Advertisement

টেকনাফের হোয়াইক্যং এ নব বধু হত্যার অভিযোগঃ স্বামী আটক

মো: তাহের নঈম:
শশুর বাড়ির লোকজনের হাতে এক নব বধু নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাইগ্যাঘুনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তসলিমা আক্তারের পিতার মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ স্বামীকে আটক করলেও শশুর আলী আকবর সহ বাকি আসামী পলাতক রয়েছেন।

নিহত তসলিমা আক্তারের পিতা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা নয়াপাড়া গ্রামের জালাল আহমদ। ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতে ঘটনার বর্ণণা দিয়ে বলেন ‘২৬ ফেব্রুয়ারী ভোররাতে আমার মেয়ে তসলিমা আক্তারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমি সকাল ৭টার দিকে উখিয়া হাসপাতালে পৌঁছি। আমার মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। মেয়ের শরীরে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তার উখিয়া থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ উখিয়া থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার মর্গে নিয়ে যায়। পোস্টমর্টেম শেষে লাশ ২৬ ফেব্রুয়ারী রাতে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় (মামলা নং-৪৩/২৬-০২-২০১৮ইং) একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে ২৭ ফেব্রুয়ারী দুপুরে থানার এসআই মহির উদ্দিন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জাদিমোরা নয়াপাড়া নিহত তসলিমার পৈত্রিক বাড়ি থেকে স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক স্বামী বিভিন্ন ধরনের উলট-পাল্টা তথ্য দেওয়ায় সন্দেহ আরো বাড়ছে। তাছাড়া ৩ দিন আগে বিয়াই আলী আকবর বিভিন্ন হুমকি দিয়েছিল। আমি নিশ্চিত যে আমার মেয়েকে শশুর বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং খারাইগ্যাঘোনার আলী আকবরের পুত্র নুরুল বশর প্রকাশ ভাইয়া (২৫) এবং একই উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা নয়াপাড়া গ্রামের জালাল আহমদ মেয়ে তসলিমা আক্তার (১৫) পরস্পর দুর সম্পর্কের আত্বীয়। মাত্র আড়াই মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল। কিন্ত ছেলের মা-বাবা এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি স্বামীর পিতা ও আত্মীয় স্বজন। এনিয়ে প্রায় সময় ঝগড়া হত। তসলিমা আক্তার গতবারে জেএসসি পরিক্ষা দিয়েছে। কিন্ত আর ভর্তি হতে পারেনি। নিহত তসলিমার পিতা জানান,আমার মেয়ে কে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, আটক স্বামীকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই শ্বাশুড় আলী আকবরসহ পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments