Advertisement

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ৫২২ শিক্ষকের বদলির পক্ষে দুদক

ঢাকা মহানগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য ও নিয়োগ বাণিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের চেয়ে কোচিং সেন্টারে পাঠদানে বেশি মনোযোগী। বদলির নিয়ম-নীতি এড়িয়ে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমন ৫২২ শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এরপর টিমের সদস্যরা বিষয়টি অনুসন্ধানে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা দেখেন, অনেক শিক্ষক পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে প্রাইভেট পড়ানোর কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।
এতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকাধীন গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, শেরে বাংলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমন্ডি কামরুনন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ ২৪টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২২ জন শিক্ষক রয়েছেন যারা ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ বছর পর্যন্ত একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। এসকল শিক্ষকদের সরকারি নীতিমালা/নির্দেশিকা অনুসারে বদলি করা হয়নি বা হচ্ছে না।
শিক্ষা প্রশাসন তদন্ত টিমকে জানিয়েছে, সরকারি নীতিমালা মোতাবেক একই কর্মস্থলে তিন বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেই অন্যত্র বদলি করার নির্দেশনা রয়েছে। এই বদলি না করার মূলে রয়েছে চাপ প্রয়োগ, তদবির ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু সংখ্যক শিক্ষক কোচিং বা প্রাইভেট বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে বছরের পর বছর ঢাকার একই বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন। একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর থাকার ফলে এসকল শিক্ষক প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য গড়ে তুলেছেন। তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাইভেট কিংবা কোচিংয়ে পড়তে বাধ্য হয়।
এতে আরও বলা হয়, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইংরেজি শিক্ষক বা গণিত শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ইংরেজি বা গণিতের শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে যা সমন্বয় করা হচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে কোচিং বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট।
এজন্য প্রাইভেট বা কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার লক্ষ্যে বিশেষ টিমের প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- ১০ বৎসর বা এর অধিক সময় যেসব শিক্ষক একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন তাদেরকে বিভাগের বাইরে বদলি করা। পাঁচ বছরে অধিক কর্মরত শিক্ষকদেরকে ঢাকা মহানগর এলাকার বাইরে বদলি নিশ্চিত করা। এছাড়া তিন বছরের অধিক একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন এমন শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি নিশ্চিত করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সাতজন জেলা শিক্ষা অফিসারকে জেলার দায়িত্ব না দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বদলি করে জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ জাতীয় কর্মকর্তাদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়ন না করতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, প্রতিবেদনটি কমিশনের কর্মকর্তা পর্যায়ে জমা হয়েছে বলে শুনেছি। প্রতিবেদনটি এখনও কমিশন পর্যায়ে আসেনি। কমশনে উপস্থাপিত হলে কমিশন পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা নিয়ে কারও ছিনিমিনি খেলার অধিকার নেই। এক্ষেত্রে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকায় প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে সুরম্য ভবন রয়েছে। বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে যাচ্ছে। অন্য শিক্ষা উপকরণও রয়েছে। আমাদের মেধাবী শিক্ষকরা রয়েছেন। তারপরও কেন শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কোচিং সেন্টারে চলে যাচ্ছে? শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা শ্রেণিকক্ষেই নিশ্চিত করতে হবে।’

Post a Comment

0 Comments