Advertisement

সিএফ'র নির্দেশ উপেক্ষিত: লামায় ২৬ হাতি দিয়ে কাঠ পাচার অব্যাহত

মোঃ নুরুল করিম আরমান, লামা:  
বান্দরবানের লামা উপজেলার পোপা, টংগাবতী ও লুলাইং মৌজার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল থেকে ২৬টি হাতি দিয়ে কাঠ পাচার অব্যাহত আছে। এ সংক্রান্ত সংবাদ বেশ কয়েকদিন ধরে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রশাসনের টনক নড়েনি। এ কারণে গত ৩ মাসে উল্লেখিত মৌজার বিস্তৃর্ন এলাকা থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ অবৈধভাবে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে পাচার হয়েছে। ফলে এলাকার পাহাড়গুলো এখন বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়। লামা বনবিভাগের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় এসব কাঠ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে কাঠ পাচার রোধে চট্টগ্রাম বন সার্কেলের বন সংরক্ষক (সি.এফ) লামা বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করলেও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্দেশ অমান্য করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা অবৈধ কাঠ পাচার রোধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনীর কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
২৯৭ নং পোপা মৌজা হেডম্যান মহরী ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উজেলার জনৈক হেলাল সওদাগর গত ৩ মাস ধরে লামা বনবিভাগের ল্যাংটাঝিরি এলাকায় ২৬টি পোষা হাতি দিয়ে বিস্তৃর্ন এলাকার শতবর্ষী কাঠ কেটে বিভিন্ন রোড় পয়েন্টে এনে জড়ো করে। সুযোগ বুঝে সেখান থেকে নিয়ে যাচ্ছে গজালিয়া ও সরই ইউনিয়নের পাহাড়ী পথ ও নদী পথ দিয়ে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে। আর এ কাজে ব্যাবহার হচ্ছে ১৫০-২০০ বহিরাগত সশস্ত্র শ্রমিক। তিনি অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, লামা বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ বন বিভাগের লোকজনকে বেশ কয়েক বার আবেদন করার পরও রহস্যজনক কারনে তারা হাতি দিয়ে কাঠ পাচার বন্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। অবৈধ কাঠ পাচার চক্রটি এ পর্যন্ত প্রাকৃতিক ও স্থানীয় পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের সৃজিত বাগান থেকে ভয় ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক ১০০ কোটি টাকার বেশি কাঠ কেটে নিয়ে গেছে। ফলে জোত-পারমিট ছাড়া অবাধে কাঠ পাচার হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা নিরুপায় হয়ে চট্টগ্রাম বন সার্কেলের বন সংরক্ষক (সি.এফ) এর বরাবরে আবেদন করি। আবেদনখানা লামা বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকতার্কে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিলেও বিভাগীয় বনকর্মকর্তা নির্দেশ অমান্য করে নীরব ভূমিকা পালন করেন। হেডম্যানপাড়া কারবারী বামন ত্রিপুরা জানিয়েছেন, গত ৩ মাসে এ হাতিগুলো পাড়াবাসীর জুমের ফসল, বাঁশ বাগান ও কলা বাগানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট করে ফেলেছে। এ ব্যাপারে তাদেরকে কিছু বললে তারা আমাদের লোক জনকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
জানাযায়, কাঠ পাচারকারী চক্রটি লামা বনবিভাগের টংকাবতী, লুলাইং ও লেমুপালং এর বিস্তৃর্ন বনভুমির লক্ষ লক্ষ সিএফটি বৃক্ষ নিধন করে হাতি দিয়ে পাচার করেছে। এ হাতি গুলো কাঠ পাচারের জন্য সিলেট থেকে ভাড়া এনেছেন চট্টগ্রামের লোহগাড়া উপজেলার জনৈক হেলাল। মোবাইল (০১৮৩১৭৩৬৩৩২) ফোন বন্ধ রাখায় হেলালের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে হেলালের ম্যানেজার বাবুল বড়–য়া জানান, আমরা প্রশাসন ম্যানেজ করেই এগুলো করছি। বৃক্ষ নিধন ও কাঠ পাচার অব্যাহত থাকায় বর্তমানে ওই অঞ্চল বিরান ভূমিতে পরিনত হয়েছে। ইতোপূর্বে লামা সাব জোনের কমান্ডার মেজর মাহমুদ এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮টি হাতি ও ২০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন জাতের কাঠ আটক করেন। সেই সময়ে হাতি দিয়ে কাঠ পাচার সাময়িক বন্ধ থাকলেও বর্তমানে বন বিভাগের এক শ্রেনীর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় আবারও কাঠ পাচার আবার শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন জানান, হাতি দিয়ে কাঠ পাচার বন্ধ করার জন্য উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করেন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সভায় অনুপস্থিত থাকায় এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, আমি চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক (সি.এফ) এর নির্দেশ মোতাবেক ঈদের আগে ল্যাংটাঝিরিতে বন বিভাগের লোক পাঠাই কিন্তু সেখানে হাতি দিয়ে কাঠ পাচারের মত কোন কিছুই পায়নি আমার লোক জন। চট্টগ্রাম বন সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মোঃ শফিউল আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঈদের আগে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে এগুলো বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। এগুলো এখনও বন্ধ না হওয়ার খবর শুনে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করে দ্রুত বন্ধ করার জন্য তিনি লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকতার্কে গতকাল পূনঃ নির্দেশ দেন।

Post a Comment

0 Comments