Advertisement

জনসচেতনতাই পারে থ্যালাসেমিয়া রোগ নিমর্ূল করতে ডা. হেইন মুলার

মোঃ কুতুব উদ্দিন
থ্যালাসেমিয়া সেবা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কতর্ৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেদারল্যান্ডের থ্যালাসেমিয়া রোগের সিনিয়র এক্সপার্ট ডা. হেইন মুলার (এমডি) বলেন, দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীর রেড লাইন হিসেবে কক্সবাজার জোন অত্যাধিক বিবেচিত। গতকাল সকাল ১০টায় শহরের সায়মন হোটেলের কনফারেন্স রম্নমে অনুষ্ঠিত হয়।

 থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত জিন ঘটিত রোগ। এটি পূর্ব পুরম্নষদের কাছ থেকে জিনের মাধ্যমে মাবনদেহে প্রবেশ করে। এটি রক্ত, বাতাস বা পানিরজলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়না। থ্যালাসেমিয়া শব্দটির সৃষ্টি গ্রীক শব্দ 'থ্যালাসা' থেকে যার অর্থ সমুদ্র। ১৯২৭ সনে বিজ্ঞানী টমাস কুলি ও চিকিৎসক ড. পাললি যৌথভাবে ইটালীর বংশদভুত লোকদের উপর রক্ত পরীৰা করেন। তাই এই রোগটির অন্য নাম 'কুলিন রক্তস্বল্পতা' বাংলাদেশ থ্যালাসিয়াম সেবা কেন্দ্র বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক আশীষ দে জানান, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া রোগের বিসত্দার ঘটছে খুবই দ্রম্নত। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় এর ভয়াবহতা প্রচন্ড রকমের। পরীৰা করে দেখা গেছে, এ অঞ্চলে ২০% থ্যালসেমিয়া রোগের বাহক।
থ্যালাসেমিয়া তাদেরই হয় যাদের মা-বাবা দুজনই এ রোগের বাহক। মা-বাবা উভয়ই অস্বাভাবিক জিনের বাহক হলেই তাদের সনত্দানের থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুবা নতুন করে কেউ আক্রানত্দ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তিনি আরো জানান, এই রোগে আক্রানত্দ যুবক-যুবতীদের বিয়ে সম্ভব নয়। এই রোগের চিকিৎসা অত্যাধিক ব্যয় বহুল। যা সাধারণ লোকের পৰে বহন করা সম্ভব হয়না। কিন্তু রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রত্যেক মাসেই নতুন করে রক্ত দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের লৰে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ফ্ল্যাট নেয়ার চিনত্দা করলে ডা. হেইন মুলার নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ লৰ টাকা দেবে বলে জানান। তিনি বিত্তবানদের এই রোগ নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনে আর্থিক সাহায্য পাঠানোর আবেদন জানান। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া যদি এই রোগের ভয়াবহতা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করে তাহলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

Post a Comment

0 Comments