Advertisement

মহেশখালীর বন্দুকযুদ্ধ ও দিদার খুনের নেপথ্য কাহিনী

এলাকাবাসীর ৰোভ : পরিবারের সংবাদ সম্মেলন নিজস্ব প্রতিবেদকচলতি মাসের ৮ জানুয়ারি মহেশখালিতে কথিত ডাকাত-র্যাব বন্দুক যুদ্ধে অকালে নিহত দিদারম্নল আলম ওরফে দিদারের শোকাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পৰ থেকে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংবাদ সম্মেলন।
গতকাল সকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে নিহত দিদারের পিতা মহেশখালী

উপজেলা আ.লীগ সভাপতি ফোরকান আহমদ, তার ৩ ভাইবোনের মধ্যে যথাক্রমে স্থানীয় ইউপি মেম্বার রাসেল, চট্টগ্রাম মিউনিসিপাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক এবং খালা, কক্সবাজার বেতারের সংবাদ পঠিকাসহ তার আত্মীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলার কর্মরত প্রিন্ট ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের দেখে তারা হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনে পরিণত হয়ে ওটে হৃদয় বিদারক দৃশ্যে। শোকাহত সকলেই এই হত্যাকান্ডের নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরে বারবার জড়িতদের শাসত্দি দাবি করে বলেন, এই হত্যাকান্ড কোন অবস্থাই মেনে নেয়ার নয়। কারণ দিদার সন্ত্রাসী ছিলেন না। কোনদিন কারো ৰতি করেননি। শুধু একটি পৰের সাথে আঁতাত করে র্যাব এখানে ৰমতার অপব্যবহার করেন। তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন, আইনের পোশাক পরে মানুষ খুন করলে কিছুই হয়না। একই সাথে থানা পুলিশও সেই অবিচারে সমর্থন জানিয়ে একটি বর্বরতার দৃষ্টানত্দ স্থাপন করেছে। মনে হচ্ছে আমরা এই বিচার পাব না। তবে আলস্নাহতো নিশ্চয়ই বিচার করবেন। পাশাপাশি বিষয়টি তদনত্দ পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিবেকবান সর্ব মহলের সহযোগিতা কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা এ সময় হত্যাকান্ডের বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা হুবুহু উপস্থাপন করা হল।
সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা
নিহত দিদার ছিলেন মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গাপাড়া নিবাসী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য। মহেশখালী উপজেলার আওয়ামীলীগের সস্য, বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী আলহাজ ফোরকান আহমদের প্রথম পুত্র। নিহত দিদারের পিতা অত্যনত্দ সহজ, সরল, শানত্দ, নিরীহ, ভদ্র প্রকৃতির লোক যা এলাকাবাসির কাছে আপনার তদনত্দ করলে জানতে পারবেন। নিহত দিদারের ৩ ভাই ১ বোন। দিদার ছিলেন বড় মহেশখালী ইউনিয়নের যুবলীগ সদস্য ও ব্যবসায়ী। দিদারের ছোট ভাই মোঃ আলমগীর বর্তমানে বড় মহেশখালী ই্উনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বার। ছোট ভাই মোঃ রাসেল একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং একমাত্র বোন রেজিয়া আকতার চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বর্তমান প্রভাষক।
সাংবাদিক ভাইয়েরা,
