Advertisement

শরণ সমবায় সমিতির উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য প্লট বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্লট পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কক্সবাজারে স্মরণ বহুমুখী সমবায় সমিতি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতষ্ঠানের
দায়েরকৃত মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাতিলাদেশ স্থগিত করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আপিল বিভাগ। ওই সমিতি উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে প্লট বিক্রি ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ১৯৯৯ সালে ১৬ জুন কক্সবাজর স্মরণ আবাসন প্রকল্পের নামে ৬ একর জমি বরাদ্দ দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মাত্র ২ মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট উক্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সংশোধন করে ৩ একর ৫০ শতক জমি বরাদ্দ দেয় স্মরণের অনুকুলে। ২০০০ সালের ৬ মার্চ কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগ উক্ত জমি স্মরণের অনুকুলে হস্তান্তর করেন। এদিকে স্মরণ বহুমুখী সমবায় সমিতির কার্যক্রম অচল বিধায় ২০০৯ সালে ২৫ নভেম্বর সমবায় অধিদপ্তর জেলা প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে স্মরণের বিরুদ্ধে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্মরণের জমির বরাদ্ধাদেশ বাতিল করে দেন। উক্ত বাতিলাদেশের বিরুদ্ধে স্মরণ বহুমুখী সমবায় সমিতির সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আপিল বিভাগে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। উক্ত রীট পিটিশন পর্যালোচনা করে ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাতিলাদেশ স্থগিত করেন এবং মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্মরণ বহুমুখী সমবায় সমিতিকে সেখানে কোন রকমের স্থাপনা না করারও নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের এ আদেশ অমান্য করে স্মরণ বহুমুখী সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা সেখানে স্থাপনা নির্মাণ ও অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। স্মরণ বহুমুখী সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত প্লট হস্তান্তর, বেচা-বিক্রি ও নতুন সদস্য সংগ্রহ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্মরণ বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল আলম উল্লেখিত অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, তারা উচ্চ আদালতের আদেশের উপর ভর করে সেখানে অবস্থান করছেন। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মেম্বার সেক্রেটারী ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, গণপূর্ত বিভাগের অফিস সংলগ্ন স্মরণ বহুমুখী সমবায় সমিতিসহ অন্যান্য আবাসন সংগঠন যারা উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে এবং কয়েকটি স্থাপনা গুড়িয়েও দেয়া হয়েছে। তাছাড়া গণপূর্তের জমি জবর দখল করে যারা অবস্থান করছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। শীঘ্রই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ জয়নুল বারী বলেছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং প্লট বেচা-বিক্রি ও স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

Post a Comment

0 Comments