মোহাম্মদ সাঈদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে (আইসিসি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভোলেপমেন্ট ফর
বাংলাদেশ এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি বাংলাদেশী আমেরিকানরা। এ দু’সংগঠনের পক্ষ থেকে মারটিন এফ. ম্যাকমহন এন্ড এসোসিয়েটস ২৭ জুন বৃহস্পতিবার অভিযোগটি দায়ের করে। অভিযোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্য একই দিন বিকালে ওয়াশিংটন ডিসি ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে এটর্নি মারটিন এফ. ম্যাকমহন সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি মানবাধিকার লংঘনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলায় মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে সরাসরি মানবাধিকার লংঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে বাকি আসামিরা হলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড মহীউদ্দিন খান আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, র্যাবের মহাপরিচালক মোকলেসুর রহমান ও বিজিবির মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ। বাকিরা হলেন ঢাকা মেট্রো পলিটন বেনজির আহমেদ, চট্রগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদ্বীপ কুমার, ডিএমপি ুমতিঝিল জোনের এসি মেহদী হাসান, ডিএমপি লালবাগ বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ, মিরপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন, গোয়েন্দা বিভাগের এডিসি মশিউর রহমান, দারুস সলাম থানার ওসি খলিলুর রহমান, কাফরুল থানার ওসি আব্দুল লতিফ, কাফরুল থানার সাব ইনেসপেক্টর আশিক, যাত্রা বাড়ী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদাজ্জামান নূর, শহিদুল ইসলাম, এম এম মোস্তাফিজুর রহমান ও হারুন রশিদ, পাবলিক প্রসিকিউটর সাজ্জাদুল হক শিহাব ও আসলাম।
সাংবাদিক সম্মেলনে এটর্নি মারটিন উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশে মানবাধিকর লংঘন করে আসছে। মানবাধিকার লংঘনের প্রমাণ বাংলাদেশী মিডিয়াসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিভিন্ন মানবাধিকার ও এনজিও সংস্থার রিপোর্টে রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এটর্নি মারটিন বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে আমরা অভিযোগটি দাখিল করেছি। আমরা আশা করছি আসিসি অভিযোগগুলো তদন্ত করে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে মামলাটি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।
নিউইয়র্কভিত্তিক ‘হিউম্যান রাইটস ফর বাংলাদেশ’ নামক একটি সংগঠন এই মামলা দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অবস্থিত ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে আইনজীবীরা এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রের চাপে মানবাধিকার লক্সঘনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে আছে। গত কয়েক মাস যাবৎ রাষ্ট্রীয় আইনশৃক্সখলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত বেসামরিক মানুষ হত্যা, হয়রানি এবং গ্রেপ্তার ও অত্যাচার করা হচ্ছে।এছাড়া নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড মুহাম্মদ ইউনূসকে আক্রমণ, দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও অত্যাচার এবং ইসলামিক টেলিভিশন, দিগন্ত টেলিভিশন ও আমার দেশ বন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ অ্যান্ড বাংলাদেশি-আমেরিকানস ইন গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি’ পক্ষ থেকে আইসিসিতে এই মামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য হওয়ায় সংস্থাটি এই অভিযোগ তদন্ত করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২৩ মার্চ ২০১০ আইসিসির সদস্য হয়।মামলায় আরজিতে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা হলো- অত্যাচার, গুম বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গণহত্যা। আর এসবের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওইসব ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’, সুখ রঞ্জন বালীর অপহরণের ক্ষেত্রে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচে’র বরাত দেওয়া হয়েছে মামলার আরজিতে।যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেওয়ার পর সারা দেশে শতাধিক হত্যা এবং ৫ মে রাতে রাজধানীর মতিঝিলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অসংখ্য হেফাজতকর্মী হত্যার অভিযোগও এই মামলায় অনা হয়েছে। হেফাজতের ৬১ জন কর্মী নিহত বা গুম হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ যে তথ্য দিয়েছে এবং ‘এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন’ প্রায় একই রকম যে তথ্য দিয়েছিল তা উল্লেখ করা হয়েছে। পিআরনিউজওয়ার ডটকম নামের একটি ওয়েবসাইটে এই মামলা এবং মামলা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের খবর জানানো হয়েছে।

0 Comments