নিহত দিদার অত্যনত্দ সাহসী ও সৎ ছেলে ছিলেন। এলাকায় যে কোন অন্যায় অবিচারের তীব্র প্রতিবাদ করতেন তিনি। দিদার যে পাড়ায় জন্ম্রগহণ ও বড় হয়েছেন সে একি পাড়ায় রয়েছে সালাহ উদ্দিন নামের এক দুধর্ষ খুনী। ১৯৭১ সালের মক্তিযুদ্ধের সময় থেকে দিদারের পিতার সাথে সালা উদ্দিনের পিতা মৃত আবদুল বারির শত্রম্নতা ছিল। সালা উদ্দিনের পিতা একজন কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। সালউদ্দিনের পিতা মৃত আবদুল বারীর নেতৃত্বে অন্যান্য রাজাকারদের সহযোগিতায় ১৯৭১ সালে পাক সেনারা দিদারের পিতা ও আত্মীয় স্বজনের বসত বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই করেছিল। এছাড়াও উক্ত রাজাকারদের সহযোগিতায় পাক সেনারা নিহত দিদারের জ্যাঠা (১) শহীদ আমির হোসেন, পিতা- জলিল বক্স, (২) শহীদ আবুল খায়ের, পিতা- ঐ, (৩), চাচা শহীদ রহমদার, পিতা- জাহা বক্সু এবং জ্যাঠাত ভাই শহীদ জাফর আলম, পিতা- আবুল খায়েরকে গুলি করে, (৫) ফুফু শহীদ শামসুন্নাহার, পিতা- মৃত মোজাহের মিয়াকে পুড়িয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে উপরোক্ত শহীদের বিচার চাওয়ায় দিদারের জ্যাঠাত ভাই রহিম বক্সু ও দাদা নুরম্নল ইসলামকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। স্বাভাবিকভাবে স্বাধীণতার পর থেকেই নিহত দিদারের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সাথে সালাহ উদ্দিনের রাজাকার খ্যাত পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
সালাউদ্দিনের পরিচয়]
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
একই গ্রামের রাজাকার আবদুল বারির ছেলে সালাউদ্দিন। এলাকাবাসি জানেন, সারাউদ্দিনের মা সুফিয়া বেগম একজন প্রকৃত টেরোরিস্ট। সব মায়েরাই সনত্দানদের আদর্শ, ধার্মিক ও চরিত্রবান করে গড়ে তুলতে চান। কিন্তু এই মহিলা তার সনত্দানদের সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং এই বিষয়ে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা, সহযোগিতা, আদেশ নিদের্শন প্রদান করে থাকেন। এটি অবিশ্বাস্য ঘটনা একজন মা কখনও কি পারেন পেটের সনত্দানদের সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে তুলতে? সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে গৌরববোধ করতে? এই মহিলা সম্পর্কে এলাকায় গিয়ে সরেজমিন তদনত্দ করাবার জন্য সম্মানিত সাংবাদিকদের অনুরোধ জানাচ্ছি। ২৮/০৯/২০০০ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ৬টার সময় সালাউদ্দিন ও তার অন্যান্য ভাইয়েরা আপন ফুফাত ভাই মকছুদুল আলমকে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ব্যাপারে মৃত মকছুদুল আলমের পিতা বাদি হযে অভিযোগ দায়ের করিলে মহেশখালী থানার মামলা নং- ০১, ০১/১০/২০০০ইং তারিখ ধারা ১৪৩/৩২৪/৩০২/১৪৪/৩৪দ.বি. রম্নজু হয়। উক্ত মামলার আসামি সালাউদ্দিনের আপন বড় ভাই শওকত আকবরকে পুলিশ গ্রেপতার করলে তার দলীয় লোকজনেরা পুলিশ হতে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশকে আক্রমন করে এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ বাদি হয়ে মহেশখালী থানা মামলা নং- ০৮, তারিখ- ১০/০১/২০০১ইং ধারা- ১৪৩/৩৫৩/৩৪১/৩২৩/৫১১/২২৪/২১২/২৮৬/৪২৭/৩৪ দ.