Advertisement

ঈদগাঁও বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড: ৬ দোকান পুড়ে ছাই,:অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি


এস.এম.তারেক,ঈদগাঁও:
 কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৬ দোকান পুঁড়ে ছাই হয়ে গেছে। ২৫ মার্চ ভোর রাতে বাজারের ডিসি সড়কে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় অর্ধ কোটি  টাকার  ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে , ঘটনার দিন রাতে  ক্ষতিগ্রস্থরা অন্যান্য দিনের মত দোকান পাট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোর রাতে আকস্মিক ভাবে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে প্রাণ ভয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে পড়ে চিৎকার দিতে থাকে। ক্ষতিগ্রস্থদের শোর চিৎকারে  পার্শ¦বর্তী দোকানদার ও
এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেও লেলিহান শিখা চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়াতে আগুন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। এভাবে র্দীঘক্ষণ জ্বলার পর প্রথমে চকোরিয়া থেকে অগ্নি নির্বাপক দল এবং পরে   কক্সবাজার থেকে আরও একটি অগ্নি নির্বাপক দল  যোগ দিয়ে  প্রায় এক ঘন্টা পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রনে নিতে সক্ষম হয়।  আগুনে যেসব দোকান পুড়ে গেছে,সেগুলো হচ্ছে আবদু ছালামের যৌথ  মালিকানাধীন সোবাহানিয়া ভাতঘর, কামাল হোসেনের বরিশাল বেডিং হাউস, মনজুর আলমের মিলিং কল, সাকাল দে’র শাহ আমানত ইলেকট্রনিক্্র, জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন গ্যাস সিলিন্ডার এবং  ছৈয়দুল হকের হার্ডওয়ারের  দোকান।  ক্ষতিগ্রস্থরা জনতার সহায়তায় কিছু মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অধিকাংশই পুড়ে যায়। কোথা হতে এ  আগুনের সূত্রপাত সে সম্পর্কে সুনিদিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্থরা দাবী করছেন, পুড়ে যাওয়া কয়েকটি দোকান ও জমি নিয়ে  এলাকার একটি মহলের সাথে চৌফলদন্ডী নোমানিয়া মাদ্রাসার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপটি রাতের আঁধারে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ পোষন করছেন। এদিকে ঘটনার পরপরই মাদ্রাসা কর্র্তৃপক্ষ ওই স্থানে তাৎক্ষণিক ভাবে দোকান নির্মানের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ দু’দফা তাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার প্রতিবাদে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মুহতামিমের ছেলে সাইফুল ইসলামের নের্তৃত্বে মাদ্রাসার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের  নিয়ে পুরো বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বসিয়ে রেখে দোকান নির্মাণের কাজ চালাচ্ছিল। দু’ পক্ষের মাঝে অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে পূর্ণ সতর্কাবস্থায় ঘটনাস্থলে ঘন ঘন টহল দিতে দেখা গেছে। সংঘটিত ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সাইফুল ইসলাম জানান। সংবাদ পেয়ে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডঃ সলিম উল্লাহ বাহাদুর , স্থানীয় সোহেল জাহান চৌং এবং এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।  এদিকে প্রতিবছর বৃহত্তর ঈদগাঁও ওলাকায় বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত থাকলেও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতার অভাবে লাখ লাক জনগনের প্রাণের দাবী ঈদগাঁওতে একটি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপন না হওয়ায় অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

Post a Comment

0 Comments