নয়ন কক্স নিউজ ডট কম
কক্সবাজারের কলাতলীতে এক হোটেল কক্ষে রাজিয়া নুর মিনা(৩০) নামের এক পর্যটক নারীকে পারিবারিক কলহের জের ধরে
পরিকল্পিত ভাবে শিশু পূত্রের সামনেই খুন করেছে স্বামী রাশেদ। শনিবার সকাল ৯টায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। খুনের ঘটনার পর ৪ বছরের শিশু পূত্র রায়হানকে নিয়ে হোটেল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় ওই ঘাতক। শনিবার ভোরে হত্যার পর খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে জেলা
সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত মিনা চট্টগ্রামের বহদ্দার হাটের হরন পাড়ার মোঃ ইদ্রিসের কন্যা। এঘটনায় ঘাতক স্বামীর বন্ধু আগ্রাবাদ এলাকার মোঃ হাসান দুলালকে ওই হোটেল থেকে গ্রেফতার
করে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর পরই পালিয়ে যাওয়া ঘাতক তার শিশু পূত্রকে চট্টগ্রামের বহদ্দার হাটস্থ নানার বাড়িতে নানান বাড়ির সামনে রেখে উদাও হয়ে যায়। তবে শিশু রায়হান ঠিকই নানার বাড়িতে গিয়ে তার ঘাতক পিতার হাতে তার সামনেই মায়ের খুন হওয়ার বিষয় বিস্তারিত জানায়। পরে নিহতে পিতা-মাতাসহ পরিবারের লোকজন কক্সবাজার এসে হাসপাতাল মর্গে এসে মিনার খুন হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন। পরে ঘাতক রাশেদকে ১নং ও মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে খুনের সহযোগীতা করায় পুলিশের হাতে ধৃত ঘাতকের বন্ধু হাসানকে ২নং আসামী করে কক্সবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
পরিকল্পিত ভাবে শিশু পূত্রের সামনেই খুন করেছে স্বামী রাশেদ। শনিবার সকাল ৯টায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। খুনের ঘটনার পর ৪ বছরের শিশু পূত্র রায়হানকে নিয়ে হোটেল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় ওই ঘাতক। শনিবার ভোরে হত্যার পর খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে জেলা
সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত মিনা চট্টগ্রামের বহদ্দার হাটের হরন পাড়ার মোঃ ইদ্রিসের কন্যা। এঘটনায় ঘাতক স্বামীর বন্ধু আগ্রাবাদ এলাকার মোঃ হাসান দুলালকে ওই হোটেল থেকে গ্রেফতার
করে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর পরই পালিয়ে যাওয়া ঘাতক তার শিশু পূত্রকে চট্টগ্রামের বহদ্দার হাটস্থ নানার বাড়িতে নানান বাড়ির সামনে রেখে উদাও হয়ে যায়। তবে শিশু রায়হান ঠিকই নানার বাড়িতে গিয়ে তার ঘাতক পিতার হাতে তার সামনেই মায়ের খুন হওয়ার বিষয় বিস্তারিত জানায়। পরে নিহতে পিতা-মাতাসহ পরিবারের লোকজন কক্সবাজার এসে হাসপাতাল মর্গে এসে মিনার খুন হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন। পরে ঘাতক রাশেদকে ১নং ও মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে খুনের সহযোগীতা করায় পুলিশের হাতে ধৃত ঘাতকের বন্ধু হাসানকে ২নং আসামী করে কক্সবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিবছরের ন্যায় ১৬ ফেরুয়ারী আগ্রাবাদের খাঁনবাড়ী ও একই এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ির শতাধিক সদস্য পরিবার-পরিজন নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। সকলই কলাতলীস্থ হোটেল-মোটেল জোনের হোটেল এ্যালবাট্রস’র বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নেয়। ৪র্থ তলার ৪০৯ নং কক্ষে উঠেন রাশেদ ও মিনা দম্পতি। তাদের সাথে ছিলো ৪ বছরের শিশু পূত্র রায়হান। ওই কক্ষ থেকেই লাশটি উদ্ধার করেছে।
লাশ উদ্ধারকারী কক্সবাজার সদর মড়েল থানার উপ-পরিদর্শক ফজলুল হক জানান, নিহত মিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের জখমের চি রয়েছে। নিহতের স্বামী রাশেদ পলাতল রয়েছে। রাত ৮ টার দিকে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশটি তার পিতা-মাথার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় ঘাতক রাশেদ ও তার বন্ধু হাসানসহ কয়েকজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলেও তিনি নিশ্বিত করেছেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে শিশু পূত্র রায়হানকে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বেরিয়ে যান নিহতের স্বামী রাশেদ। দীর্ঘ সময় ৪০৯-নং কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় সন্দেহ হলে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মড়েল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কক্ষের তালাটি বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে উপস্থিত নিহত মিনার শোকাহত পিতা মোঃ ইদ্রিস জানান, আজ থেকে ৫বছর পূর্বে তার কন্যাকে আনুষ্ঠানিক ভাবেই বিয়ে দেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের হাজারী রোডস্থ আমিন সওদাগরের পূত্র রাশেদের সাথে। কিন্তু বিয়ের কয়েকমাস যেতে না যেতেই বিভিন্ন অজুহাতে তার কন্যার উপর নির্যাতন চালায় স্বা মীসহ শশুর বাড়ির লোকজন। তবে দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর নির্যাতন সহ্য করার পর সে চলে আসে নিজ বাড়িতে। এরপর থেকেই দেড় বছর ধরে সে পিত্রালয়ের আশ্রয়ে আছে বলেও তিনি জানান। সর্বশেষ গত কয়েকদিন ধরে ঘাতক রাশেদ ও তার বন্ধু হাসান মিনাকে মিনাকে নিয়ে কক্সবাজারে পিকনিকে আসার কথা বলে আসছিলো। সর্বশেষ তাদের কথায় সরল বিশ্বাসে ১৬ ফেব্র“য়ারী কক্সবাজার আসতে দিয়ে লাশ হতে হলো তার মেয়েকে। তিনি মিনার ঘাতক স্বামী ও বন্ধু হাসানের শাস্তির দাবি জানান।
অপরদিকে, মাত্র ৪ বছর বয়সী শিশু রায়হান তার নানা-নানির সাথে এসে কক্সবাজার মডেল থানায় পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের স্পষ্ট ভাবে তার মায়ের খুন হওয়ার বিবরণ দেয়। রায়হান আরো জানায়, হোটেল আলবাট্রসের ছাদ থেকে অন্যাদের সাথে তার মা-বাবাও একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যান। সেখান এসে যথারীতি ঘুমিয়ে পড়েন। তবে ভোরে মায়ের কান্নার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, তার পিতা মাকে মেঝেতে ফেলে গলা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দেয়। এক সময় তার চোখের সামনেই মৃত্যু হয় মায়ের। পরে তাকে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় হোটেল থেকে। পরে চট্টগ্রামের নানার বাড়ির সামনে একটি দোকানে তাকে রেখে চলে যায় ঘাতক পিতা।
কক্সবাজার সদর মড়েল থানার ওসি বদরুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মিনার হত্যাকারী ঘাতক স্বামীকে খুঁঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘাতকের এক বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


0 Comments