বি. তৎসঙ্গে জননিরাপত্তা আইন ২০০০ এর বিশেষ বিধান ০৭/০৮/১০ ধারা রম্নজু হয়। পরবর্তীতে উপরোক্ত হত্যা মামলার ৪নং আসামি সালাউদ্দিন জামিনে মু্ক্তি পেয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত হয়। গত ২২/০২/২০০২ইং তারিখ থানা পুলিশগণ পাহারা করা কালীণ সময়ে জামাই ধরণী ঢালপুর এলাকায় পুলিশকে আক্রমণ করে খুন করার উদ্দেশ্যে সালাউদ্দিন গুলি করে। এই বিষয়ে পুলিশ বাদি হয়ে মহেশখালী থানার মামলা নং- ১০, ২৩/০২/২০০২ইং তারিখ ধারা- ১৪৩/৩২৪/৩২৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩০৭ দ.বি. রম্নজু হয়। ইতিমধ্যে সালাউদ্দিনের দুই ভাই সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। সালউদ্দিন একজন কু-বুদ্ধি সম্পন্ন সন্ত্রাসী এবং ক্রিমিনাল। গত ২০০৪ইং সালাউদ্দিন সংঘটিত করে আরো একটি লোমহর্ষক, হৃদয়বিদারক ও নাটকীয় হত্যাকান্ড। আপন ফুফাত ভাই মকছুদুল আলমকে খুন করার কারণে নিহত মকছুদুল আলমের অন্যান্য ভাইদের তথা পরিবারের সাথে সালাউদ্দিনের পরবারের যে বিরোধ শুরম্ন হয় তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিহত মকুছুদুল আলমের ভাইদের একটিচ হত্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে সালাউদ্দিনের দীর্ঘ পরিকল্পনার ফলস্বরূপ খুন করে পাশের গ্রামের সনত্দান সম্ভাবাব রাহেলা বেগমকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী থানায় একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়। উলেস্নখ্য, রাহেলা বেগমের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য এবং কন্যা সনত্দান জন্মদানের জন্য নির্যাতন করতো বলে রাহেলা বেগমের মা কুলসুম খাতুন থেকে জানা যায়। সালাউদ্দিন ও তার আপন ভাই জসিম উদ্দিন দুজনেই এই সুযোগটার সদ্ব্যবহার করে স্বামীকে সৌদি আরব নিয়ে যাবার লোভ দেখিয়ে নিজ স্ত্রীকে হত্যাপূর্বক সালাউদ্দিনের ফুফাত ভাইদের মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা কর। সে অনুযায়ী মিথ্যা অভিযোগপত্র থানায় দাখিল করে। কিন্তু রাহেলা বেগমের মা উক্ত অভিযোগ পত্রের বিরম্নদ্ধে মাননীয় আদালতে নারাজি দরখাসত্দ দাখিল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত অত্র মামলার বার্ধিত তদনত্দ সিআইডি বাংলাদেশ পুলিশের উপর ন্যাসত্দ করেন। যার কারণে উলেস্নখিত ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচন হয়। সালাউদ্দিনের নিরপরাধ ফুফাত ভাইয়েরা মুক্তি পায়। এই মামলায় সালাউদ্দিন ও তার ভাই জসিম উদ্দিন যথাক্রমে ৪ এবং ৫নং আসামি এটির অভিযোগ পত্র নম্বর ১০৩ তারিখ- ১২/০৬/২০০৪ ইং ধারা ১১ (ক) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩(১৮৬/০৪) এ ঘটনার পর সালাউদ্দিনের আপন ভাই জসিম উদ্দিনও সৌদি আরব পালিয়ে যায়। এছাড়া ০২/০৮/০৫ রম্নজুকৃত মামলা ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ দন্ড বিধির একটি মামলা সালাউদ্দিনকে আসামি করে রম্নজু হয়। এছাড়া আরো বহু মামলা সালাউদ্দিনের রয়েছে।
যেভাবে নিহত দিদারের সাথে সালাউদ্দিনের শত্রম্নতা শুরম্ন ঃ
