Advertisement

মেলার প্রতি কক্সবাজারের মানুষের আগ্রহ দেখে আমি প্রীত মুগ্ধ এবং অভিভূত

আরিফ মঈনুদ্দীনবইমেলা প্রাণের মেলা। এই প্রাণের মেলা আমাদের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের এক জোরালো মাধ্যম হিসেবে পুরো দেশকে একসূত্রে গাঁথার একটা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই কর্মকাণ্ডের সাথে কিছু প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক তৎপরতার সাথে যুক্ত কিছু গুণি মানুষই এই মঙ্গলযাত্রার পুরো কৃতিত্বের দাবিদার। এই ধারাবাহিকতার ফলপ্রসূ অভিযান হিসেবে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে (শহীদ দৌলত ময়দান)। ২৬ জুন থেকে মেলা শুরু হয়েছে, চলবে ২ জুলাই পর্যন্ত। বৈরি আবহাওয়া অর্থাৎ অবিরাম বর্ষণের কারণে মেলার আসল চরিত্র ফুটে ওঠার পথে অন্তরায় সৃষ্টি হলেও কথাবার্তা বলে মেলার প্রতি কক্সবাজারবাসির আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দেখে আমি যারপরানই প্রীত মুগ্ধ এবং অভিভূত। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ক্রেতা, দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড় পরিলক্ষিত না হলেও যাঁরা আসছেন ছাতা মাথায় নিয়ে বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছেন এবং দেখতে দেখতে নিজেদের পছন্দের বইও কিনে নিচ্ছেন। কখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, কখনও আরেকটু বেশি বর্ষণ- এরকম দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে অনেকেই মেলায় আসছেন এবং বই কিনছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্রেতা, দর্শক এখনো উপস্থিত হতে না পারলেও এই যে যাঁরা আসছেন তাদের এই আসাটাই একটা প্রশংসনীয় বিষয়। এতে বইমেলা সম্পর্কে কক্সবাজারবাসির চমৎকার ইতিবাচক সাড়া এবং আগ্রহই ফুটে উঠেছে। মানুষের আগ্রহ দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় বাঘের মতো থাবা বিস্তার করে ওৎপেতে বসে আছেন। বৃষ্টি থেমে ঝকঝকে রোদ উঠলেই তাঁরা মেলার মাঠে হুমড়ি খেয়ে পড়বেন। এ প্রসঙ্গে একটি কতা বলে রাখা দরকার- আকাশ পরিস্কার করে রোদ উঠলেই মনে করে নেবেন বইমেলা জমে উঠেছে।
মেলাকে ঘিরে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে এবং এই অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক শ্রোতার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এই প্রসঙ্গে আয়োজক কমিটি নিখাদ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য, কেননা তাঁরা বৃষ্টির মৌসুম মাথায় রেখেই মেলার অবকাঠামো ঠিক করেছেন। যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রিপল দিয়ে স্টলগুলোকে বৃষ্টির পানির অত্যাচার থেকে রক্ষা করা গেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ এবং দর্শক প্যান্ডেলও এভাবেই তৈরি করেছেন। মেলার স্টল সাজানোর প্রক্রিয়াতেও একটা শৈল্পিক বিষয় উল্লেখ করার মতো। প্রতিটি স্টলের সাইজ এবং ব্যানারের (সাইন বোর্ড) লেখাতেও একটা চমৎকার সাদৃশ্য দৃষ্টি কাড়ার মতো মনে হয়েছে। মাঝখানে খোলা জায়গা রেখে মাঠের চারিদিকে স্টল সাজানোর কারণে একটি দৃষ্টিনন্দন মেলার আবহ তৈরি হয়েছে। মেলার গেটে গিয়ে নামলেই ভালোলাগা শুরু হয়ে যায়। ভেতরে একটা ছিমছাম খোলামেলা সুন্দর বইমেলার আয়োজন আপনা থেকেই দর্শককে টেনে বইয়ের জগতে নিয়ে যায়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে যাঁরা মেলায় আসছেন তাদের অনেকেই বই কিনছেন তুলনামূলক বিচারে এর সংখ্যাটাকে হেলাফেলা করা যাবে না। যাঁরাই মেলায় আসছেন তাদের একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ করা গেছে। সবকিছু পর্যালোচনা করলে দাঁড়ায় আগমিদিনে মেলার আয়োজনটা শীতকালীন আবহাওয়ায় করার পক্ষেই সবাই মত দিয়েছেন। পর্যটন নগরী কক্সবাজার। এখানের বইমেলায় ভ্রমণকারীরাও এক দু’বার আসবেন। বইও কিনবেন- এটা আশা করা অমূলক নয়। বৃষ্টির কারণে এই আশার গুড়েও সামান্য বালি পড়েছে। পরিশেষে বলা যায়, ৪০টি প্রথম সারির প্রকাশনা সংস্থাকে নিয়ে যাঁরা এই মেলার আয়োজনের সঙ্গে রেেছন তাঁরা পরিবেশগতদিকটা মাথায় রেখে আজকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে চমৎকার সময়ে মেলার আয়োজন করবেন।

Post a Comment

0 Comments