বছরে ১৫ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার বদরখালী মৌজায় সরকারের খাস খতিয়ানভূক্ত ৩শত ৫০কোটি টাকার ৭২৮ একর জমি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গেলবছর থেকে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে জবর দখলে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদ শেষে স্থানীয় প্রশাসন এজমিতে লাল পতাকা উচিয়ে দিলেও দখলবাজরা এসবের তোয়াক্কা না করে দখল চেষ্টা জিইয়ে রেখেছে। বিপুল পরিমান খাসজমি বেদখলে থাকায় প্রতিবছর প্রায় ১৫লাখ টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অভিযোগ উঠেছে, দখলবাজরা রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকটা চাপের মুখে স্থানীয় প্রশাসন এজমি উদ্ধারে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেনা। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের চেয়ে কয়েকজন পূর্বের ইজারাদাররা হাইকোটে রীট মামলা করায় মূলত আইনী বাধাঁ-বিপত্তির কারণে তাদেরকে জমি উদ্ধার ও রক্ষা করতে গিয়ে চরমভাবে বেগ পেতে হচ্ছে। এসুযোগে দখলবাজরা জমি গুলোর দখল ঠিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সচেতন মহল জানিয়েছেন, প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি না করলে ওই এলাকায় আবারো বড় ধরনের সহিংসতার আংশকা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার বদরখালী মৌজার কাড়াড়া দিয়ার ৭২৮ একর চিংড়ি জমি ২০০১ সালে ১০ বছর মেয়াদে চিংড়ি নীতিমালা মোতাবেক ইজারা (লিজ) নেন একাধিক প্রভাবশালী। তাদের মধ্যে উপজেলার ডুলাহাজারার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর চকরিয়া ফিশিং ঢাকা লিমিটেড নামে ১০০একর, মেসার্স হক একোয়া কালচার নামে ১০০ একর, কুমিল্লার লাঙ্গলকোট এলাকার জাফর এন্ড ইদা ফিশারিজের নামে ১০০ একর, সাউদান বে-স্রীম্পস লিমিটেড মোহাম্মদপুর ঢাকার নামে ৯০ একর, চট্রগ্রামের নাছিরাবাদস্থ সাগর ফিশারিজের নামে ৯০ একর, চকরিয়ার ইলিশিয়ার বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম চৌধুরী গং এবং তাহাদের বিনামিত ৮০ একর, চকরিয়া পৌর বিএনপির নেতা ব্যবসায়ী হাজী নুর আহমদ সওদাগর, আলহাজ্ব ফজলুল কাদের ও নুরুল কবির গংয়ের নামে ৬০ একর, চকরিয়া উপজেলা আলীগের আহবায়ক ও ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, শাহারবিল মাইজঘোনার দলিলুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন কণ্ট্রাক্টর গংয়ের নামে ৪০ একরসহ অপরাপর আরো বেশ কজনের নামে ৬৮ একরসহ ৭২৮ একর চিংড়ি জমি ইজারা নেন।
সুত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে এসব জমির ইজারা(লীজ) মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে মেসার্স হক একোয়া কালচার ও মোমিনুল হক চৌধুরী গং উচ্চ আদালতে রিট মামলা করে তাদের ইজারাকৃত জমি দখলে রেখেছে। একইভাবে আরো কয়েকজন ইজারাদার হাইকোটে রীট মামলা দায়ের করে কৌশলে তাদের জমি গুলো দখলে রাখার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা জানায়, ২০১০সালে ইজারা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইলিশিয়া-দরবেশকাটা এলাকার একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার করে রাতারাতি ওই জমি গুলো দখল করে নেয়। তারা ওই সময় বেশ কিছু বসতি গড়ে তোলে সুযোগ বুঝে এজমি বরাদ্ধ পেতে জেলা প্রশাসনে আবেদনও করেন। এমন সময়ে জমি গুলো বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় বদরখালী সমবায় ও কৃষি উপনিবেশ সমিতির লোকজন গেলবছরের ১৫ফেব্রয়ারী ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। ওই সময় জমিগুলো দখলে তিনটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে গোলাগুলিতে নিহত হয় রিদুয়ান নামের ইলিশিয়ার একব্যক্তি। এঘটনায় নিহতের পরিবার ওইদিনই চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর প্রভাবশালী ও তাদের ভাড়াটে লোকজন পালিয়ে গেলে কিছুদিন ওই জমি সরকারের কব্জায় থাকলেও গেলবছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এখনো সরকারের ৭২৮একর খাসজমি ফের দখলে রেখেছে প্রভাবশালীরা। অভিযোগ উঠেছে, বদরখালী সমিতির লোকজন ও বেশকিছু নতুন দখলবাজ বর্তমানে এজমি দখলে নামার তোড়জোর চালাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, ৩৫০কোটি টাকার বিপুল খাস জমি দখলে ওই এলাকা আবারো উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ঘনিভুত হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার জাকির হোসেন বলেন, জমি গুলো উদ্ধার ও প্রশাসনের কব্জায় আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে শ্রীঘই জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলে এ জমি কাউকে ইজারা (লিজ) দেয়া যাবে না।

0 Comments