সালাউদ্দিনের তার চিরশত্রম্ন ফুফাত ভাইদের কোনভাবেই শায়েসত্দা করতে না পেরে তার দলসহ নানা রকম হুমকি, ধমকি দিয়ে আসছিল। সালাউদ্দিনের ফুফাত ভাই নিহত মকছুদুল আলমের ভাই আবদুল মান্নানের সাথে দিদারের সু-সম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ৭১ সাল এর পর থেকে সালাউদ্দিনের পরিবারের সাথে দিদার পরিবারের শত্রম্নতাতো রয়েছেই সেই সাথে আবদুল মান্নানের সাথে দিদারের সু-সম্পর্ক ও নানা সহযোগিতা প্রদানের কারণে ক্রিমিনাল সালউদ্দিনের সমসত্দ চিনত্দা, চেতনা দিদারের উপর গিয়ে পড়ে। শুরম্ন হয় চক্রানত্দ। মহেশখালী থানায় কোন মামলঅ হলেই দিদারের নামটা আসামির তালিকাভুক্তির চেষ্টা চালায় সালাউদ্দিন। আপনারা জানেন দুর্নীতিগ্রস্থ এই দেশে অনেক কিছুই সম্ভব। সব পুলিশের কথা আমরা বলছিনা। কিন্তু কিছু কিছু পুলিশের বিমাতা সুলভ আচরণের কথা দেশবাসী মাত্রই অবগত আছেন। সালউদ্দিন সে রকম পুলিশদের সহায়তা নিয়ে দিদারকে কয়েকটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। স্বাভাবিকভাবে দিদারের সাথে সালাউদ্দিনের কোন্দল আরও তীব্র হয়। ইততিপূর্বে সালাউদ্দিনের হাত থেকে আবদুল মান্নানকে কেড়ে নেয়। এছাড়া নিহত দিদারের ছোটভাই মোঃ আলমগীর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সালাউদ্দিনের আপন মামা তালেব আলীর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা কারে ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবে জয়লাভ করে।
যেভাবে দিদার খুন হয় ঃ
মাননীয় সাংবাদিকবৃন্দ, সালাউদ্দিন দিদারের এই বিরোধ ক্রমে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে থাকে। সালাউদ্দিন ও তার দল এলাকায় জমি দখল, ডাকাতি, চুরিসহ নানা রকম অপকর্মে লিপ্ত ছিল। যার প্রত্যেকটা কাজে বাঁধা দিত সাহসী দিদার। ফলে নিহত দিাদরকে হাত, পা, কেটে নেবার হুমকিসহ হত্যার হুমকি দিত। সালাউদ্দিন স্বদলবলে সশস্ত্র মহড়া দিত পাড়ার অলিতে গলিতে। এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলার মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব আবু বকর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পর পর দুইবার সালাউদ্দিন দিদার উভয়ের মধ্যে মিটমাট করে দেয়। এমনকি উক্ত চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে দুজনেই পবিত্র কোরআন ধরে শপথ পূর্বক সমসত্দ বিরোধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রম্নতি দেয়। এ ছিল কু-বুদ্ধি সম্পন্ন সালাউদ্দিনের অভিনয়। মনে মনে দিদারকে হত্যার সিদ্ধানত্দে সে অটল ছিল। কারণ হত্যা ও রক্ততার নেশা, তার শখ। সালাউদ্দিন ইতিপূর্বে দুটি হত্যা মামলা ও নারী নির্যাতনসহ অনেক মামলায় জড়িয়ে পড়ায় দিদারকে সরাসরি খুন করলে আরো একটি হত্যা মামলার আসামি হবে এই ভয়ে র্যাব-৭ এর সহযোগিতায় খুনী সালাউদ্দিন নাটকীয় দিদার হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। ঠিক কিভাবে সালাউদ্দিন র্যাব-৭কে ম্যানেজ করেছেন সে বিষয়ে আমাদের এখনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে র্যাব- এর উধর্্বতন কতর্ৃপৰের অর্ডারে র্যাব-৭ এ হত্যাকান্ডে সহায়তা করেছে। খুনী সালাউদ্দিনের আপন জ্যাঠাত ভাই শিবিরের সাবেক ক্যাডার ও শিবিরের সাথী বর্তমানে সামরিক বাহিনীর ডাক্তার মেজর সরফরাজ হায়দার এর প্রত্যৰ সহযোগিতা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। কারণ সহজ, সরল, অন্যায়ের প্রতিবাদী ছেলেকে খুন করার ঘটনায় র্যাব-৭ কে জড়িত করা সালাউদ্দিনে পৰে আদৌ সম্ভব হবে না বলে আমাদের ধারণা। উলেস্নখ্য যে, দিদার নিহত হবার আগের দিন র্যাব সদস্যরা ডাক্তার মেজর সরফরাজ হায়দার এর বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। এছাড়া সালাউদ্দিনের বোন রাজিয়াতুল মোসত্দফা রম্নমার স্বামী সৈয়দ কামাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। উনিও একই গ্রামের ছেলে। এই হত্যাকান্ডে উনার কোন পত্যৰ বা পরোৰ সহযোগিতা আছে কিনা এটাও তদনত্দ করে দেখার বিষয়।
সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা,
র্যাব এর কাছে নিহত দিদারকে সন্ত্রাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আগে থেকেই দিদারকে মিথ্যা মামলার অনত্দভর্ুক্তির চেষ্টা চালিয়ে ছিল এবং অনেক সময় সফলও হয়েছিল। যা ইতিপূর্বে আমি উলেস্নখ করেছি। এরপর সালাউদ্দিনের নতুন খেলা শুরম্ন হয়। সালাউদ্দিনের ছোট বোন রাজিয়াতুল মোসত্দফা রম্নমা যার স্বামী সৈনিক সৈয়দ কামাল তারই ভাই আকতার কামাল বাদি হয়ে গত ১৭/০৮/২০১১ইং মহেশখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন যা উক্ত দিনে রম্নজু হয়। যে মামলার ১নং স্বাৰী খুনী সালাউদ্দিনের উলেস্নখিত বোন।
সাংবাদিক ভাইয়েরা,
নিহত দিদারকে তার বাড়িতে যাওয়া আসা করতে হলে সালাউদ্দিনের বাড়ির সামনের রাসত্দা দিয়ে যাতায়ত করতে হয়। গত ১৩/১২/২০১১ ইং তারিখ সময় সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৬টার সময় মটর সাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে সালাউদ্দিনের বাড়ি থেকে দিদারক হত্যার উদ্দেশ্যে পর পর তার বুকে গুলি করে। বিচৰণ দিাদর মটর গাড়িতে থাকা অবস্থায় আত্মরৰার জন্য তার শরীর হেলাইয়া নিলে উক্ত গুলি তার ডান পাশর্্ব দিয়ে পিছন দিকে চলে যায় এবং পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ বিষয়ে মহেশখালী থানায় দিদারের পিতা বাদি হয়ে গত ১৪/১২/২০১১ইং তারিখ একটি মামলা দায়ের করেন যা বর্তমানে তদনত্দাধীন রয়ছে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্যি একই দিনের একটা নাটকীয় ঘটনা বানিয়ে দিদার নিহত হবার ঠিক একদিন আগেই অর্থাৎ ০৭/০১/২০১২ইং রম্নজু হয়। লৰ করম্নন দুরদর্শী সাংবাদিকবৃন্দ, গত ১৩/১২/২০১১ইং তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ছটার দিকে দিদারকে লৰ করে গুলি ছোড়া হয় এবং মহেশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদনত্দ করে। অথচ ঐ একই দিনের নাটকীয় ডাকাতির কাহিনী বানিয়ে দিদারের মৃতু্যর আগের দিন মহেশখালী থানায় মামলা রম্নজু হয়। এতেই প্রমাণিত হয় সালাউদ্দিন ও তার পরিবার দিদার নিহত হবার ঘটনায় প্রত্যৰভাবে জড়িত। অর্থাৎ একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে নিহত দিদারের মামলা সংখ্যা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হয়।
সাংবাদিক ভাইয়েরা,
শোনাচ্ছি আরও রহস্যজনক ঘটনা, দিদার নিহত হবার দিন ০৮/০১/২০১২ইং তারিখ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম নানামুখী সংবাদ প্রচার করা হয়। ঐ দিন কক্সবাজার নিউজ ডট কম এর ০৮ জানুয়ারি একটি বিতর্কিত সংবাদ প্রচার করা হয়। যার আপডেট টাইম ২০১২-০১-০৮, ০২:৫৬:৪৪। ক্রসফায়ারে দিদার নিহত হবে এটি যেন র্যাব কর্মকর্তা নিশ্চিত জানতো। তাই ৮ জানুয়ারি রাত ২টায় ইন্টারনেটে এ সংবাদ প্রচার করা হয়। যার একটি কপি আপনাদের প্রত্যেকের বরাবরে সরবরাহ করা হয়েছে।
সাংবাদিক ভাইয়েরা
