Advertisement

কক্সবাজার শহরের ৮টি গ্রামের পানি চলাচলের একমাত্র খাল শৈবালের দখলে : মুক্ত করার দাবি


কক্সবাজার পর্যটন হোটেল শৈবালের ম্যানেজার নুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি হোটেল শৈবালে ম্যানেজার হিসাবে মাত্র কয়েক মাস হচ্ছে দায়িত্ব নিয়েছি। তাই এখনো অনেক বিষয় আমার জানা নেই। তবে বাঁধ নির্মাণ করায় কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাবার বিষয়টি দূঃখজনক। দ্রুত বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।
মহসীন শেখ: কক্সবাজার পৌর শহরের প্রায় ৮টি এলাকার পানি চলাচলে বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত একমাত্র খালটি দখল করে নিয়েছে
 পর্যটন হোটেল শৈবাল। শৈবাল কর্তৃক দেয়া ইজারা মৎস্য প্রজেক্টকে প্রস্তর করতেই বাঁধ নির্মাণ করে খালটি দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে শহরের বৃহত্তর বাহারছড়া, মোহাজের পাড়া, ঘোনার পাড়া, বৈদ্যর ঘোনা, বাদশাগ ঘোনা, ফাতের ঘোনাহোটেল-মোটেল জোন ও বইল্যা পাড়াসহ ৮টি এলাকার বর্ষায় বৃষ্টি এবং মুরাং পাহাড়ের ঢলের পানির পাশাপাশি বন্যার পানি চলাচলের একমাত্র উপায় হচ্ছে কক্সবাজার পর্যটন হোটেল শৈবালের দীঘির পূর্ব ও উত্তর পাশ দিয়ে ঘেষে আসা খালটি। খালটির সাথে সংযুক্ত রয়েছে বঙ্গোপসাগরের সাগরের। যার ফলে বর্ষায় ওই খালে জোয়ার-ভাটারও সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিভিন্ন ভাবে দখলে চলে যাওয়ায় বর্তমানে ওই খালটি একেবারেই সরু হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। এরই মাঝে বর্তমানে খালটি মৎস্য প্রজেক্ট হিসাবে ইজারা দেয়ায় লক্ষ্যে বাঁধ দিয়ে দখল করে প্রস্তর দখল করায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, হোটেল শৈবাল দীঘির পূর্ব-পশ্চিম পাড়ের সাথে লাগোয়া বিশাল একটি পুরোনো ওই খাল। বিশাল এই খাল থেকে যুগযুগ ধরে মাছ ধরে এবং ফসলের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো এলাকার বহু মানুষ। কয়েক বছর ধরে শৈবাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কৌশলে দখল করে নেয় খালটি। বর্তমানে ওই খালটি মৎস্য প্রজেক্ট হিসাবে বিনা টেন্ডারে তাদের মনোনিত ব্যক্তিদের ইজারা দিয়েছে। কিন্তু ইজারাদারদের সুবিধার্থে শৈবাল দীঘির উত্তর-পূর্ব পাশে(আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল লাগোয়া) বাঁধ নির্মাণ করে ২/৩ বছর ধরে খালের বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে পর্যটন হোটেল শৈবাল কর্তৃপক্ষ। ফলে খালটি একেবারেই সরু হয়ে নালায় পরিণত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় ওই ৮/১০টি এলাকা। এতে লাখ লাখ মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। এব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর গুলোতে বহুবার করার পরও কোন সুরাহা হয়নি বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ।
১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন বিষয়টি খুবই দূঃকজনক বলে দাবি করে বলেন, হোটেল শৈবাল একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্বেও ৮টি গ্রাম ও হোটেল মোটেল জোনের একমাত্র পানি চলাচলের খালটি নিজেদের স্বার্থের জন্য দখল করে নিয়েছে। তিনি অতি দ্রুত খালটি দখল মুক্ত করার দাবি জানান।
৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন কবির বলেন, শৈবাল কর্তৃক খালটি দখল করায় ২/৩ বছর ধরে শহরের বেশ ক’টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তিনি ওই খালের চারপাশে দখল মুক্ত করারও দাবি জানিয়েছেন।
বাহারছড়ার মুরব্বি কেরামত আলী অতি দ্রুত ওই বাঁধটি তুলে নিয়ে অতীতের ন্যায় পানি চলাচলের ব্যবস্থা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments