশন্তি। দাম্পত্য জীবনেও শুরু হয় টানাপড়েন। মোহাম্মদ আলী বলেন, স্ত্রীর পরকীয়াই আমার সুখের সংসারে আগুন ধরিয়ে দেয়। তছনছ করে দেয় আমার সাজানো বাগান। একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, আমি চাকরি নিয়ে ব্যস্ত। এ ব্যস্ততার মধ্যেই হঠাৎ করে একজন বন্ধুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে রাইসা। এলাকাবাসীর মুখে স্ত্রীকে নিয়ে নানা কথা শোনেন মোহাম্মদ আলী। স্ত্রীর সাথে তার ছেলে বন্ধুদের বিভিন্ন স্থানে গোপনে সাক্ষাতের খবর আসে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে ওই প্রেমিক বন্ধুকে বাসায় নিয়ে আসেন রাইসা। হাসপাতাল রোডে তাদের বাসা। সেখানে রাতও কাটান তারা। তবে এসব খবর রাইসার পিতা না জানলেও মা সব ঘটনা জানতেন। পাড়াপড়শি এ খবর দেয় মো. আলীকে। সন্দেহ বাড়তে থাকে সংসারে। নজরদারি করতে থাকেন মোহাম্মদ আলী। পাহারা দেন সব সময়। এতে বেপরোয়া ভাব আরও বেড়ে যায় স্ত্রীর। তারপর থেকেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এ নিয়ে পারিবারিক বৈঠক হয়। মুরুব্বিরা মীমাংসা করে দেন। ক্ষমা করে দিয়ে ওই স্ত্রীর সাথে সংসার করতে রাজি হন মো: আলী। কিন্তু কাজ হয়নি। সে আবার অরেক সৌদি যুবকের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এমনকি রাইসা স্বামীর অর্থসম্পদ নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যান। মো. আলী বলেন, পরকীয়ার বাধা দেয়া কাল হয়ে যায় আমার জীবনে। বিচ্ছেদও হয়ে যায় তাদের। কেবল এই পরকিয়ার কারণেই এত সুন্দর একটা সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটতে সময় লাগে না। তাই বিয়ের পর স্বামীর মনে সন্দেহ আসে এমন কিছু করা যাবে না। অতীত বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ, তাদের গিপ্ট ব্যবহার, লুকিয়ে কথা বলা, কল লিষ্ট থেকে নাম্বার কেটে দেওয়া ইত্যাদি স্বামীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। একটি সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে আস্থা অর্থাৎ বিশ্বাস। যে সম্পর্কে বিশ্বাস নেই, সেই সম্পর্কের কোন ভিত্তি নেই। একটি সুন্দর স¤পর্ক গড়ে তোলার জন্য বিশ্বাস সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, স্বামীই জীবনে নিজের সব থেকে ভাল বন্ধু। আপনার মনের কথা গুলো তার সাথে ভাগাভাগি করে নিন, তাকেও অনুভব করতে দিন, আপনি তাকে কত বেশি ভালবাসেন আর বিশ্বাস করেন। পরস্পরের সাথে বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকলে সন্দেহ মনে দানা বাঁধতে পারবে না।

0 Comments