দিদার নিহত হবার সাথে সাথে এলাকার হাাজর হাজার জনগন, থানা ঘেরাও, মাননীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে মিছিল সহকারে গিয়ে স্বারকলিপি প্রদান করে। অবস্থা বেগতিক দেখে র্যাব ঘটনার মোড় ফিরিয়ে দেয়। ৯ জানুয়ারি বেশিরভাগ পত্রিকায় ডাকাতদের গুলাগুলিতে দিদার নিহত হয়েছে বলে প্রচার করেন। ৯ জানুয়ারি প্রচারিত সংবাদে দৈনিক প্রথম আলোকে র্যাব জানায়, ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে চট্টগ্রামস্থ র্যাব-৭ ল্যাফটেনেন্ট মোঃ জাকির হোসেন এ অভিযান পরিচালনা করেন। লৰ করম্নণ সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ মহেশখালীতে ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে। মহেশখালী থানার ওসি বা কক্সবাজার থানার ওসি অথবা জেলা পুলিশ সুপার কেউ খবর পাননি। চট্টগ্রামে বসে র্যাব-৭ খবর পেয়েছে মহেশখালীতে ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে। র্যাব চট্টগ্রাম থেকে মহেশখালী পৌছে ডাকাতদের সাথে গোলাগুলি করার সময় দিাদর নিহত হয় বলে র্যাব সাংবাদিকদের জানান। তাহলে চট্টগ্রাম থেকে র্যাব মহেশখালীতে পেঁৗছতে যে দীর্ঘ ৪/৫ ঘন্টা সময়ের দরকার এই দীর্ঘ সময় দিদার ও তার দল শুধু ডাকাতির প্রস্তুতিই গ্রহণ করে চলেছিল? প্রকৃতপৰে সালাউদ্দিন ও নেছারের গুলিতে দিদার নিহত হলেও র্যাব সালাউদ্দিন বাহিনী কতর্ৃক অন্যায়ভাবে প্রভাবিত হয়ে উক্ত ঘটার সহযোগিতায় তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় এজাহার দায়ের করা হয় ডাকাতের গুলিতে দিদার নিহত হয় বলে উলেস্নখ করেন। কিন্তু এজাহারে প্রকৃত খুনী সালাউদ্দিনের নাম অনত্দভর্ুক্ত করা হয়নি। এৰেত্রে র্যাব সালাউদ্দিন বাহিনীর ভাড়াটিয়া হিসেবে কাজ করে। দেখা যাচ্ছে র্যাবের উক্ত কার্যকলাপ ভাড়াটিয়া খুনীদেরম্ন কার্যকলাপের মধ্যে কোন বৈসাদৃশ্য নেই। র্যাব একটি সরকারি আইন শৃঙ্খলা রৰাকারী সংস্থা। তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে কতটুকু সংশিস্নষ্ট তা বিচার করার ভার আপনাদের উপর রইল। উপরোক্ত দিদারের হত্যা মামলা আছে বলেও ওসি রনজিত বড়ুয়া ও লেফটেনেন্ট জাকির হোসেন প্রচার মাধ্যমে প্রচার করলেও প্রকৃতপৰে দিদারের কোন হত্যা মামলা নেই। হয়তো র্যাব বুঝতে পেরেছিল নিরপরাধ একট ছেলেকে খুন করতে তারা সালাউদ্দিনকে সহায়তা করেছে। এতে তারা ফেঁসে যাবে এই কারণে ডাকাতির প্রস্তুতি নাটক সাজায় এবং হত্যা মামলার আসামি হিসেবে মিথ্যা ব্যাখ্যা দেয়।
সাংবাদিক ভাইয়েরা,
নিহত দিদারের কোন ব্যাংক একাউন্ট ছিলনা। পানের বরজ, কৃষিকাজ করে জীবন নির্বাহ করতেন তিনি। বর্তমানে পানের বরজের আয় রোজগার ভাল হওয়ায় দিদারের সংসারের অভাব অনটন দূর হয়ে যায়। ব্যাংক একাউন্ট না থাকায় দিদার তার সব সঞ্চয়ের টাকা বাড়ির আলমারিতেই রাখতো। খুনী সালাউদ্দিন ও তার গ্রম্নপ দিদারকে হত্যার পাশাপাশি তার ঘরও ডাকাতি করে। উলেস্নখ্য যে, দিদার যখন মৃতু্যর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল তখন খুনী সালাউদ্দিনের সহযোগী খুনী ফারম্নক রক্তাক্ত স্বামীর লাশের পাশে সত্দব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিহত দিদারের স্ত্রী পাকি বেগমকে ওষুধ খেয়ে মোটা হবার পরামর্শ দেয় এবং বিয়ের প্রসত্দাব দেয়। যা বিভৎস মানবাধিকার লংঘটনের শামিল।
আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারিনি চিৎকার- শিল্পীর এ গানে পিলখানা হত্যাকান্ডের সময় বেশি উপলব্ধি করতে পারিনি। নিজেদের একজনকে নির্মম ভাবে হারিয়ে তাই বলছি আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারিনি চিৎকার।
সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা,
সালাউদ্দিন ও নেছার এবং তার সহযোগীরা প্রত্যৰ হসনত্দৰেপ দিদারকে খুন করে দিদারকে সালাউদ্দিন ও নেছার দুইজনে দুইটা গুলি করতে মামলার স্বাৰীর দেখেছে। গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশের উপর দাঁড়িয়ে সবাই উলস্নাস করেছে। পরবর্তীতে দিাদরের মৃতু্য নিশ্চিত হবার পর র্যাব সেখানে উপস্থিত হয়ে মৃতু্যর লাশ পাশর্্ববর্তী খলিলের পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি ও গোলাগুলির নাটক সাজায় ও র্যাব বাদি হয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং এই দিদার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নাই এরকম কিছু লোকজনকে আসামি করেন।
সাংবাদিক ভাইয়েরা,
দিদার অনেক বড় সন্ত্রাসী হলে তার আপন ছোট ভাই কিভাবে জনগণের প্রত্যৰ নির্বাচিত হয়। অপরদিকে সালাউদ্দিনের যে মামলাগুলো রয়েছে তাতে দিদারগং এর কেউ বা তাদের রক্তের সম্পর্কে কেউ মামলার বাদি নন। পৰানত্দরে দিদারের যে মামরা রয়েছে তাতে সালাউদ্দিনের রক্তের সম্পর্কের কোন না কোন আত্মীয় মামলার বাদি হিসেবে রয়েছেন। অর্থাৎ সালাউদ্দিনের র্যাব এর ক্রসফায়ারের নামে দিদারকে হত্যা করার পূর্ব পরিকল্পনা করেছিল বলেই এই মিথ্যা মামলাগুলো সাজায়। এত প্রমাণিত হয় সালাউদ্দিন একজন প্রকৃত খুনী।
সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা,
সালাউদ্দিন ও তার সহযোগিরা নিহত দিদারের ছোট দুই ভাইকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এছাড়াও যেভাবে ফুফাত ভাইদের ফাঁসানোর জন্য একজন ৮ মাসের সনত্দান সম্ভবা মহিলা হত্যা করেছিল সে অনুযায়ী নতুন কোন পরিকল্পনা করছে কিনা সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট উৎকণ্ঠিত।
তাই আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধামন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার মহাপরিচালক, র্যাব মহাপরিচালক, কক্সবাজার জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক, মাননীয় পুলিশ সুপার, ডিজিএফআই, কক্সবাজারসহ সকলের বিনীত দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সুষ্ঠু তদনত্দের মাধ্যমে খুনী সালাউদ্দিনসহ তার সহযোগীদের উপযুক্ত শাসত্দি দাবি করছি। সালাউদ্দিনের তিন ভাই বর্তমনে সৌদি আরব পালিয়ে গেছে। বিশ্বস্থ সুত্রে শোনা যাচ্ছে খুনী সালাউদ্দিন ও নেছার সৌদি আরব পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিদেশ যাবার সমসত্দ পথ বন্ধ করে দেবার সংশিস্নষ্ট কতর্ৃপৰের বিনীত দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সাংবাদিক ভাইয়েরা,
সাংবাদিক জাতির বিবেক। জাতির ভয়ঙ্কর দুর্দিনে সাংবাদিকেরাই দেশকে শক্ত হাতে রৰা করেছে। তাই এই ভয়ঙ্কর দুর্দিনে আপনাদের দ্বারস্থ হয়েছি আমাদের মুখের কথা বিশ্বাস না করে দিদার হত্যা কান্ডের প্রকৃত ঘটনা তদনত্দ পূর্বক প্রকৃত সত্য আপনাদের পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরে আমাদের সহযোগিতা করম্নন।

Post a Comment

0 Comments